kalerkantho


সাইফ স্পোর্টিংয়ের ক্যাম্প কলকাতায়

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সাইফ স্পোর্টিংয়ের ক্যাম্প কলকাতায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশের ফুটবলের গ্রহণের সময় কোনো ক্লাব দল বিদেশে গিয়ে প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি সারছে, চমকে দেওয়ার মতোই খবর বটে! ফুটবলের দুর্দশাকে একপাশে সরিয়ে রেখে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব আধুনিকতাকে সঙ্গী করে নিজেদের মতো করে ভাবছে এবং তৈরি হচ্ছে। ফুটবলের দলবদলের আগেই দল গুছিয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণের জন্য কলকাতায় গেছে তারা।

ফুটবলের দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। এমন দুর্দশার পাঁকে পড়েছে ফুটবল যে, সেখানে হতাশা ছাড়া কিছুই নেই। এই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও সাইফ পাওয়ারটেক ফুটবলের সঙ্গ ছাড়েনি। জড়িয়ে আছে বিভিন্নভাবে। সর্বশেষ নিজেদের ক্লাব দলকে গত ১৩ মার্চ এক মাসের জন্য কলকাতা পাঠিয়ে নতুন ধারা শুরু করেছে দেশের ক্লাব ফুটবলে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো ক্লাব দল প্রাক-মৌসুম ট্রেনিং ক্যাম্প করছে বিদেশে গিয়ে। কারণ কী? সাইফ স্পোর্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরীর জবাব, ‘বিদেশে গিয়ে ক্যাম্প করার উদ্দেশ্য একটাই—খেলোয়াড়দের মনে যেন ফুটবল ছাড়া অন্য কিছু না থাকে। এই সময় তাদের জীবনে ফুটবল প্র্যাকটিস আর বিশ্রামের বাইরে কিছু থাকবে না। সঙ্গে ছয়জনের বিদেশি কোচিং স্টাফ, তাঁরা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিয়ে খুঁটিনাটি কাজ করার সুযোগ পাবেন।

আমরা চাইছি, আধুনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটাকে গড়ে তুলেতে। ’ ইউরোপে এটার খুব চল আছে, ফুটবল মৌসুম শুরুর আগে বড় ক্লাব দলগুলো বিভিন্ন দেশে গিয়ে ক্যাম্প করে। বাংলাদেশেও এই ধারা শুরু করেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।

দলটির প্রধান কোচ সার্বিয়ান নিকোলা কাভাজোভিচ। আরো পাঁচ স্বদেশিকে নিয়ে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের এই সাবেক কোচ বিশাল কোচিং স্টাফ বানিয়েছেন। তাঁদের অধীনে কলকাতার রবীন্দ্রসরোবর স্টেডিয়ামে ট্রেনিং চলছে ২৪ ফুটবলারের। ক্লাবের ম্যানেজার ওবায়দুর রহমান ফোনে জানিয়েছেন, ‘এই দলের বেশির ভাগই তরুণ, যারা গত মৌসুম বিভিন্ন দলে ভালো খেলেছে, তাদের নেওয়া হয়েছে। খুব ভালো প্র্যাকটিস হচ্ছে, ফুটবলারদের নিয়ে কোচিং স্টাফরা কাজ করছেন। ২২ তারিখ একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলব এখানকার দলের সঙ্গে। ’ তরুণদের সঙ্গে তারা কিছু অভিজ্ঞ ফুটবলারও নিয়েছে। ঢাকা আবাহনী থেকে নিয়েছে হেমন্ত ভিনসেন্ট, জুয়েল রানা, তপু বর্মণ, আরিফুল ইসলাম ও শাকিলকে, যদিও এখনো তাঁরা কলকাতা যাওয়ার ছাড়পত্র পায়নি। তবে জামাল ভূঁইয়া ও চট্টগ্রাম আবাহনীর ইব্রাহিম দু-এক দিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন। এ ছাড়া কলকাতার ক্যাম্পে আছে তিন বিদেশি—সার্বিয়ান ডিফেন্ডার গোরান অবরাদোভিচ, স্নোভাক মিডফিল্ডার ভিলিয়াম মাচো ও মন্টেনেগ্রোর স্ট্রাইকার সাভা গারদোসেভিচ। টেলিফোনে কোচ কাভাজোভিচ বলেছেন, “এখানকার প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটি ভালো। খেলোয়াড়দের রুটিনের বাইরে চলার কোনো সুযোগ নেই। আশা করি, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শক্তি ও দুর্বলতা আমার জানা হয়ে যাবে এই এক মাসে। আমি চাইছি, দলটার মধ্যে একটা ‘প্লেয়িং স্টাইল’ গড়ে তুলতে। লক্ষ্য প্রত্যেক কম্পিটিশন এবং লিগে সেরা হওয়া। ”

প্রস্তুতি দেখে মনে হতেই পারে যে, ঘরোয়া ফুটবলে মৌসুমে শিরোপা লড়াইয়ে যোগ হয়েছে আরেকটি শক্তি। বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা, রানার্স-আপ চট্টগ্রাম আবাহনী এবং তিনবারের পেশাদার লিগ শিরোপা জয়ী শেখ জামাল ধানমণ্ডি ও একবারের চ্যাম্পিয়ন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের সঙ্গে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ধরলে এবারের ঘরোয়া ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইটা জমাট হওয়ার যথেষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তবে নাসির উদ্দিন চৌধুরী এ লড়াইয়ে আন্তর্জাতিকতাও যোগ করতে চান, ‘দেশের টুর্নামেন্ট আর লিগে সীমাবদ্ধ থাকলে সামগ্রিক ফুটবলের কোনো লাভ হবে না। দেশের ফুটবল যেভাবে নিচে নেমেছে তাকে ওপরে তুলতে গেলে আন্তর্জাতিক সাফল্য লাগবে। ফুটবলারদের মান বাড়াতে হবে। ক্লাবের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারফর্ম করতে হবে আমাদের ফুটবলারদের। তাতে জাতীয় দলের চেহারায়ও পরিবর্তন আসবে। ’

এই ক্লাবকে নিয়ে তাঁর বড় স্বপ্ন। প্রথম বিভাগ থেকে সদ্য প্রিমিয়ারে ওঠা দলটি তাই দেশের গতানুগতিক ক্লিশে ক্লাব-কালচারে না ঢুকে পড়েছে আধুনিক ফুটবল বিপ্লবে।


মন্তব্য