kalerkantho


বিদেশের মাটিতেও রংমশাল

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিদেশের মাটিতেও রংমশাল

কলম্বো থেকে, প্রতিনিধি : বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরকালীন কিছু ফ্রেম আছে। এর একটি এমন যে, ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের চৌকাঠ থেকে ফিরে আসার পর রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসছেন তখনকার বাংলাদেশ অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ।

পরের ১৪ বছরে ভূমিকা বদলে সেই মাহমুদ এখন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার হলেও তাঁর আবেগ বদলায়নি একটুও। গত পরশু বিকেলে পি সারা ওভালেও তাঁর চোখ অশ্রুসজল। তবে এবার আনন্দে, ‘মুলতানের দুঃখ ভোলার একটা উপলক্ষ এত দিন ধরে খুঁজছিলাম। বিদেশের মাটিতে এমন জয়ে সেই দুঃখ আমি ভুলেও গেলাম। ’

কিন্তু বাড়ির পাশের মাঠে আরেকটি চিরকালীন ফ্রেম কী করে ভুলবেন তামিম ইকবাল? ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয় বাংলাদেশের। সেই জয়ের পরপরই উপচে পড়া স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা নিয়ে পুরো দলের ‘ভিক্টরি ল্যাপ’ আর পুরো ভাগে ডিগবাজি খেতে থাকা আফতাব আহমেদ।

কিন্তু শ্রীলঙ্কার মাঠে যে উৎসব দেশের মতো উত্তুঙ্গ হবে না, সেটি তো প্রত্যাশিতই ছিল। তবু রান তাড়ায় ৮২ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরা তামিমের বোধহয় জিতেও কিছুটা অপূর্ণতা রয়ে গেল এ জন্যই। পি সারা ওভালে জেতার পরের নিস্তরঙ্গতা নিয়ে বললেন, ‘একেই আফতাব ভাইয়ের মতো ডিগবাজি জানা কেউ এখন দলে নেই। তার ওপর দর্শকও নেই। ভিক্টরি ল্যাপটা দেব কোথায়?’  

সেটি দিতে না পারলেও এই জয়ের বিশালতায় চোখ-মুখ উজ্জ্বল ছিল এই টেস্ট দেখতে শ্রীলঙ্কায় আসা বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেনেরও, ‘দেশের মাঠে খেললে অবশ্যই উৎসবের আমেজটা বেশি থাকত। কিন্তু আমাদের ক্রিকেটের জন্য এই জয়ও তো কম কিছু নয়। বিদেশের মাটিতে এত বড় একটি জয় পেলাম আমরা। ’

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও মানছেন যে শততম টেস্টটি দেশের মাটিতে খেলে জিততে পারলে ব্যাপারটি অন্য মাত্রা পেত নিঃসন্দেহে। তাই বলে এই জয়ে ছড়িয়ে দিতে পারা অন্য বার্তাও কম অর্থবহ বলে মনে হচ্ছে না তাঁর কাছে, ‘দেশে হলে অন্য রকম একটা অনুভূতি তো হতোই। কিন্তু বিদেশে ওরকম (গল টেস্টে) হারের পর এমনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। আমাদের মতো দলের জন্য এর চেয়ে বড় কিছু আর হয় না। ’   

এই জয় তাই বিদেশের মাটিতেও রংমশাল জ্বালানোর অনন্য এক স্মারক হয়েই থাকছে। যাতে সরাসরি অংশীদার হতে পেরেছেন খুব কম বাংলাদেশিই। তবে এর আনন্দ নিশ্চিতভাবেই ছড়িয়ে পড়েছে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সঙ্গে সঙ্গেই ম্যানেজার মাহমুদের ফোনে কথা বলে নিয়েছেন মুশফিক ও সাকিবের সঙ্গে। পি সারা ওভালের আবহেই শুধু বাংলাদেশের জয়ের উত্তাপ নেই। সে জন্যই কে যেন বাংলা ছবির এমন এক সংলাপ আউড়ে গেলেন, ‘মার হলো কিন্তু আওয়াজ হলো না!’


মন্তব্য