kalerkantho


জার্মানদের ঘাম ঝরানো জয়

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



জার্মানদের ঘাম ঝরানো জয়

ম্যাচের প্রথমার্ধে যেন ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪-০-তে হারা সেই জড়সড় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শেষটায় এই ছবি আর ছিল না। জার্মান গোলরক্ষকের দু-দুটি ভুলের সুযোগে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে তারা। তবে ইয়োখিম ল্যোভের স্বস্তি, শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি সকারুরা। ৩-২ গোলের জয়ে তাঁর তরুণ দলটাই কনফেডারেশনস কাপের প্রথম ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে বেরিয়েছে।

সোচিতে ম্যাচের ৫ মিনিটেই লারস স্তিন্দলের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানরা। ব্যবধান বাড়াতে পরের আধঘণ্টা প্রতিপক্ষের সীমানায় একের পর এক হানা দিয়ে গেছে তারা, গোলমুখ খুলে ফেলেছে বারবার। তাতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের অসহায়ত্বই শুধু ফুটে উঠেছে তখন। কিন্তু ৪১ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে যায় তারা। জার্মান গোলরক্ষক বার্নড লেনোর এক রকম হাতের তল দিয়ে বল জালে পাঠান টম রজিচ। জার্মানিও অবশ্য ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে সময় নেয়নি।

বক্সের ভেতর লিয়ন গোরেত্জকাকে ফেলে দেওয়া হলে পেনাল্টি পায় তারা, বিরতির আগেই ব্যবধান ২-১ করেন অধিনায়ক হুয়ান ড্রেক্সলার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোরেত্জকা করেন ৩-১। তাতে ম্যাচটা হাতের মুঠোতেই চলে এসেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু গোলরক্ষক লেনো সহজ একটা বল গ্রিপে নিতে ব্যর্থ হলে সেই ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন টমি জুরিচ। এর পর থেকে ম্যাচে সমানতালে লড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ানরা। জার্মানদের মতোই সুযোগ তৈরি করেছে তারা। যদিও আর গোল পায়নি কোনো দলই। তাতেই স্বস্তির ৩ পয়েন্ট ল্যোভের দলের। ‘বি’ গ্রুপে এখন চিলি ও জার্মানির সমান ৩ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে অবশ্য এগিয়ে আছে চিলি। অন্য গ্রুপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শীর্ষে রাশিয়া, মেক্সিকোর সঙ্গে পর্তুগালের হতাশার ড্র।

সেই ম্যাচে খুব একটা কিছু করেননি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তাঁর পাস থেকে দলের প্রথম গোল করেন রিকার্দো কুয়ারেসমা; আরেকবার ভলি প্রতিহত ক্রসবারে—ব্যস! তাতেই কিনা পর্তুগাল-মেক্সিকো লড়াইয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো! তাতে আবার সাংবাদিকরা ভীষণ খুশি ছিলেন। ম্যাচসেরা হিসেবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াটা নিয়মের মধ্যে পড়ে। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়তে চান বলে যে বোমা ফাটিয়েছেন, সে বিষয়ে তখন তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য জানা যাবে যে!

কিন্তু কৌশলে সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে যান রোনালদো। অজুহাত দিয়েছেন ওই সময় ‘চিকিত্সা নেওয়ার’। কী কারণে, কোন ইনজুরিতে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। বুঝতে তাই কারো বাকি থাকে না। পরে অবশ্য ফিফার ইউটিউব চ্যানেলে ছোট্ট এক সাক্ষাত্কার দিয়েছেন। অনুমিতভাবেই সেখানে ক্লাব ফুটবল নিয়ে কোনো কথা নেই। মেক্সিকোর সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র দিয়ে শুরু কনফেডারেশনস কাপ নিয়ে রোনালদোর হতাশা ফুটে উঠেছে সেখানে। পর্তুগাল অধিনায়ক অবশ্য এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু দেখছেন না। গ্রুপের বাকি দুই দল রাশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছেন বরং, ‘সেমিফাইনালে ওঠার আত্মবিশ্বাস রয়েছে আমাদের। দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে বলে আমাদের সে সুযোগ আছে ভালোমতোই। এখন শান্ত থেকে পরের ম্যাচের কথা ভাবতে হবে। কেননা তা জিতলে সেমিফাইনালের খুব কাছে পৌঁছে যাব। প্রথম ম্যাচ ড্র করায় তাই পাগলা ঘণ্টি বাজানোর কিছু নেই। ’

হতাশ পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসও। তবে ম্যাচের গতি-প্রকৃতি বিবেচনায় ড্রটা তাঁর কাছে যথার্থই মনে হচ্ছে, ‘আমরা এমন এক দলের বিপক্ষে খেলেছি, যাদের খুব ভালো কিছু টেকনিক্যাল খেলোয়াড় রয়েছে। শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারিনি। পরে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছি আর শেষ পর্যন্ত তো জিততেও পারতাম। তবে ফলটা ঠিকই আছে, কেননা মেক্সিকোও ভালো খেলেছে। ’ সেই ভালো খেলা দলটির কোচ হুয়ান কার্লোস ওসোরিওর উচ্ছ্বাসের কারণ রয়েছে অনেক, ‘ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে সমানতালে লড়েছি। তৈরি করেছি বেশ কিছু সুযোগ, যদিও সব কাজে লাগাতে পারিনি। এ ছাড়া ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকেও খুব বেশি কিছু করার সুযোগ দিইনি। সব মিলিয়ে বলব, মেক্সিকোর জন্য এই ড্র দারুণ ফল। ’

পরশু ‘বি’ গ্রুপের প্রথম খেলায় চিলি ২-০ গোলে হারায় ক্যামেরুনকে। সেখানে আবার ভিএআর নিয়ে হয়েছে বড়সড় শোরগোল।

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে এদুয়ার্দো ভার্গাস জালে বল পাঠিয়ে মেতে ওঠেন গোলের উল্লাসে। কিন্তু ভিএআরে সিদ্ধান্ত আসে অফসাইডের; তাও এক মিনিটের বেশি সময় পর। ফুটবল খেলার গতি প্রযুক্তির এমন ব্যবহারে কমে যাবে কি না, তা নিয়ে বিতর্কের নতুন সুযোগ তৈরি হয়। ওই গোল বাতিলে পয়েন্ট খোয়ানোর পথে ছিল চিলি। ৮২তম মিনিটে আর্তুরো ভিদালের গোলে স্বস্তির শ্বাস ফেলার সুযোগ আসে। আর একেবারে শেষ মুহূর্তে লাইনসম্যানের অফসাইডের পতাকা ওঠা সত্ত্বেও ঠিকই চিলির দ্বিতীয় গোল বৈধ বলে ঘোষিত হয় ভিএআরের মাধ্যমে। গোলদাতা? সেই এদুয়ার্দো ভার্গাস! ফিফা, এএফপি


মন্তব্য