kalerkantho


হার মেনে নিয়েছেন কোহলি

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



হার মেনে নিয়েছেন কোহলি

তাঁর বিধ্বস্তই থাকার কথা। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ১৮০ রানে হারের পরও বিরাট কোহলির মুখে হাসি! অপ্রিয় সব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সময় পুরো পেশাদার ভারতীয় অধিনায়ক।

দলের কাউকে দোষ না দিয়ে বরং অভিনন্দন জানালেন পাকিস্তানকে, ‘পাকিস্তানকে অভিনন্দন জানাচ্ছি, কারণ পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলেছে ওরা। পাকিস্তান আবার প্রমাণ করল নিজেদের দিনে হারাতে পারে যে কাউকে। আমাদের সব বিভাগেই হারিয়ে দিয়েছে ওরা। খেলায় এটা হয়েই থাকে। রোজ আপনি একইভাবে পারফর্ম করতে পারবেন না। ব্যর্থতা আসবেই, লজ্জার কিছু নেই। সেটা ভুলে পারফর্ম করতে হবে পরের ম্যাচের জন্য। ’

প্রথম ম্যাচে সরফরাজদের ভারত যেভাবে গুঁড়িয়ে দেয় তাতে তাদের মজা করা বলা হচ্ছিল ‘প্যানিকস্তান’। কিন্তু ফাইনালে কোথায় ভুলটা হলো আকাশে উড়তে থাকা ভারতের। সবার আগে আসতে পারে ভাগ্যের ব্যাপারটা। ৩ রানে থাকা ফখর জামান আউট হয়েও বেঁচে যান জাসপ্রিত বুমরার নো বলের সুবাদে। ক্লাইভ লয়েড পর্যন্ত এ নিয়ে বলেছেন, ‘ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট এই নো বল’। বিপরীতে মোহাম্মদ আমিরের বলে স্লিপে জীবন পাওয়ার পরের বলেই আউট ভারতের ত্রাতা বিরাট কোহলি। ফখরের মতো জীবনদান কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ফখরের সেঞ্চুরিতেই ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে ভারতকে চাপে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তান। তার পরও ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিকই বলছেন কোহলি, ‘আগে বোলিং নিয়ে কোনো ভুল ছিল না। আমরা হয়তো আরো একটু ভালো বোলিং করতে পারতাম, সেটা পারিনি। আমাদের চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছে পাকিস্তান। অনেক বেশি উদ্দীপ্ত ছিল ওরা, যা খেলায় ফুটে উঠেছে। আমরা সেটাই করতে পারিনি। ’

ভারতের হারের ময়নাতদন্তে উঠে আসছে একজন কম বোলার নিয়ে খেলার কথা। ব্যাটিং উইকেটে উমেশ যাদবের মতো পেসার বসিয়ে কেদার যাদবকে খেলানোটা মানতে পারছেন না অনেকে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর রবীন্দ্র জাদেজাও নেতিবাচক বোলিং করে গেছেন শুরু থেকে। পাকিস্তানের ওপেনাররা ১০০ রানের জুটি গড়লেও উইকেট নেওয়ার মতো বল না করে রান আটকানোর চেষ্টা করে গেছেন দুই স্পিনার। তবে দলের কম্বিনেশন নিয়ে আক্ষেপ নেই কোহলির, ‘স্পিনারদের মার খাওয়া নিয়ে অভিযোগ শুনব না। কারণ সাদা বলের ক্রিকেটে যেকোনো দিন মার খেতে পারে স্পিনাররা। ওদের লেগ স্পিনার শাদাব খানও মার খেয়েছে হার্দিকের কাছে। তাই স্পিনাররা মার খেয়েছে বলে হেরেছি ব্যাপারটা তা নয়। ’

বোলারদের বেদম পিটুনি খাওয়ার পাশাপাশি ২৫টি অতিরিক্ত রান পোড়াচ্ছে ভারতীয় সমর্থকদের। ওয়াইড ১৩, নো বল ৩ আর লেগবাই ছিল ৯টি। বোলারদের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেও ২৫টি অতিরিক্ত রান দেওয়া মানতে পারছেন না কোহলি, ‘আমরা জানি বড় ফাইনালে একটা ছোটও ভুল ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। ফাইনালে সেটাই হলো। এর সঙ্গে যোগ করুন এতগুলো নো আর ওয়াইড বল। এত বড় একটা মঞ্চে ২৫টি অতিরিক্ত রান সত্যিই বাড়াবাড়ি। ’

৭২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ভারত। শেষ ভরসা হয়ে লড়াই করছিলেন হার্দিক পাণ্ডে ও রবীন্দ্র জাদেজা। সপ্তম উইকেটে দুজন গড়েন ৮০ রানের জুটি। ৪৩ বলে ৪ বাউন্ডারি ৪ ছক্কায় হার্দিক করে ফেলেছিলেন ৭৬। ম্যাচে যখন সামান্য উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করেছে তখনই ভুলটা করে বসেন রবীন্দ্র জাদেজা। তাঁর ভুলেই রান আউট হয়ে যান হার্দিক। অথচ রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে চাইলেই রানটা নিতে পারতেন জাদেজা। রীতিমতো চিৎকার করে মাটিতে ব্যাট আছড়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন হার্দিক। তরুণ এই অলরাউন্ডারের আচরণকে অবশ্য সমর্থনই করলেন কোহলি, ‘হার্দিক যেভাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছিল তাতে ড্রেসিংরুমে বসে মনে হচ্ছিল ও হয়তো পরিস্থিতি বদলে দিতে পারবে। ও যেভাবে খেলার মধ্যে ডুবে গিয়েছিল তাতে এমন অবাঞ্ছিত ভুলের শিকার হয়ে আউট হওয়াটা ওর পক্ষে মানা কঠিন ছিল। এই হতাশাটা প্রত্যাশিত। আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতে ও ভারতের ম্যাচ উইনার হয়ে উঠবে। ’ চাপের মুখে ছয় শর মতো ম্যাচ খেলা দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি ও যুবরাজ সিং ব্যর্থ ছিলেন ফাইনালে। তাঁদের নিয়ে কিছু না বললেও ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দুই ‘বুড়ো ঘোড়া’ কোহলি টেনে নিয়ে যেতে চাইবেন কিনা সেটাই দেখার। আইসিসি


মন্তব্য