kalerkantho


শিপার্সের নতুন ইতিহাস

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



শিপার্সের নতুন ইতিহাস

মেয়েদের স্প্রিন্টে আলো ছড়ালেও শাসন করতে পারেননি দাফিনে শিপার্স। ‘উড়ন্ত ডাচ কন্যা’ এবার গড়লেন নতুন ইতিহাস। ২০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতে বসলেন মারলন ওটি, অ্যালিসন ফেলিক্সদের মতো তারকাদের পাশে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ওটি, ফেলিক্সদেরই এত দিন ছিল ২০০ মিটারে একবারের বেশি সোনা জেতার কীর্তি। শিপার্সের হলো দুইবার। মেয়েদের লং জাম্পে নতুন উচ্চতায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিটনি রিসে। একমাত্র অ্যাথলেট হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে এ ইভেন্টে চারবার সোনা জিতলেন ৩০ বছর বয়সী এই তারকা। অ্যাথলেটিক্সে যুক্তরাষ্ট্রের জয়জয়কার হলেও স্টিপলেচেসের সোনা অধরা ছিল এত দিন। গত পরশু সেই আক্ষেপ মিটিয়েছেন এমা কোবুর্ন। ছেলেদের হ্যামারে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন পোল্যান্ডের তারকা পাওয়েল ফাসদেক। এর আগে এমন কীর্তি ছিল না কারো।

২০০ মিটারে গত অলিম্পিকে অন্যতম ফেভারিট ছিলেন ২০১৫ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতা শিপার্স। এ ইভেন্টের তৃতীয় দ্রুততম ২১.৬৩ সেকেন্ড সময়টা তাঁরই। কিন্তু জ্যামাইকার অ্যালাইন থমসনের পেছনে থেকে পেয়েছিলেন রুপা। এরপর কোচ বদলে নতুন করে শুরু ২৫ বছর বয়সী ডাচ কন্যার। লন্ডনে ১০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জেতার পর গত পরশু ২০০ মিটারে ধরে রাখলেন আগের আসরে জেতা সোনা। থমসন আর ১০০ মিটারে সোনাজয়ী বাউয়ি না থাকার সুবিধা নিয়ে দৌড় শেষ করেছিলেন ২২.০৫ সেকেন্ডে। সোনা ধরে রাখার উচ্ছ্বাসই ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘এ জন্যই লড়াই করেছি। কোচ বদলে শুরু করেছি নতুন করে। টানা দুইবার সোনা জেতা বিশেষ কিছু। এটা ভোলার নয়। দৌড়ের শুরুতে কিছুটা স্নায়ুর চাপে ছিলাম, অভিজ্ঞতা দিয়েই দূর করেছি সেটা। আমি সব সময় উপভোগ করি ট্র্যাকের লড়াই, তাই এবারের শিরোপা উত্সাহিত করবে আরো। ’ শিপার্সের গায়ে গায়ে থাকা মারিয়া জোসে তা লু রুপা পান ২২.০৮ সেকেন্ডে। বাহরাইনের শুনে মিলার উইবো ব্রোঞ্জ পান ২২.১৫ সেকেন্ডে।

ব্রিটনি রিসে লং জাম্পে প্রথম সোনা জিতেছিলেন ২০০৯ সালের বার্লিন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে। এরপর বদলেছে অনেক কিছু। উসাইন বোল্ট নামের ‘বজ্রবিদ্যুৎ’-এর ঝলকানিতে আলোকিত অ্যাথলেটিক্স। সেই বোল্ট গতকাল বিদায় নিলেও ব্রিটনি রিসে এখনো লং জাম্পের রানি। চতুর্থ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেন ৭.০২ মিটার লাফিয়ে। দুই সপ্তাহ আগে তাঁর দাদা মারা যাওয়ার শোক নিয়ে এসেছিলেন লন্ডনে। ঐতিহাসিক চতুর্থ সোনা উৎসর্গ করলেন দাদাকেই, ‘আমার জন্য আবেগের ছিল কয়েকটা দিন। আমি নিশ্চিত পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে দাদা আমার জন্য গলা ফাটিয়েছেন। এই সোনাটা তোমার জন্য বুড়ো দাদু। ’

ব্রিটনির মতো ছেলেদের হ্যামার থ্রোতে দাপট পোল্যান্ডের ২৮ বছর বয়সী তারকা পাওয়েল ফাসদেকের। ২০১৩, ২০১৫ সালের পর লন্ডনের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপেও টানা তৃতীয় সোনা জিতলেন তিনি। অথচ ২০১২ ও ২০১৬ অলিম্পিকে পৌঁছাতে পারেননি ফাইনালে! তাই ৭৯.৮১ মিটার পেরিয়ে হ্যাটট্রিক করা এ অ্যাথলেটের সন্তুষ্টি, ‘২০১২ সালে লন্ডনের ব্যর্থতা ভুলিনি। এ মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম আমি। সেই লন্ডনেই প্রমাণ করলাম নিজেকে। ’ এএফপি


মন্তব্য