kalerkantho


টি-টোয়েন্টি খেললেও আমি বিশ্বকাপ জিততাম

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



টি-টোয়েন্টি খেললেও আমি বিশ্বকাপ জিততাম

শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ২১তম বার্ষিকীর আগের দিন একজন আফ্রিকায় তো আরেকজন ইউরোপের পথে। বিশ্বজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা সরকারি সফরে গেছেন মরক্কোয়।

সরকারি সফরেই, কারণ তিনি এখন শ্রীলঙ্কার পোর্টস অ্যান্ড শিপিং মিনিস্টারও। সুবাদে ভীষণ ব্যস্তও। তাই দেশে থাকলেও সংবাদমাধ্যমবান্ধব রানাতুঙ্গাকে ধরা কঠিন ছিল। আর যিনি বরাবরই সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন, সেই অরবিন্দ ডি সিলভারও ব্যস্ততার অন্ত নেই কোনো। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের ফোনের ওয়েলকাম টিউনই তাঁর ব্যবসায়িক বিস্তৃতি নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিয়ে দেয়। আইডিয়াল গ্রুপের অধীনে আইডিয়াল মোটরস, আইডিয়াল ফিন্যান্স...আরো কত কী! এই গ্রুপের ডেপুটি চেয়ারম্যানকে গত পরশু সকাল থেকে বার দশেক চেষ্টার পর পাওয়া গেল দুপুরের পর। ফোন ধরে দ্রুত এই বলে রেখেও দিলেন, ‘একটা মিটিংয়ে আছি, আরো কয়েকটি আছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর ফোন করুন। ’ তাঁর ঠিক করে দেওয়া সময়ে ফোন করে জানা গেল অরবিন্দ ডি সিলভাও দেশ ছাড়ার অপেক্ষায় এয়ারপোর্টে। তবু ১৭ মার্চ দিনটিকে সামনে রেখে কলম্বোতে মাসুদ পারভেজকে সাক্ষাত্কার দিতে রাজি হলেন। এবং টি-টোয়েন্টি স্টাইলে দ্রুত শেষ করার তাড়া দিতে দিতে সাক্ষাত্কার দিলেনও।

 

প্রশ্ন : রাত পোহালেই তো শ্রীলঙ্কার বিশ্বজয়ের ২১ বছর পূর্তি। তা এই দিনটি উদ্যাপনের কোনো পরিকল্পনা?

অরবিন্দ ডি সিলভা : দেশে থাকলেই না উদ্যাপন করতে পারতাম। কিন্তু আমি তো দেশেই থাকছি না। একটু পরেই ফ্লাইটে উঠে পড়ব। ব্যবসায়িক কাজে যাচ্ছি লন্ডনে। ঐতিহাসিক দিনটি যখন শুরু হবে, তখন আমি থাকব ফ্লাইটে। আর লন্ডন থেকে ফিরতে ফিরতেও এই মাসের শেষ প্রায়। এবার তাই দিনটি সেভাবে উদ্যাপন করার কোনো সুযোগই হচ্ছে না।

প্রশ্ন : উদ্যাপন না হয় করতে পারছেন না। তাই বলে তো এমন নয় যে ওই সময়ের স্মৃতিগুলো এসেও মনের কোণে ভিড় করছে না। তা এই মুহূর্তে কোন স্মৃতিটা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে?

অরবিন্দ : ঠিক যে মুহূর্তে বিশ্বকাপটা আমরা জিতলাম, সেই মুহূর্তটার কথাই আমার সব সময় সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আমরা সবাই মিলে অনেক কষ্ট করেছিলাম। বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরতে পারাটা ছিল তারই পুরস্কার। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? ভাবতে গেলে আমার চোখের সামনে সবার আগে ওই মুহূর্তটাই ভাসে।

প্রশ্ন : গত বছর তো বিশ্বকাপ জয়ের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি সেলিব্রেশন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন আপনারা। যার একটিতে আপনার ব্যাটিং দেখে আপনাদের কোচ ডেভ হোয়াটমোরের মনে হয়েছিল আপনি সেই ২০ বছর আগের অরবিন্দ ডি সিলভাই আছেন। আপনার নিজের কাছেও কি তাই মনে হয়?

অরবিন্দ : (হাসি...) আগের অরবিন্দ ডি সিলভা কী করে থাকবে! বয়স তো আগের চেয়ে ২০ বছর বেড়েছে!

প্রশ্ন : হোয়াটমোর বলছিলেন আপনার রানিং বিটুইন দ্য উইকেটই যা একটু ধীরগতির হয়েছে। না হলে ব্যাটিংটা নাকি ১৯৯৬ বিশ্বকাপের অরবিন্দের মতোই আছে।

অরবিন্দ : সত্যিই তাই আছে কি না, সেটি তো আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়েই বোঝা যাবে না। বুঝতে হলে আমাকে অবশ্যই আরেকটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমে পড়তে হবে (হাসি...)। আরেকটি টেস্ট খেললেই না বুঝতাম আমি আগের অরবিন্দ আছি কী নেই!

