kalerkantho


উল্কিতে মালিঙ্গার সুখস্মৃতি

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



উল্কিতে মালিঙ্গার সুখস্মৃতি

কলম্বো থেকে প্রতিনিধি : ঢাকা যেমন মসজিদের নগরী, তেমনি কলম্বো বুদ্ধমূর্তির। কিছু দূর পর পর ধ্যানরত বুদ্ধ শহরবাসীর ধর্মমুখিতার সাক্ষ্যও দেন। সেই শহরে আজানের ধ্বনি ভেসে আসতেই বুঝবেন যে চলে এসেছেন মুসলিম অধ্যুষিত খেত্তারামায়। এই সফরে বাংলাদেশের দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ভেন্যু প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামও এখানেই।

বাংলাদেশের ‘হোম অব ক্রিকেট’ যেমন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, তেমনি শ্রীলঙ্কায় এই প্রেমাদাসা। এখানে তাই দল ও দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের দেখা মিলবেই। সেই কবেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বসে থাকা লাসিথ মালিঙ্গার দেখাও মিলল গতকাল দুপুরে। মূলত টি-টোয়েন্টিতেই বেশি মনোযোগী হওয়া এই ফাস্ট বোলারকে শুরুতে দেখা গেল সেন্টার উইকেটের নেটে আগুন ঝরাচ্ছেন।

আগুনই, মাসখানেক আগের তুলনায় আরো বেশিই ঝরাচ্ছিলেন। হাঁটুর ইনজুরি কাটিয়ে গত মাসেই অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে মাঠে ফেরা এই ফাস্ট বোলারের বিশাল বপু নিয়ে তখন আলোচনা কম হয়নি। এই কিছুদিনের মধ্যে সেটিও আর এখন দৃশ্যমান নয়। এতেই স্পষ্ট ওই সিরিজের পর থেকে যথেষ্টই খাটুনি খেটেছেন। খেটেখুটে নিজেকে আরো উপযোগী করে তোলার চেষ্টায় থাকা মালিঙ্গাকে একবার দেখা গেল প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম লাগোয়া ম্যাক্স একাডেমির মাঠে বাংলাদেশ দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনের সময়ও।  

হাতাকাটা প্র্যাকটিস টি-শার্ট পরা মালিঙ্গা এসেছিলেন অবশ্য অন্য এক কাজেই। তখনই তাঁর ডান হাতে আঁকা উল্কিটা নজর না কেড়ে পারে না। বাহুতে বিচিত্র সব জিনিস এঁকে নেওয়াটা যেখানে রেওয়াজ, সেখানে ব্যতিক্রম নন এই আগুনে ফাস্ট বোলারও। তবে এর বাইরেও একটি ব্যাপার দৃষ্টি কাড়তে বাধ্য। ওখানে যে দুটি তারিখও উল্কি আকারে আঁকিয়ে নেওয়া। এর একটি ১-৭-২০০৪ তো আরেকটি ২৮-৩-২০০৭। কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইতেই পরের তারিখটির কথাই বললেন শুধু, ‘ওটা আমার হ্যাটট্রিক করার দিন। ’

২০০৭ সালের ২৮ মার্চ গায়ানায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকই করেননি শুধু, টানা চার বলে

চারটি উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তিও গড়েছিলেন মালিঙ্গা।

উল্কিতে সেই স্মৃতি ধরে রাখা ফাস্ট বোলার ধরে রেখেছেন তাঁর টেস্ট অভিষেকের স্মৃতিও। ২০০৪ সালের ১ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে

তাঁর টেস্ট অভিষেক। পর পর দুটি তারিখ আঁকিয়ে নেওয়া মালিঙ্গার হাতে এটিও লেখা যে, ‘আই বিলিভ ইন মাইসেল্ফ অ্যান্ড আই গট দ্য স্পিড। ’

সেই গতি মাঠে যেমন অটুট আছে, তেমনি মাঠের বাইরেও। একসময় কলম্বোর রাজপথে জোরে গাড়ি চালানোর জন্য ‘কুখ্যাত’ ছিলেন অরবিন্দ ডি সিলভা। সেদিন এক উবারচালক জানালেন মালিঙ্গা নাকি পূর্বসূরির জায়গাটিও নিতে পেরেছেন ভালোমতোই। কাল নিজেই ল্যান্ড ক্রুজার জিপ চালিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পিছু নিলে বোধ হয় আরেক আগুনে মালিঙ্গার দেখাও মিলত!


মন্তব্য