kalerkantho


বেতন-ভাতায় দুই কুলই রক্ষা

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



বেতন-ভাতায় দুই কুলই রক্ষা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বেতন-ম্যাচ ফি বাড়ানোর দাবিটা ক্রিকেটারদের বহু পুরনো। সব আমলেই নতুন বছরের বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

এ নিয়ে দেনদরবারের পর যা সাব্যস্ত হয়েছে, তাতে কোনোবারই হাসি ফোটেনি ক্রিকেটারদের মুখে। এবার এর ব্যত্যয় ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। কয়েক দফা আলোচনার পর চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি যে হারে বাড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), তাতে সন্তুষ্টির সুবাতাস বইছে জাতীয় ক্রিকেটারদের মনে।

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, গত বছর পর্যন্ত যে হারে বেতন পেতেন মাশরাফি বিন মর্তুজারা, তা আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের চেয়েও কম! বলার অপেক্ষা রাখে না, র‌্যাকিংয়ে বাংলাদেশের নিচে থাকা জিম্বাবুয়ে কিংবা কাছাকাছি থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা বেশি বেতন পেয়ে আসছিলেন এত দিন। নতুন বেতন পরিকাঠামোয় এ বৈষম্য দূর না হলেও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি ঘটছে, তাতেই আপাতত সন্তুষ্ট ক্রিকেটাররা।

সব শেষ চুক্তি অনুযায়ী শীর্ষ ক্যাটাগরির মুশফিক-সাকিবদের বেতন ছিল মাসিক আড়াই লাখ টাকা। এবার সেটা বেড়ে চার লাখ হওয়ার কথা রয়েছে। সর্বনিম্ন বেতনও এক লাখের ওপরে। বেতনের পাশাপাশি বাড়ছে ম্যাচ ফিও।

টেস্টের পুরনো ফি দুই লাখ থেকে বেড়ে হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে যথাক্রমে দুই ও এক লাখ করার প্রস্তাব গেছে জাতীয় দলের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির পক্ষ থেকে।

অবশ্য এ নিয়ে এখনই কিছু বলতে রাজি নন ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্প পর্যবেক্ষণ করতে কক্সবাজারে অবস্থানরত সাবেক এ অধিনায়ক টেলিফোনে গতকাল জানিয়েছেন, ‘বেতন-ভাতা নির্ধারিত হবে বোর্ডের পরবর্তী সভায়। এর আগে কোনো কিছু নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, বর্তমান বোর্ড খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে খুবই সচেতন। তাই বোর্ড এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, যা খেলোয়াড়দের স্বার্থবিরোধী হবে। ’

ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানের চেয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও বেতনসংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করার ব্যাপারে সতর্ক। বেতন-ভাতাসংক্রান্ত দাবিদাওয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন তাঁরা। শ্রীলঙ্কা সফরকালে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের কাছে বেতন বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তাতে নাকি সম্মতও হয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি। এরপর দফায় দফায় আলোচনা চলেছে ক্রিকেটারদের মধ্যে। সে আলোচনার ফল নিয়ে গত রবিবার মিরপুরের ড্রেসিংরুমে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গেও কথা বলেছেন মাশরাফিরা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সেদিন বিশ্বের অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের সঙ্গে নিজেদের বৈষম্যের বিষয়টি প্রধান নির্বাহীকে অবহিত করেছেন ক্রিকেটাররা। সেই আলোকে সর্বোচ্চ ছয় থেকে তিন লাখে চুক্তিবদ্ধদের বেতনসীমার প্রস্তাব করা হয়েছিল ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে। তবে জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে বোর্ডের পরবর্তী সভায়, সেটি সম্মতি পেলেই সন্তুষ্ট তাঁরা।

এদিকে এবারের চুক্তিতে নতুন কিছু মানদণ্ড অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে খেলা ম্যাচ সংখ্যা এবং নৈপুণ্য মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে কে কোন ক্যাটাগরিতে বেতন পাবেন। তাতে তিন ফরম্যাটে নিয়মিতদের বেতন সর্বোচ্চ স্কেলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বেতন বাড়ানো হচ্ছে বলেই এবারের চুক্তিতে ‘ডিসিপ্লিন’ নামের একটি শর্তও জুড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নীতিনির্ধারকদের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ডিসিপ্লিনের ব্যাপারে বোর্ড কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। এবারের চুক্তিতে সেটাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ’ জানা গেছে, আইসিসির মতো শৃঙ্খলা ইস্যুতে ‘ডিমেরিট’ পয়েন্ট যুক্ত হবে মাশরাফিদের নতুন চুক্তিতে। তাতে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটলে ধারা অনুযায়ী জরিমানা গুনতে হবে নিয়মভঙ্গকারীকে।

এদিকে চুক্তির শর্তাদি চূড়ান্ত হয়নি বলে জানুয়ারি থেকে বেতন পাচ্ছেন না ক্রিকেটাররা। এ মাসেই অনুষ্ঠেয় বিসিবির বোর্ডসভায় চুক্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে নতুন স্কেলে বেতন পাবেন মাশরাফি-মুশফিকরা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ড মিশনে হাসিমুখে যাবেন ক্রিকেটাররা!


মন্তব্য