kalerkantho


আরেকটি ‘তেনেরিফাজো’ চায় না রিয়াল

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



আরেকটি ‘তেনেরিফাজো’ চায় না রিয়াল

স্প্যানিশ লা লিগার ৮৫টি আসরে মোট ৩৫ বার শিরোপা নির্ধারণ হয়েছে শেষ দিনে। তার মধ্যে ছয়বার মাত্র পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল শিরোপা পায়নি।

রিয়ালকেই এই দুর্ভাগ্য মেনে নিতে হয়েছে এর তিনবার। ১৯৯১-৯২ ও ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে তো টানা দুইবার তারা শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার আগুনে পুড়েছে। সেই দুইবারই চ্যাম্পিয়ন দলের নাম বার্সেলোনা। এবারও যেমন তারা ওত পেতে আছে লস ব্ল্যাংকোসরা হারলেই সুযোগটা লুফে নেওয়ার। কাল মালাগার মাঠে খেলতে নামার আগে তাই ‘তেনেরিফাজো’র স্মৃতি তাড়া না করে পারে না রিয়ালকে। ৯২, ৯৩—এ দুবারই যে এখন দ্বিতীয় বিভাগে খেলা তেনেরিফের মাঠে গিয়ে তারা হেরে গিয়েছিল। প্রথমবার ৩-২ এ, পরেরবার ২-০। এবারও অ্যাওয়ে ম্যাচ। ইতিহাস খুঁজলে রিয়াল সমর্থকদের ঘেমে ওঠার কাকতালীয় তথ্য মিলবে আরো। সে সময় টেনেরিফের কোচ ছিলেন আর্জেন্টাইন হোর্হে ভালদানো, যিনি কিনা রিয়ালের সাবেক খেলোয়াড়। এই মুহূর্তে মালাগাকে কোচিং দিচ্ছেন যিনি সেই মিশেলেরও পুরনো ক্লাবের নাম রিয়াল। ‘তেনেরিফাজো’রও অন্যতম ভুক্তভোগী তিনি। ভাগ্যের চক্রে এবার তিনিই হতে চাচ্ছেন রিয়াল ঘাতক।

অনেক গুঞ্জন উড়ে বেড়াচ্ছে, মালাগার যেহেতু পাওয়ার কিছু নেই ‘মালেতিন’ বা ব্রিফকেস প্রসঙ্গ এসে পড়ছে তাতে। পেশাদারি বিসর্জন দিয়ে পুরনো ক্লাবকে মিশেল ছাড় দেবেন কি না, হাওয়ায় এমন কথাও ভাসছে। ৫৪ বছর বয়সী কোচ অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মালাগা খেলবে নিজেদের জন্যই। ’ স্ট্রাইকার সান্দ্রো র‌্যামিরেজ আবার সরাসরিই বলেছেন, ‘আমি বার্সেলোনাকে জেতাতে চাই। রিয়ালের বিপক্ষে গোল করে যদি তা করতে পারি, সেটা হবে স্বপ্নের মতো। ’ স্যান্দ্রোর এই স্বীকারোক্তিতে দোষের কিছু নেই, এখানে তাঁর সাবেক ক্লাবের প্রতি আবেগ ও পেশাদারি দুটিই মিলে যাচ্ছে। যেখানে মিশেলকে কিছুটা হলেও থাকতে হবে দোটানায়। মাদ্রিদ থেকে প্রায় সাড়ে তিন শ মাইল দূরের শহর মালাগায় রবিবারের এ ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনার কমতি নেই। গত কয়েক দিন ধরেই ‘লা রোসালেদা’-র ফটকে ঝুলছে ‘টিকিট নেই’ সাইনবোর্ড। তা নিয়ে অ্যাওয়ে অর্থাৎ রিয়াল সমর্থকদেরই যত হাহাকার। মাত্র সাড়ে পাঁচ শ টিকিট যে তাদের বরাদ্দ। মাদ্রিদের সমর্থকদের তাতে কুলাবে কেন? পাঁচ বছর পর চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্যাপনের এমন উপলক্ষ বেশির ভাগই যে হাতছাড়া করতে চাইছেন না। সেই উন্মাদনায় একরকম চাপা পড়ে যাচ্ছে কাল বার্সেলোনাকেও নামতে হবে এইবারের বিপক্ষে এবং সেই ম্যাচ জিতলেই কেবল রিয়ালের হারের সুযোগ তারা নিতে পারবে। বার্সার এ মৌসুমের পারফরম্যান্সে তীব্র উত্থান-পতন। লিগের শীর্ষ আট দলের কারো কাছেই তারা হারেনি। কিন্তু এই মালাগা এবং রিয়াল শেষ দুই ম্যাচে যাদের বিপক্ষে জিতল সেই সেল্তা ভিগো এবং দেপোর্তিভো লা করুনার কাছে হেরেই তারা শিরোপা লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু বারবারই তারা ফিরে এসেছে। তারই ফল শেষ রাউন্ড পর্যন্ত রিয়ালকে হুমকিতে রাখা।

এ মৌসুমে মালাগার পারফরম্যান্সও বার্সার জন্য আশা জাগানিয়া। যে তিনটি দলের কাছে রিয়াল হেরেছে এবার সেই তিন দল বার্সা, সেভিয়া এবং ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়েছে তারা। শেষ পাঁচ ম্যাচে সম্ভাব্য ১৫ পয়েন্টের ১৩ পয়েন্টই উঠিয়েছে মিশেলের দল। তবে রিয়ালও এই মৌসুমে সব রকম চাপ জয় করতে সিদ্ধহস্ত। তেনেরিফাজোর দুইবারই রিয়ালকে জিততে হতো, কিন্তু এবার সেই চাপও তাদের নেই, ড্র করলেই শিরোপা ঘরে তুলতে পারছে জিনেদিন জিদানের দল। আর এই দলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো একজন আছেন নব্বইয়ের গোড়ায় লিও বেনহ্যাকার ও বেনিতো ফ্লোরো তেমন একজনের অভাবই বোধ করেছেন নিশ্চয়। এবার আরেকটি ‘তেনেরিফাজো’ তাই কিছুতেই চাইবে না রিয়াল। মার্কা


মন্তব্য