kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ভারতের চেয়ে ২০-২৫ বছর পিছিয়ে বাংলাদেশ

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ভারতের চেয়ে ২০-২৫ বছর পিছিয়ে বাংলাদেশ

সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব দেশের ফুটবলে নতুন ধারা শুরু করেছে বিদেশে গিয়ে প্রাক-মৌসুম ট্রেনিং শুরু করে। ট্রেনিং করাচ্ছেন এশিয়ান ফুটবলবিষয়ক অভিজ্ঞ সার্বিয়ান কোচ নিকোলা কাভাজোভিচের বিশাল কোচিং স্টাফ। এক মাসের এ ট্রেনিং ক্যাম্পের কার্যকারণ সম্পর্কে তাজিকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ কলকাতা থেকে জানিয়েছেন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসকে

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : দেশে ট্রেনিং ক্যাম্প না করে বিদেশে ক্যাম্প করার কারণ কী?

নিকোলা কাভাজোভিচ : তিনটি কারণে আমি ভারতে ট্রেনিং ক্যাম্প করাচ্ছি। প্রথম এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো খেলার মাঠ। আমি যেভাবে দলটাকে খেলাতে চাই, অর্থাৎ প্লেয়িং স্টাইল ঠিক করার জন্য ভালো মাঠ খুব জরুরি, যা বাংলাদেশে পাইনি। দ্বিতীয় কারণ হলো, প্রীতি ম্যাচ খেলার সুবিধা। এখানে ভালো দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে। এ ম্যাচগুলোতে আমার খুব বড় আশা নেই, কারণ ভারতীয় ফুটবলের চেয়ে বাংলাদেশ ২০-২৫ বছর পিছিয়ে। প্রত্যেক মৌসুমে ভারতীয় ফুটবল এগোচ্ছে আর বাংলাদেশ প্রতিদিনই একটু একটু করে পেছাচ্ছে। আমাদের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের (আবাহনী) মান ভারতীয় লিগের নিচের সারির দলগুলোর মতো, যেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে আমি বাংলাদেশের অন্যান্য দলগুলোর মতো মনে করি না।

নানা কারণে আমরা আলাদা। আসলে আমরা কোথায় আছি, সেটা দেখার জন্য ভারতীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চাই।

প্রশ্ন : প্রীতি ম্যাচ দ্বিতীয় আর তৃতীয় কারণ কী?

নিকোলা : এই দলে তিন ধরনের ফুটবলার আছে। ১০ জনের বেশি আছে নতুন ফুটবলার, যাদের বিভিন্ন দল থেকে নেওয়া হয়েছে, আছে জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলার। আছে বিদেশি তিনজন, এ ছাড়া গতবার চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে যারা খেলেছে, যাদের কৃতিত্বে আমরা শীর্ষ লিগে জায়গা করে নিয়েছি। সব খারাপের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে এবং ফুটবলমুখী করে রাখতে এই খেলোয়াড়দের বিদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে থাকার সুবাদে ফুটবলারদের ওই তিনটি গ্রুপ একে অন্যের কাছাকাছি আসছে, বন্ধুত্ব তৈরি হচ্ছে। সর্বোপরি একটি দল তৈরি হচ্ছে যেখানে ঈর্ষার বদলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ছে খেলোয়াড়দের মধ্যে।

প্রশ্ন : এ মৌসুমে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে নিয়ে আপনার লক্ষ্য কী?

নিকোলা : শিরোপা জেতার চেয়ে আমার কাছে বড় কাজ হলো ভালো ফুটবল খেলে মানুষকে স্টেডিয়ামমুখো করা। সাইফ স্পোর্টিংয়ের সমর্থক তৈরি করা। গত কয়েক বছরে যারা চরম হতাশা নিয়ে ফুটবল মাঠ ছেড়েছে, সেসব ফুটবল অন্তপ্রাণ মানুষগুলোকে ফিরিয়ে আনতে আমরা নতুন ধরনের ফুটবল উপহার দিতে চাই। প্রতিযোগিতামূলক লক্ষ্যের কথা আমি দলবদলের পরে বলতে চাই। বিপিএলে খেলাটা বড় কথা নয়, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ফুটবলে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সব সম্ভাবনা আছে এই ক্লাবের মধ্যে।


মন্তব্য