kalerkantho


‘বসুন্ধরা ডার্বি’র ভাগ্য শেখ জামালের পক্ষে

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



‘বসুন্ধরা ডার্বি’র ভাগ্য শেখ জামালের পক্ষে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ম্যাচটি ৯০ মিনিটে শেষ হলেই বোধহয় মাঠের খেলার সঠিক প্রতিফলন হতো স্কোরলাইনে। গোলশূন্য স্কোরলাইনের মতো মাঠের খেলায়ও ছিল সমতা।

শেখ রাসেল ও শেখ জামাল লড়েছে সমানতালে। কিন্তু একটি দলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে বলে আয়োজন হয় টাইব্রেকারের। আর এই ভাগ্য পরীক্ষায় গোলরক্ষক সামিউল ইসলাম দু-দুটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে শেখ জামাল ধানমণ্ডিকে বসিয়ে দিয়েছে বিজয়ীর আসনে। তারা ৪-১ গোলে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষাসন নিশ্চিত করেছে। সুবাদে ২৪ তারিখ কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ জামাল মুখোমুখি হবে ‘সি’ গ্রুপের রানার্স-আপ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। পরের দিনের কোয়ার্টার ফাইনালে ‘বি’ গ্রুপের রানার্স-আপ শেখ রাসেল লড়বে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে।

নির্ধারিত সময় হওয়ার পর রেফারি মিজানুর রহমানের ভূমিকা দেখে ধোঁকা খেয়েছিল সবাই। রেফারি ও দুই ফুটবলার লাইনে দাঁড়িয়ে হাত মেলাচ্ছেন। এটা সাধারণত ম্যাচ শেষের ছবি।

অর্থাৎ রেফারি নিজেও জানেন না টুর্নামেন্টের বাইলজ—দুই দলের পয়েন্ট এবং গোলপার্থক্য এক হয়ে গেলে ম্যাচ গড়াবে টাইব্রেকারে। মাঠে দৌড়ে গিয়ে চতুর্থ রেফারি বাইলজের নিয়মটা জানানোর পর আবার মিজানুর খেলোয়াড়দের টাইব্রেকারের প্রস্তুতি নিতে বলেন। এরপর দুই দল ভাগ্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে শেখ জামালের গোলরক্ষক সামিউল ইসলামের দুর্দান্ত সেভের কাছে হেরে গেছে শেখ রাসেল। তিনি শুরুতেই এলিটা বেঞ্জামিনের শট ঠেকিয়ে দিয়েছে, এরপর খালেকুজ্জামানও হার মেনেছেন এই গোলরক্ষকের কাছে। তাদের একমাত্র গোলদাতা অরূপ বৈদ্য। শেখ জামালের রাফায়েল আলাউদ্দিন, জাহেদ পারভেজ ও মোমোদু বাহ গোল করেছেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের লড়াইয়ে সব দিক থেকেই ছিল সমতা। প্রথমার্ধ খেলেছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র আর দ্বিতীয়ার্ধে শেখ জামালের তোপ ছিল বেশি। শুরু থেকে রাসেল নিয়ন্ত্রণ করেছে, বিশেষ করে দাউদা সিসে ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন বাঁদিক দিয়ে। এই গাম্বিয়ান কয়েকটি আক্রমণের উ ৎস হলেও পোস্টের সামনে ছিল না গোল করার কথা মতো কুশলী স্ট্রাইকার। ৩৫ মিনিটে দাউদার সিসের বাঁ পায়ের জোরালো শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন গোলরক্ষক সামিউল। ৫১ মিনিটেও এরকম অরূপ বৈদ্যের দারুণ এক শট রুখে দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য শেখ জামালের নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশি। বাঁদিক দিয়ে গাম্বিয়ান মোমোদু বাহ দুর্দান্ত খেলেছেন। শেখ রাসেলের রাইটব্যাক অরূপ বারবার পরাস্ত হয়েছেন তাঁকে ধরে রাখতে। ৫৬ মিনিটে দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে চমৎকার এক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তরুণ ফরোয়ার্ড সোহেল মিয়া বল পাঠাতে পারেননি ‘ওপেন নেটে’। ৭৬ মিনিটে মোমোদু নিজে বক্সে ঢুকেও বল পোস্টে রাখতে পারেননি। ৭৮ মিনিটে গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার সোলোমনের বদলি হয়ে নাইজেরিয়ান রাফায়েল নেমে ডানদিক থেকে একদম মাপা ক্রস ফেলেছিলেন, কিন্তু মোমোদুর হেড রাসেলের ডিফেন্ডার রাশেদুল মনি ব্লক করে নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়েছেন।

শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রও সেরকম এক সুযোগ পেয়েছিল। ৭২ মিনিটে খালেকুজ্জামানের ক্রসে দাউদা সিসের দুর্দান্ত এক ভলি ফজলে রাব্বির গায়ে লেগে যায়। গায়ে না লাগলে এই গাম্বিয়ানের ভলিটি নিশ্চিতভাবে শেখ জামালের পোস্টে যায়। এর পরও তেমন আক্ষেপ নেই রাসেল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের কাছে, ‘জামাল শেষের দিকে বাঁদিক দিয়ে কিছু আক্রমণ করেছে। ওই সময়টায় আমাদের একটু সমস্যা হয়েছে, এ ছাড়া বাকি সময় তো আমরা ভালো খেলেছি। ’ তারপর কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম আবাহনীকে নিয়ে একটুও দুশ্চিন্তা করছেন না, ‘ঢাকা মাঠে মোহামেডানই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তা ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন-আপ নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম না। আমি রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়দের খেলাতাম, বসুন্ধরা ডার্বি বলে মর্যাদার কারণে সেরা একাদশ নামিয়েছিলাম। ’ এই বসুন্ধরা ডার্বি জিতে শেখ জামাল ধানমণ্ডি কোচ যোশেফ আফুসি দারুণ খুশি, ‘মোহামেডানের সঙ্গে খেলতে হবে আমাদের। ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে আমরা ফাইনালে পৌঁছাতে চাই। ’ আপাতত বসুন্ধরা ডার্বি জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা ছুটছে সামনের দিকে।


মন্তব্য