প্রশ্ন : হোয়াটমোর তো এও বললেন যে আপনি ভুল সময়ে জন্ম নিয়েছেন। না হলে টি-টোয়েন্টির এই রমরমায় আপনার চাহিদা থাকত তুঙ্গে। কারণ আপনার ব্যাটিং এই ফরম্যাটের জন্যও ভীষণ কার্যকরী হতো বলে তিনি মনে করেন।

অরবিন্দ : টি-টোয়েন্টি খেলিনি বলে অবশ্য আমার আফসোস নেই কোনো। ক্রিকেট খেলে যা যা অর্জন করেছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। তাই ভুল সময়ে জন্ম নিয়েছি বলব না। তবে হ্যাঁ, আমার জন্ম আরো পরে হলে আমি অবশ্যই টি-টোয়েন্টি খেলতাম। নিশ্চিতভাবেই আমি ভীষণ উপভোগ করতাম এই ফরম্যাটটা। তাহলে আমার ঝুলিতে আরো বিশ্বকাপও থাকত। আমি নিশ্চিত যে শ্রীলঙ্কার হয়ে আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিততাম।

প্রশ্ন : গল টেস্টের সময় প্রধান নির্বাচক সনাৎ জয়াসুরিয়াকে দুঃখ করে বলতে শুনলাম, ‘আমরা তো আরেকটি অরবিন্দ ডি সিলভাই এখন পর্যন্ত পেলাম না। ’ তা আপনার কী ধারণা? আপনার মতো কাউকে শ্রীলঙ্কা কবে পেতে পারে?

অরবিন্দ : আমিও তো ওর মতো করে বলতে পারি, আমরা আরেকজন সনাৎ জয়াসুরিয়াও এখন পর্যন্ত পেলাম না। আর চাইলেই তো এরকম কাউকে আপনি পেয়ে যাবেন না। তা ছাড়া আরেকজন অরবিন্দ কিংবা সনােক পাওয়া যায়নি তো কী হয়েছে! সাঙ্গা (কুমার সাঙ্গাকারা) ও মাহেলাকে (জয়াবর্ধনে) পাওয়া গিয়েছিল। ওরাও আমাদের কম সাফল্য দেয়নি।

প্রশ্ন : কিন্তু আপনাদের প্রজন্মের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি তো তাঁদের দিয়ে হয়নি?

অরবিন্দ : এটাও তো ভুলে গেলে চলবে না যে ওরা আমাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েছে। হ্যাঁ, আরেকবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ আমরা জিতিনি। তবে ওরা এর কাছাকাছিও আমাদের নিয়ে গেছে কয়েকবার। ওরা দুজন দেশের সত্যিকারের দূত। আমাদের যুগটা শেষ হওয়ার পর ওরা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের হালটা শক্ত হাতেই ধরেছিল বলে ওদের প্রতি আমার অশেষ শ্রদ্ধাও আছে।

প্রশ্ন : এই দুজনও চলে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে একধরনের শূন্যতাই বিরাজ করছে। এই শূন্যতা পূরণ হতে কত সময় লাগবে বলে মনে করেন?

অরবিন্দ : আসলে এক প্রজন্ম চলে যাওয়ার পর আরেক প্রজন্মের তৈরি হতে একটু সময় লাগে। সে জন্য ধৈর্য তো ধরতেই হবে। এখন যারা আছে, ওরা খেলতে খেলতে অভিজ্ঞ হবে। তখন ওদের কাছ থেকে আরো ভালো পারফরম্যান্সও পাওয়া যাবে। এঁদের মাঝ থেকেও হয়তো এমন কেউ বেরিয়ে যাবে, যাকে নিয়ে আমরা কথা বলব। যে শূন্যতার কথা আপনি বলছেন, মনে হয় না তা পূরণ হতে খুব বেশি সময় লাগবে। আমার ফ্লাইট আছে, এখানেই শেষ করি তাহলে?

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন। বাংলাদেশের ক্রিকেট কতটা দেখা হয়?

অরবিন্দ : খোঁজখবর নিয়মিতই রাখা হয়। ওই যে বললাম অভিজ্ঞতার কথা। আপনাদের বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার খেলতে খেলতে এত দিনে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। আর ক্রিকেটে অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে কাজের হয়। ওরা এখন নিয়মিত পারফর্ম করছে বলে বাংলাদেশও বেশ সমীহ জাগানো দল হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন : নির্দিষ্ট কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম কি বলবেন, যার খেলা আপনার ভালো লাগে?

অরবিন্দ : একাধিক খেলোয়াড়ই আছে। সাকিবুল (সাকিব আল হাসান) এদের মধ্যে অন্যতম। তামিমের ব্যাটিংও আমার খুব ভালো লাগে। এবার দেখলাম তরুণ আরেকজন ওপেনারকে। লম্বা মতো ছেলেটা...নাম (সৌম্য সরকার) বলতে পারব না। ওর ব্যাটিংও ভালো লাগছে আমার।


মন্তব্য