kalerkantho


মিডিয়াকে এড়িয়ে গেলেন রোনালদো

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



মিডিয়াকে এড়িয়ে গেলেন রোনালদো

পুরো ম্যাচে খুব একটা কিছু করেননি। তাঁর পাস থেকে দলের প্রথম গোল করেন রিকার্দো কুয়ারেসমা; আরেকবার ভলি প্রতিহত ক্রসবারে—ব্যস! তাতেই কিনা পর্তুগাল-মেক্সিকো লড়াইয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো! তাতে আবার সাংবাদিকরা ভীষণ খুশি। ম্যাচসেরা হিসেবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াটা নিয়মের মধ্যে পড়ে। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়তে চান বলে যে বোমা ফাটিয়েছেন, সে বিষয়ে তখন তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য জানা যাবে যে!

কিন্তু কৌশলে সংবাদ সম্মেলনটি এড়িয়ে গেলেন রোনালদো। অজুহাত দিয়েছেন ওই সময় ‘চিকিৎসা নেওয়ার’। কী কারণে, কোন ইনজুরিতে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। বুঝতে তাই কারো বাকি থাকে না। পরে অবশ্য ফিফার ইউটিউব চ্যানেলে ছোট্ট এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। অনুমিতভাবেই সেখানে ক্লাব ফুটবল নিয়ে কোনো কথা নেই। মেক্সিকোর সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র দিয়ে শুরু কনফেডারেশনস কাপ নিয়ে রোনালদোর হতাশা ফুটে উঠেছে সেখানে।

হতাশ হবেন না কেন? জয়ের পথেই তো ছিল তাঁর দল।

৩৫ মিনিটে রোনালদোর দারুণ পাস থেকে করা কুয়ারেসমার গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। বিরতির আগেই হাভিয়ের এর্নান্দেস সমতায় ফেরান মেক্সিকোকে। আর ৮৬তম মিনিটে সেদরিক সোয়ারেস যখন তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন, ইউরো চ্যাম্পিয়নদের জয় মনে হচ্ছিল অবধারিত। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে এক্তোর মোরেনোর লক্ষ্যভেদে ড্রতেই শেষ হয় ম্যাচ। ‘এমন ফল আমরা চাইনি। প্রায় জিতেই তো গিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ সময়ে খেলাম গোল। এটাই ফুটবল’—বলেছেন রোনালদো। পর্তুগাল অধিনায়ক অবশ্য এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু দেখছেন না। গ্রুপের বাকি দুই দল রাশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছেন বরং, ‘সেমিফাইনালে ওঠার আত্মবিশ্বাস রয়েছে আমাদের। দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে বলে আমাদের সে সুযোগ আছে ভালোমতোই। এখন শান্ত থেকে পরের ম্যাচের কথা ভাবতে হবে। কেননা তা জিতলে সেমিফাইনালের খুব কাছে পৌঁছে যাব। প্রথম ম্যাচ ড্র করায় তাই পাগলাঘণ্টি বাজানোর কিছু নেই। ’হতাশ পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসও। তবে ম্যাচের গতি-প্রকৃতি বিবেচনায় ড্রটা তাঁর কাছে যথার্থই মনে হচ্ছে, ‘আমরা এমন এক দলের বিপক্ষে খেলেছি, যাদের খুব ভালো কিছু টেকনিক্যাল খেলোয়াড় রয়েছে। শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারিনি। পরে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছি আর শেষ পর্যন্ত তো জিততেও পারতাম। তবে ফলটা ঠিকই আছে, কেননা মেক্সিকোও ভালো খেলেছে। ’ সেই ভালো খেলা দলটির কোচ হুয়ান কার্লোস ওসোরিওর উচ্ছ্বাসের কারণ রয়েছে অনেক, ‘ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে সমানতালে লড়েছি। তৈরি করেছি বেশ কিছু সুযোগ, যদিও সব কাজে লাগাতে পারিনি। এ ছাড়া ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকেও খুব বেশি কিছু করার সুযোগ দিইনি। সব মিলিয়ে বলব, মেক্সিকোর জন্য এই ড্র দারুণ ফল। ’

গোলের বাইরে পরশুর ম্যাচের আরেক আলোচিত ঘটনা ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহার। যা অনেকটা ক্রিকেটের থার্ড আম্পায়ারের মতো। পরশুর এই ম্যাচে যেমন ২২তম মিনিটে পেপে বল জালে জড়িয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু রিপ্লে দেখে সেটিকে অফসাইডের রায় দেয় ভিএআর। বাতিল হয়ে যায় গোল। ৮৬তম মিনিটে পর্তুগালকে এগিয়ে নেওয়া সোয়ারেসের গোলটির বেলাতেও মাঠের রেফারি নেস্তর পিতানা সাহায্য নেন প্রযুক্তির। এবার অবশ্য গোলটি আইনসংগত বলেই প্রমাণিত। বড় আসরে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তির ব্যবহারে খানিকটা বিভ্রান্ত লেগেছে দর্শক এবং দুই দলের খেলোয়াড়দেরও। ম্যাচশেষে এ নিয়ে তাই পর্তুগালের কোচ সান্তোসের মন্তব্য, ‘প্রযুক্তির এমন ব্যবহারে ফুটবলের ভালো হলে ভালো। তবে এখন পর্যন্ত তা যে খুব ভালোভাবে কাজ করবে, অমনটা বোঝা যাচ্ছে না। ’

‘এ’ গ্রুপে তাই ৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে রইল রাশিয়া। সমান ১ পয়েন্ট পর্তুগাল ও মেক্সিকোর। আর নিউজিল্যান্ড এখনো খুলতে পারেনি পয়েন্টের খাতা। কাল স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে রোনালদোর দল। এদিকে ‘বি’ গ্রুপের প্রথম খেলায় পরশু চিলি ২-০ গোলে হারায় ক্যামেরুনকে। আর সেখানে ভিএআর নিয়ে হয়েছে বড়সড় শোরগোল।

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে এদুয়ার্দো ভার্গাস জালে বল পাঠিয়ে মেতে ওঠেন গোলের উল্লাসে। কিন্তু ভিএআরে সিদ্ধান্ত আসে অফসাইডের; তা-ও এক মিনিটের বেশি সময় পর। ফুটবল খেলার গতি প্রযুক্তির এমন ব্যবহারে কমে যাবে কি না, তা নিয়ে বিতর্কের নতুন সুযোগ তৈরি হয়। ওই গোল বাতিলে পয়েন্ট খোয়ানোর পথে ছিল চিলি। ৮২তম মিনিটে আর্তুরো ভিদালের গোলে স্বস্তির শ্বাস ফেলার সুযোগ আসে। আর একেবারে শেষ মুহূর্তে লাইন্সম্যানের অফসাইডের পতাকা ওঠা সত্ত্বেও ঠিকই চিলির দ্বিতীয় গোল বৈধ বলে ঘোষিত হয় ভিএআরের মাধ্যমে। গোলদাতা? সেই এদুয়ার্দো ভার্গাস! ফিফা, এএফপি


মন্তব্য