kalerkantho


নতুন সংকটে প্রিমিয়ার লিগ

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



নতুন সংকটে প্রিমিয়ার লিগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সব সময় যেন বাংলাদেশের ফুটবলকে ঘিরে থাকে অনিশ্চয়তা। কয়েক দফা পেছানোর পর যখন প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ শুরু হতে যাবে, তখনই বেজে উঠেছে অশনিসংকেত।

লিগের স্বত্বাধিকারী সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস (এসজিএস) বিপাকে পড়েছেন ফুটবলের স্পন্সরশিপ নিয়ে। লিগ স্পন্সরে তারা সাড়া পাচ্ছেন না আগের মতো আর এই বাস্তবতার কথা তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে।

অবশেষে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে বলে ক্লাবগুলো এখন পুরোদমে প্র্যাকটিসে নেমে পড়েছে। কিন্তু বাফুফে সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের মুখে শোনা গেছে স্পন্সরশিপ জটিলতার কথা। লিগের স্বত্বাধিকারী সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের দেওয়া চিঠিকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন, ‘পাঁচ বছরের জন্য লিগের চুক্তি হয়েছিল সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের সঙ্গে। তারা গত বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়ে বলেছে, লিগ পিছিয়ে দেওয়ার কারণে স্পন্সরশিপ ফান্ড নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। স্বত্ব কিনে নেওয়ার পর তারা যে অন্যদের কাছে বিক্রি করে, সেটা ঠিকঠাক করতে পারছে না লিগ দেরি হওয়ার কারণে। বাণিজ্যিক কম্পানিগুলোর ফান্ড নাকি অন্যত্র চলে গেছে—এমন বলেছে তারা। চিঠিতে এই কথা বলে তারা মতামত চেয়েছে বাফুফের।

’ আসলে লিগ আরো আগে আয়োজন করার কথা ছিল। জুনের প্রথম সপ্তাহে ফেডারেশন কাপ শেষ করার পর ১২ তারিখ থেকে লিগ শুরুর কথা থাকলেও বাফুফে হুট করে ৪৫ দিন পিছিয়ে নিয়ে গেছে ২৮ জুলাই। এর পরই শুরু হয়েছে স্পন্সরশিপ জটিলতা।

সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন তরফদার স্বীকার করেছেন সমস্যার কথা, ‘প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু কমে গেছে, লিগ শুরুর সময় অনেক পিছিয়ে গেছে। কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ফুটবলে আসতে চায় না। আসল কথা হলো আমরা লিগের স্পন্সরশিপ বিক্রি করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছি। এই বাস্তবতাটাই আমরা ফেডারেশনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়ে একটা সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছি। ’ গত মৌসুম থেকে তারা সঙ্গী হয়েছে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের। ওই মৌসুমে তারা চার কোটি টাকা দিয়েছিল বাফুফেকে। অবশ্য জেবি গ্রুপের কাছে টাইটেল স্পন্সরশিপ বিক্রি করে পেয়েছিল বড় একটা অর্থ, এ ছাড়া ছিল বিভিন্ন কো-স্পন্সরও। এবার সেরকম কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে তারা সঙ্গী করতে পারছে না। না পারার কারণ হিসেবে লিগ কমিটির সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি, হঠাৎ করে লিগ পিছিয়ে দেওয়া এবং ভেন্যু কমিয়ে দেওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে স্পন্সরের মধ্যে। তা ছাড়া লিগ কবে থেকে শুরু হবে এবং পেছালেও তাই সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপ করেই করতে হবে, এমনটাই ছিল চুক্তিতে। বাফুফে এবং লিগ কমিটি সেই নিয়ম-কানুনগুলো না মানায় রুহুল আমিনও যেন বিরক্ত। অথচ ফুটবলের সঙ্গটা তিনি দারুণ উপভোগ করছিলেন। ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখে নিজেই গড়েছেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রিমিয়ার লিগের স্বত্ব কেনার চুক্তি করেছিলেন পাঁচ বছরের জন্য। তা ছাড়া চট্টগ্রাম আবাহনীর এই পরিচালকের সঙ্গে বাফুফের সম্পর্ক ছিল ভীষণ উষ্ণ। এমনকি গত বাফুফে নির্বাচনে তিনি কোনো প্রার্থী না হয়েও কাজী সালাউদ্দিন প্যানেলের প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকায় কাজ করেছিলেন। আর এই সংগঠকই এখন বলেছেন, ‘আমরা স্পন্সরশিপ বিক্রি করতে না পারলে চুক্তি প্রত্যাহার কিংবা বাতিলও করে দিতে পারি। দেখি আগে ফেডারেশন কী বলে। ’ মাত্র কয়েক বছরেই রুহুল আমিনের অরুচি ধরে গেল ফুটবলে!

তার আগেই বাফুফে অবশ্য উদ্যোগ নিয়েছে সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের সঙ্গে বসার। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেছেন, ‘চিঠির বিষয়টা আমি বাফুফে সভাপতি এবং লিগ কমিটির সভাপতিকে জানিয়েছি। লিগ কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী দেশের বাইরে আছেন। ১৮ জুলাই তিনি ফিরলে এবং দ্বিপক্ষীয় সভা হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। ’ তার আগে সোহাগ আজ সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের সঙ্গে সভায় বসবেন, ‘আমরাও বুঝি এবার ভেন্যু কমে যাওয়ায় টাকা কমে যাবে। গতবার চার কোটি টাকা দিয়েছে তারা। এবার সেটা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে, দুই কোটি টাকা হলেও আমাদের হয়ে যাবে। ’ কিন্তু রুহুল আমিনের যুক্তিতে দুই কোটি টাকার অঙ্কও মেলে না, ‘গতবার অনেক বেশি ভেন্যু ছিল, তাতে আমরা চার কোটি টাকা দিয়েছিলাম। ওই হিসাব করলে এবার এক কোটি টাকার মতো দাঁড়ায় স্পন্সরশিপ মানি। সমস্যা হলো সেটাও পাচ্ছি না। ’ গতবার খেলা হয়েছিল পাঁচ ভেন্যুতে, এবার সেটা নেমে এসেছে দুই ভেন্যুতে। বিভিন্ন ভেন্যুতে খেলা দিয়েছিল স্থানীয়ভাবে ফুটবল জাগানোর কথা বলে। এক বছর না ঘুরতেই আবার উল্টোরথে বাফুফে। তাই সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসও চাইছে স্পন্সরশিপমানি কমিয়ে আনতে।


মন্তব্য