kalerkantho


শেখ জামালের নাটকীয় জয়

১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০



শেখ জামালের নাটকীয় জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের দিন টানা ৯ ম্যাচ হারার পর প্রথম জয়ের মুখ দেখেছিল ভিক্টোরিয়া। আর গতকাল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স টানা ৯ ম্যাচ জেতার পর হারল প্রথমবার।

ফতুল্লায় পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের কাছে তাদের হার আবার শোচনীয়ও। ধীরগতির উইকেটে ৪৭ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করা ওপেনার তাসামুল হকের সেঞ্চুরিতে কলাবাগানের ২২২ রানের মাঝারি সংগ্রহ তাড়া করতে গিয়েও মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে গেছে গাজী। ১০ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এখনো শীর্ষেই থাকা দলটি তাই হেরেছে ১২৭ রানের বিশাল ব্যবধানেই।

এই ম্যাচে যেমন গাজীর বড় হারে দারুণ ভূমিকা কলাবাগানের সঞ্জিত সাহার অফস্পিন ঘূর্ণির, তেমনি বিকেএসপি তিন নম্বর মাঠে মোহামেডানের ব্যাটিং লজ্জার কারণও ব্রাদার্সের অফস্পিনার ইফতেখার সাজ্জাদ। ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দীকের সেঞ্চুরিতে ২৭৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়া ব্রাদার্স সাজ্জাদের বোলিংয়ে ১৪৭ রানেই মোহামেডানকে বেঁধে ফেলে পায় ১২৯ রানের জয়। ১০ ম্যাচে এটি ব্রাদার্সের চতুর্থ জয় এবং চতুর্থ হার মোহামেডানের।

মোহামেডানের মতো শেখ জামাল ধানমণ্ডির স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরাও ব্যর্থ। কিন্তু এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিকেএসপি ৪ নম্বর মাঠে টানা তিন হারের পর আবার তারা জয়ে ফিরল দুই বোলারের ব্যাটিং কীর্তিতে। সোহাগ গাজীর ফিফটি ও ইলিয়াস সানীর ৪৪ রানের ইনিংসে ভর করে ১ বল বাকি থাকতে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ২ উইকেটে হারিয়ে শেখ জামাল অনিশ্চিত হয়ে পড়া সুপার লিগও নিশ্চিত করল অনেকটা। ১০ ম্যাচে এটি তাদের ষষ্ঠ জয়। আর সমানসংখ্যক ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের মাত্র তৃতীয় হার।

ব্রাদার্সের বিপক্ষে খেলা তাদের আগের ম্যাচটিও শেষ বলে গিয়ে নিষ্পত্তি হয়েছিল। চরম নাটকীয়তার সেই ম্যাচের শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করে দলকে ১ রানের জয় এনে দিয়েছিলেন আরিফুল হক। এ কারণেই কালও শেষ ওভারে এই ডানহাতি পেসারের হাতেই বল। ততক্ষণে শেখ জামালের ওপেনার ফজলে রাব্বি (৩৬), জিয়াউর রহমান (৩৪) ও অধিনায়ক রাজিন সালেহকে (৭) তুলে নেওয়া আরিফুল আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গেও। আর স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কেউ কেউ সেট হয়েও বড় ইনিংস খেলতে না পারায় অফস্পিনার সোহাগ গাজীর (৫৪) ফিফটির পর তখন জেতার জন্য শেখ জামাল তাকিয়ে বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানীর ব্যাটের দিকে। শেষ ওভারে দরকার ১০ রান আর প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরণ অনেক সহজ করে ফেলা ইলিয়াস (৪৪) অবশ্য পরের বলেই আউট, বাকি পথটুকু পার করে নিয়েছেন মাহমুদুল হক (২৭*)।

অলক কাপালিকে (৫১) নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১০০ রানের পার্টনারশিপ গড়া জুনায়েদ সিদ্দীক (১১০) সেঞ্চুরিই শুধু করেননি, নিশ্চিত করেছেন দলের বড় স্কোরও। আউট হয়েছেন ৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে। জবাবে শুরুতেই ওপেনার শামসুর রহমানকে হারালেও সৈকত আলী (৭০) ও অভিষেক মিত্রের (২৯) ৮৭ রানের পার্টনারশিপে মোহামেডানও জয়ের কক্ষপথেই ছিল। কিন্তু রানআউটে অভিষেকের বিদায়েই শুরু ধসের, মাত্র ৪৪ রানে শেষ ৯ উইকেট হারানো মোহামেডানকে বেশি ভুগিয়েছে ইফতেখারের (৪/১৯) অফস্পিনই। ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে যেমন গাজীর ভোগান্তির প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছিলেন সঞ্জিত সাহা। অবশ্য ধীরগতির উইকেটে ব্যাটসম্যানদের তাড়াহুড়াও বিপদে ফেলেছে এই শীর্ষ দলকে। এমন উইকেটে ব্যাটিং কেমন হওয়া চাই, সেটি তো ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে আউট হওয়া ব্রাদার্সের ওপেনার তাসামুলই (১০২) দেখিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স-কলাবাগান ক্রীড়া চক্র

কলাবাগান ৫০ ওভারে ২২২/৯ (তাসামুল ১০২, তুষার ৩২, জসিমউদ্দিন ২৮; পারভেজ ৪/৪৪)।

গাজী গ্রুপ ৩২.৫ ওভারে ৯৫ (নাদীফ ৪৫, এনামুল ১৬; সঞ্জিত ৩/৭,  সাদ নাসিম ৩/১২, তুষার ২/১৯, আবুল ২/২৪)।

ফল : কলাবাগান ১২৭ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : তাসামুল হক (কলাবাগান)।

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব-শেখ জামাল ধানমণ্ডি

প্রাইম ব্যাংক ৫০ ওভারে ২৭০/৯ (মারুফ ৬১, ঈশ্বরণ ৫৪, আল-আমিন জুনিয়র ৪২, জাকির ৩৪, আসিফ ৩১; শাহাদাত ২/৪৩)।

শেখ জামাল ৪৯.৫ ওভারে ২৭১/৮ (সোহাগ ৫৪, প্রশান্ত ৪৮, ইলিয়াস ৪৪, ফজলে ৩৬, জিয়াউর ৩৪, মাহমুদুল ২৭*; আরিফুল ৪/৭৫)।

ফল : শেখ জামাল ২ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : ইলিয়াস সানী (শেখ জামাল)।

মোহামেডান-ব্রাদার্স

ব্রাদার্স ৪৯ ওভারে ২৭৬/৮ (জুনায়েদ সিদ্দীক ১১০, অলক ৫১, রুবেল ৩৬; তাইজুল ২/৪১, এনামুল জুনিয়র ২/৫২, সাজেদুল ২/৬২)।

মোহামেডান ৩৫.৪ ওভারে ১৪৭ (সৈকত ৭০, অভিষেক ২৯; ইফতেখার ৪/১৯, নিহাদুজ্জামান ২/৩১, কামরুল ২/৩১)।

ফল : ব্রাদার্স ১২৯ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : জুনায়েদ সিদ্দীক (ব্রাদার্স)।


মন্তব্য