kalerkantho


তাঁকেই চেয়েছিলেন মুগুরুজা

১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০




তাঁকেই চেয়েছিলেন মুগুরুজা

অতীত-বর্তমান মিলে গেল অদ্ভুতভাবে! ২৩ বছর আগে কনচিতা মার্তিনেস প্রথম স্প্যানিয়ার্ড নারী হিসেবে জেতেন উইম্বলডন। কীর্তিটা গড়েন ৩৭ বছরের মার্টিনা নাভ্রাতিলোভাকে হারিয়ে। গারবিনে মুগুরুজাও দ্বিতীয় স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে উইম্বলডন জিতলেন ৩৭ বছরের আরেক তারকা ভেনাস উইলিয়ামসকে হারিয়ে। গত ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে মুগুরুজা হারিয়েছিলেন সেরেনা উইলিয়ামসকেও। গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে দুই উইলিয়ামস বোনকে হারানো একমাত্র খেলোয়াড় এখন তিনি। নিজের এমন অর্জনে আবেগে ভাসছেন উইম্বলডনের রানি, ‘একসময় ভেনাসের খেলা টিভিতে দেখে অনুপ্রাণিত হতাম। সেই তাঁর সঙ্গে খেললাম ফাইনাল, অবিশ্বাস্য। গতবার উইম্বলডন ফাইনালে সেরেনার কাছে হারের পর ও বলেছিল, একদিন আমি এখানে জিতব। এই যে জিতে গেলাম!’

ফাইনাল শেষে লকার রুমে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেছিলেন মার্তিনেস ও মুগুরুজা। নিয়মিত কোচ না থাকায় মার্তিনেসের সাহায্য নিয়েছিলেন তিনি। সিদ্ধান্তটা যে ভুল ছিল না মনে করালেন আরো একবার, ‘এত বড় টুর্নামেন্টের চাপ কিভাবে সামলাতে হয়, শিখিয়েছেন মার্তিনেস।

তাঁর ছোঁয়ায় আরো সমৃদ্ধ হয়েছি আমি। ’

উইম্বলডনে ছেলে আর মেয়েদের এককের চ্যাম্পিয়নরা লন্ডনের ঐতিহাসিক গিল্ডহলে অংশ নেন ডিনারে। ঐতিহ্যবাহী সেই অনুষ্ঠানে নাচতেও দেখা গেছে তাঁদের। এবার রজার ফেদেরার চ্যাম্পিয়ন হলে তাঁর সঙ্গে নাচতে মুখিয়ে মুগুরুজা, ‘আমি সিলিচকে পছন্দ করি। কিন্তু যদি ফেদেরার চ্যাম্পিয়ন হন তাহলে তাঁর সঙ্গে জমিয়ে নাচব। দেখি তাঁর নাচের স্কিলটা কেমন!’

সেরেনা, ভেনাস, শারাপোভা বাদে এই সময়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে দুটি করে গ্র্যান্ড স্লাম মাত্র পাঁচজনের। মুগুরুজা নাম লেখালেন অ্যাঞ্জেলিক কেরবার, ভিক্তোরিয়া আজারেঙ্কা, সভেতলানা কুজনেতসোভা আর পেত্রা কেভিতোভার পাশে। উইম্বলডন জয়ে নতুনদের মধ্যে সেরা হওয়ার আত্মবিশ্বাস পেলেন ভালোভাবেই।

প্রতিপক্ষের ব্রেক পয়েন্টের সময় মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলায় ফিরে রেকর্ড গড়েছেন মুগুরুজা। এবারে উইম্বলডনে ৮৪ শতাংশ হারে ২৫ ব্রেক পয়েন্টের ২১টি বাঁচিয়েছেন তিনি। ফাইনালে একটা সময় পিছিয়ে পড়েছিলেন ৪-৫ গেমে। ৫-৫ সমতার সময়ও পিছিয়ে ১৫-৪০ পয়েন্টে। সেখান থেকে টানা ৯ গেম জিতে বাজিমাত মুগুরুজারই। এই জয়ে তিনি ১০ ধাপ এগোবেন র্যাংকিংয়ে। ১৫ নম্বর থেকে উঠে আসবেন পাঁচে। উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নের কি সেরা পাঁচে না থাকলে মানায়?

২৩ বছর বয়সী মুগুরুজার জন্ম ভেনিজুয়েলায়। তাঁর বাবা স্প্যানিয়ার্ড, মা ভেনিজুয়েলান। ছয় বছর বয়সে পুরো পরিবার চলে আসে বার্সেলোনায়। বার্সার সের্হি ব্রুগুয়েরা একাডেমিতে হাতেখড়ি টেনিসের। তিনি থাকেন অবশ্য সুইজারল্যান্ডে। স্পেন, ভেনিজুয়েলা, সুইজারল্যান্ড—তিন দেশ থেকেই প্রস্তাব পেয়েছিলেন খেলার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বেছে নেন বাবার দেশ স্পেনকে। তাই তাঁকে অভিনন্দনে ভাসিয়েছেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল, ‘দারুণ অর্জন। শুভেচ্ছা রইল মুগুরুজা। ’ এএফপি


মন্তব্য