kalerkantho


‘রিয়াদকে বাদ দিয়েছি আমি’

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘রিয়াদকে বাদ দিয়েছি আমি’

মাহমুদ উল্লাহ ইস্যুতে দেশেও সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে এসেছেন তিনি। তবে সেখানে না বলা কথাটা কলম্বোয় এসে বললেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান।

শততম টেস্টের একাদশ থেকে মাহমুদকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্তটি হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের একারই নেওয়া বলে যখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতে চলেছে, তখনই পরিবেশিত হলো নতুন তথ্য। যে তথ্যে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে ছয় সদস্যের নির্বাচক কমিটি নয়, দল কিংবা একাদশ গঠনে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা আসলে বোর্ড সভাপতিই, ‘প্রতিটা সিদ্ধান্ত আমার। এখানে চন্দিকার কথা কেন আসছে, বুঝতে পারছি না। সিদ্ধান্ত তো নিই আমি। ’

কলম্বোতে বড়জোর মাহমুদ উল্লাহকে একাদশের বাইরে রাখার পরিকল্পনা হয়েছে। কিন্তু সেটির অনুমোদন নিতে হয়েছে ঢাকা থেকে। সভাপতির সবুজ সংকেতেই বাংলাদেশের শততম টেস্টের দুই দিন আগে নির্ধারিত হয় এই ক্রিকেটারের ভাগ্য, ‘ও যে টেস্ট খেলবে না, এখানে তো আমার সিদ্ধান্ত লাগবে। ’ যদিও এ ব্যাটসম্যানকে ওয়ানডে স্কোয়াডের বাইরে রাখার কোনো প্রস্তাব তাঁর অনুমোদনের জন্য যায়নি বলেও দাবি করলেন নাজমুল, ‘ও যে ওয়ানডে স্কোয়াডে নেই, এরকম কথা কেউ আমাকে বলেনি। আমার কাছে তো আসতে হবে আগে।

আমার কাছে না এলে কে কী বলল, সেটি ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। ’

প্রচার আছে যে অন্য নির্বাচকদের সঙ্গে হেড কোচ আলোচনার ধার ধারেন না খুব একটা। সরাসরি বোর্ড সভাপতি পর্যন্ত চলে যান। এই খবরও সঠিক নয় বলে দাবি করলেন নাজমুল, ‘চন্দিকা আমার কাছে কিছু পাঠায় না। আমার কাছে দলের তালিকা পাঠায় নির্বাচকরা। ’ এই শততম টেস্টে একাদশে আরো বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্যই নাকি তিনি কলম্বোয় এসেছেন, ‘রিয়াদ আগে পারফর্ম করত, এখন করে না। তাও ওকে খেলাতে হবে? যেখানে দলই নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা বসে থাকব না। আরো পরিবর্তন আসত। তাই আমি এখানে চলে এসেছি। লিটন চোটে পড়ায় আরো পরিবর্তন আনা লাগেনি। ধরুন লিটন চোটে পড়েনি, তাহলে আরেকজনও বাদ পড়তে পারত। ’ কে তিনি? সেটি অবশ্য নাজমুল খোলাসা করেননি।  

তা না করলেও আইসিসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে গতকাল শশাঙ্ক মনোহরের সরে যাওয়ার ঘটনায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নাজমুল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে, আইসিসিতে মনোহরের প্রস্তাবিত পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিসিবি। হাত মিলিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও। এই খবর আরো ভিত্তি পায় কলম্বোয় ভারতীয় বোর্ডের প্রধান নির্বাহী রাহুল জহুরীর উপস্থিতিতে। যদিও নাজমুল জানালেন, আগামী বছর মার্চে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ চূড়ান্ত করতেই তাