kalerkantho


পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরানোর দাবি সরফরাজের

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরানোর দাবি সরফরাজের

ওভালের গ্যালারিজুড়ে গর্জন ‘দিল দিল পাকিস্তান’! পাকিস্তানের জাতীয় পতাকায় পুরো ওভাল তখন সবুজ। খেলার মাঠে হিংসাত্মক পোস্টার বারণ থাকলেও জ্বলজ্বল করছিল, ‘ফখর জামান আর হাসান আলী, আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র সফলভাবে টেস্টিং হলো লন্ডনে’! ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ার দিনে এদিকে নজর নেই কারো।

তবে ১৮০ রানে জিতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হাতে তুলে ধরার পর সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজ আহমেদ যা করলেন, তা গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই।

সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে একটি বিবৃতি পাঠ করে শিরোপাটা উৎসর্গ করলেন দেশকে। সেই সঙ্গে দাবি জানালেন পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর, ‘সৃষ্টিকর্তার প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা। আশা করি, আজকের পর কেউ বলবে না আমরা ভারতকে হারাতে পারি না। এই জয়টা আমার ও দলের কাছে সেরা অর্জন। ফাইনালে আমরা ভারতের মতো দলকে যেভাবে হারিয়েছি, তা মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। আমি আশা করব, এরপর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক দলগুলো খেলতে আসবে। এই জয় গোটা পাকিস্তানের জয়, শিরোপা উৎসর্গ করছি দেশকে। ’

লঙ্কান দলের ওপর হামলার পর থেকে ‘যাযাবর’ হয়ে পাকিস্তান ঘরের মাঠের ম্যাচগুলো খেলছে আরব আমিরাতে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো মর্যাদার শিরোপা জিতে এ জন্যই দেশে ক্রিকেট ফেরানোর দাবি সরফরাজের। এজবাস্টনে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছিল পাকিস্তান। ইমরান খান, রমিজ রাজার মতো কিংবদন্তিরা পাকিস্তানের ক্রিকেটের শেষ দেখে ফেলেছিলেন একপ্রকার। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জেতার রহস্য কী? সরফরাজ উত্তরটা দিলেন তাঁর মতো করে, ‘সবার কঠোর পরিশ্রমে সম্ভব হয়েছে এটা। যেভাবে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতের বিপক্ষে জিতেছি, এটা সবার কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব হতো না। ’

ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পরও নাকি হতাশায় ভেঙে পড়েননি সরফরাজ। বরং উজ্জীবিত করেছেন তরুণ সতীর্থদের। সেই সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানালেন এই তরুণদের ওপর ভরসা রাখায়, ‘ভারতের কাছে হারার পর সবাইকে বলেছিলাম, টুর্নামেন্ট এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সতীর্থরাও সেটা বিশ্বাস করে নিজেদের উজাড় করে খেলেছে। কৃতিত্বটা আমার দলের ব্যাটসম্যান, বোলার এমনকি টিম ম্যানেজমেন্টেরও। পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য এটা গর্বের মুহূর্ত। পাকিস্তানের সব সমর্থককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমি। ’

ওভালের ব্যাটিং উদ্যানে ফখর জামানের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়েছিল পাকিস্তান। শুরুতে বুমরাহর নো বলের সুবাদে ফখর জীবন না পেলে অন্য রকম হতে পারত ম্যাচের গল্পটা। ১০৬ বলে ১১৪ করে ফখর আউট হওয়ার পর মোহাম্মদ হাফিজের ফিফটি আর বাবর আজমের ৪৬-এ রানের চাকাটা সচলই ছিল। জবাবে বিষাক্ত সুইংয়ে ভারতের টপ অর্ডার গুটিয়ে দেন মোহাম্মদ আমির। চোটের জন্য সেমিফাইনাল না খেলা আমিরের প্রথম স্পেলের ৩ উইকেটই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। এরপর ধারাবাহিকতার প্রতিমূর্তি হাসান আলীও নেন ৩ উইকেট। তবে সরফরাজের বাজি ছিলেন আমিরই, ‘আমরা খেয়াল করে দেখেছিলাম ভারতের টপ অর্ডারই জিতিয়েছে সব ম্যাচ। তাই যেকোনোভাবে শুরুতে টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিতে পারলে ওদের মিডল অর্ডার যে কিছু করতে পারবে না জানতাম সবাই। আমিরই করতে পারত সেটা। প্রথম দুই ম্যাচে উইকেট না পেলেও দারুণ বল করেছিল আমির। তাঁর একটা জাদুকরী স্পেলের প্রত্যাশায় ছিলাম আমরা, সেটা শুরুতেই করায় কাজটা সহজ হয়ে গেছে। টস জিতে বোলিং নিতে চেয়েছিলাম আমি। তবে টস হারলেও সবাই নিজেদের নিংড়ে বড় স্কোর গড়ায় আত্মবিশ্বাস ছিল আমাদের। ’

হাসান আলী, ফখর জামান, শাদাব খানের মতো তরুণরা জীবনের প্রথম চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলেছেন অভিজ্ঞদের মতো। দুটি ফিফটির পাশাপাশি ফখর ম্যাচসেরা হয়েছেন ফাইনালে জীবনের সেরা ইনিংস খেলে। এই তরুণদের হাতেই পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ দেখছেন সরফরাজ, ‘বড় তারকাদের বলতে হয় না কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে খেলতে হয়। কিন্তু জীবনের প্রথম চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আমাদের তরুণরা যেভাবে খেলেছে, সেটা ভাবেনি কেউ। অনেকে এ-ও ভাবেনি যে আমরা ভারতকে হারাতে পারব। এই তরুণরা নিজেদের ছন্দে খেলতে পারলে শুধু ভারত নয়, যেকোনো দলকে হারাতে পারি আমরা। এই বিশ্বাস নিয়ে ফিরছি দেশে। ’ আইসিসি

 


মন্তব্য