kalerkantho


এবার আর হলো না

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



এবার আর হলো না

তখন শুধু শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা। স্কোরলাইনে একটিও গোল নেই বার্সেলোনার ঘরে। অথচ প্রয়োজন ছিল চার গোল, নিদেনপক্ষে তিনটি। চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তখনই পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে দুলে দুলে কাতালান পতাকা ওড়াতে থাকলেন বার্সার সমর্থকরা। এই জেনেই হয়তো বা, রূপকথার রাত প্রতিদিন আসে না, অলৌকিক কিছুও বলে-কয়ে হয় না। এবার আর তাই হলোই না। জুভেন্টাসের গ্রেট ওয়ালে বাধা পেয়ে ফিরে গেছেন মেসি-নেইমার-সুয়ারেসের মতো ‘হাঙ্গর’রাও।

ম্যাচে মোট ১৯টি শট নিয়েছে বার্সেলোনা। তার মধ্যে মাত্র একটিই রাখতে পেরেছে লক্ষ্যে। জুভের ওই রক্ষণদেয়াল পরিষ্কার কোনো সুযোগই দেয়নি তাদের। কিয়েল্লিনি-বোনুচ্চি-আলভেসরা সামনে এমনভাবে ছিলেন যে শটটি তাঁদের ফাঁকি দিয়ে বেরোতে পেরেছে সেটি আর পোস্টেই থাকেনি। আগের ম্যাচেও দেখা গেছে একের পর এক শট ব্লক করে গেছে জুভেন্টাসের ডিফেন্স। সেদিন বার্সার জন্য মরণঘাতী হয়ে উঠেছিলেন পাওলো দিবালা। তাঁর জোড়া গোলে ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দলের ৩-০ গোলের জয়েই শেষ পর্যন্ত দুই লেগের ফয়সালা। ন্যু ক্যাম্পে এদিন গোলশূন্য সমতায় শেষ চার নিশ্চিতের পরই সেই জয়োৎসব করেছে। বার্সার কোচ হিসেবে লুই এনরিকে এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের কোনো ম্যাচ জিততে ব্যর্থ ন্যু ক্যাম্পে। প্রথম লেগে হারের শিক্ষায় ইহোর্দি আলাবাকে নিয়ে এদিন ৪-৩-৩-য়েই দল মাঠে নিয়েছিলেন। বার্সার প্রথম সুযোগ নষ্ট ওই আলাবাকে দিয়েই। মেসির দারুণ একটা পাসে ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারেননি। পরে মেসিই বক্সের ভেতর থেকে বল পাঠিয়েছেন পোস্টের বাইরে দিয়ে, নেইমারের ভলিও লক্ষ্যভ্রষ্ট। আগের লেগের অন্যতম সেরা পারফরমার জিয়ানলুইজি বুফন এই লেগেও তাঁর অবদান রেখেছেন মেসির পরের শটটি বাইরে ঠেলে দিয়ে। প্রথমার্ধে জুভেন্টাসও সুযোগ পেয়েছে। তবে গনসালো হিগুয়েইনকে হতাশ করেছেন আন্দ্রে টের স্টেগেন।

দ্বিতীয়ার্ধে হুয়ান কোয়াদ্রাদোর শটও ফিরিয়েছেন তিনি। ওদিকে বার্সার শট অনুশীলন চলতেই। মেসি, নেইমার পর পর দুটি শট উড়িয়ে মারেন বাইরে। এই অর্ধের মাঝামাঝি সময়েই ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সুযোগটা পেয়েছিলেন মেসি। কর্নার থেকে লুই সুয়ারেসের মাথা ছুঁয়ে আসা বলে ডান পা চালিয়েছিলেন। পোস্টের একেবারে কাছ থেকে নেওয়া তাঁর সেই ভলি উড়ে গেছে ক্রসবারের ওপর দিয়ে। এর মাঝে ইভান রাকিতিচকে তুলে রিজার্ভ স্ট্রাইকার পাকো অ্যালকাসারকেও নামিয়েছিলেন এনরিকে, কিন্তু কাজ হয়নি। ওদিকে দিবালাকে তুলে আন্দ্রে বারজাগলিকে নামান অ্যালেগ্রি। তাতে জুভদের গোলমুখ আরো আঁট হয়ে যায়। পিএসজি ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে বার্সাকে জেতানো সের্গি রবার্তোও এদিন তাঁর জাদুকরী ছোঁয়া হারিয়ে ফেলেন। শেষ দিকে জেরার্দ পিকেকেও ওপরে তুলে দিয়েছেন এনরিকে। কিন্তু রাতটা এদিন বার্সারই ছিল না। কিছুতেই কিছু হয়নি। ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সেরা মেনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। পিএসজির বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনের নায়ক নেইমার সেই আবেগ সামলাতে পারেননি একেবারেই। ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ দানি আলভেসকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। আলভেসের জন্যও তো ছিল আবেগের রাত। গত মৌসুমে বার্সায় একরকম ব্রাত্য হয়েই তিনি জুভেন্টাসে নাম লিখিয়েছেন। অথচ এই ক্লাবেই তাঁর খেলোয়াড়ি সত্তার পূর্ণ বিকাশ। আগের দিন ন্যু ক্যাম্পে পা রেখেই মাটি ছুঁয়ে সালাম করেছিলেন। পরশুর ম্যাচের আগেও বার্সার ডাগআউটে গিয়ে করেছেন খুনসুটি। সেই বার্সার ঘাতক হয়েই ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়া তাঁর ভেতরটাও নাড়িয়ে দিয়েছে নিশ্চিত। গোল ডটকম


মন্তব্য