kalerkantho


আজই কি সেই দিন?

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আজই কি সেই দিন?

সংবাদ সম্মেলনে তাঁর আগের দিন খেলা ৭৫ রানের ইনিংসটি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী হলেন কেউ কেউ। মোসাদ্দেক হোসেন যদিও অত গভীরে ঢুকতে চাইলেন না। মাহমুদ উল্লাহর জায়গায় বাংলাদেশের শততম টেস্টেই অভিষিক্ত এই তরুণ ব্যাটসম্যান বরং বলে দিলেন, ‘আমি কী করেছি, সেটি বড় ব্যাপার নয়। ম্যাচটি জিততে পারলে মনে হবে আমার রানগুলো দলের জয়ে কাজে লেগেছে। ’ আগের দিন ব্যাট হাতে যা করেছেন, পরের দিন তা ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা তৈরির জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই পি সারা ওভাল টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষে যাঁদের সৌজন্যে জয়ের ঝিলিক দেখতে পাচ্ছে বাংলাদেশ, সেই মুস্তাফিজুর রহমান আর সাকিব আল হাসানেই বেশি ডুবে থাকতে চাইলেন ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে তিন-তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক। কৃতিত্বের পুরোটাই বরাদ্দ রাখলেন ওই দুজনের জন্য, ‘মুস্তাফিজ তো এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। আর সাকিব ভাই তো সব সময়ই সেরা। নিজেদের দায়িত্বটা তারা দুজন ভালো করেই জানে। জানে কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে। তাদের চেষ্টাতেই আমরা ম্যাচে ফিরেছি।

প্রথম সেশনে অবশ্য ফেরা যাচ্ছিল না কিছুতেই। দিনের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ দুই ওপেনারকে বিচ্ছিন্ন করার পরেও সুবিধা করে ওঠা যাচ্ছিল না। অন্য ওপেনার দিমুথ করুণারত্নে জমিয়ে বসেন, সঙ্গে পেয়ে যান গল টেস্টে ১৯৪ রানের ইনিংস খেলা কুশল মেন্ডিসকেও। দুজনে মিলে দলকে ১ উইকেটে ১৩৭ রানে রেখে নিশ্চিন্তেই গিয়েছিলেন মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিতে। কিন্তু বাংলাদেশ শিবিরে তখন জেঁকে বসেছে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। সেই মেঘ সরিয়ে রোদের দেখা মিলতে শুরু করল দিনের দ্বিতীয় সেশন থেকেই। এর আগে ওভার দ্য উইকেট বল করে সাফল্য না পাওয়া মুস্তাফিজ একটু অন্যভাবে কিছু করার কথা ভাবলেন। অ্যাঙ্গেল বদলানোর জন্য রাউন্ড দ্য উইকেট বোলিং শুরু করলেন। আর তাতেই বদলে যেতে শুরু করল দৃশ্যপট। মধ্যাহ্ন ভোজের পরপরই প্রত্যাশিত ব্রেক থ্রু পেয়ে যায় সফরকারীরা। বিরতির সময়ে ড্রেসিংরুমে সেটি পাওয়ার ছক কষতেই বাংলাদেশ শিবির ব্যস্ত ছিল বলে বোঝা গেল মোসাদ্দেকের কথায়, ‘দ্বিতীয় সেশনে আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি ব্রেক থ্রু। সেটি পাওয়ার উপায় নিয়েও আমরা ভাবছিলাম। কারণ আমরা জানতাম, একটি উইকেট পড়লে আরো পড়তেই থাকবে। সেই একটি উইকেট বের হওয়ার পর থেকেই আমরা ম্যাচে ফিরতে শুরু করি। ’

বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরায় শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ধাক্কাটা দেন মুস্তাফিজ। তাঁর সঙ্গে যোগ হয়ে যান সাকিবও, তখনই আরো খেই হারাতে শুরু করে স্বাগতিকরা। এর আগে উইকেটের জন্য দলের অপেক্ষাও দীর্ঘ হতে দেননি মুস্তাফিজ। দিনের শেষে সে কথাও বলতে ভুললেন না মোসাদ্দেক, ‘এমন নয় যে মুস্তাফিজের কাটারগুলো উইকেটে ধরছিল। ও খুব ভালো জায়গায় বল করে যাচ্ছিল। আর আমরাও অপেক্ষায় ছিলাম, কখন ব্যাটসম্যানরা ভুল করবে। ’ মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির আগ পর্যন্ত ৬ ওভার বোলিং করে দুটি মেডেনসহ ১৮ রান খরচায় উইকেটশূন্য মুস্তাফিজ তাঁর ৭ ওভারের পরের স্পেলটি শুরু করলেন উইকেট-মেডেন দিয়ে। কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে শুরু করতেই লঙ্কান ইনিংসেও ধসের শুরু।

দিনের শেষ সেশনে তা থামানোর ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন শ্রীলঙ্কার টেল এন্ডাররাও। বিশেষ করে দিলরুয়ান পেরেরা। ১২৬ বল খেলে ২৬ রানে অপরাজিত এই অফস্পিনার। সঙ্গী সুরঙ্গা লাকমলও এই টেস্টের প্রথম ইনিংসেই খেলেছেন তাঁর ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৩৫ রানের ইনিংস। তাঁরা আবার শ্রীলঙ্কার লিড কোথায় না কোথায় নিয়ে যান, সেই সংশয় জাগাও অস্বাভাবিক নয়। তা ছাড়া শেষ দিনে উইকেট স্পিন উপযোগীও হয়ে পড়ে কি না, সম্ভাবনায় ধরে রাখতে হচ্ছে সেটিও। সে ক্ষেত্রে রান তাড়া কঠিনও হয়ে উঠতে পারে।

সব বিবেচনায় নিয়েই মোসাদ্দেক দলের হয়ে বলে গেলেন, ‘উইকেট যে খুব খারাপ হয়ে গেছে, এটা বলা যাবে না। আবার খুব ভালো আছে, তাও না। এখন যারা ব্যাটিং করছে, তাদের কেউই বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান নয়। এটাই আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক। ’ এঁদের দ্রুত ফিরিয়েই ডিঙাতে চান স্বপ্নের জয়ের চৌকাঠ, ‘ওদের লিড এখনো খুব বেশি হয়নি। ১৩৫ রানের (আসলে ১৩৯) মতো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব ১৬০-এর মধ্যে ওদের অলআউট করে দিতে। তা পারলে আমাদের জন্য জেতাটা কঠিন হবে না। ’

জিততে পারলে মোসাদ্দেকেরও মনে হবে যে দলের জয়ে তাঁর রানগুলো কাজে লেগেছে!


মন্তব্য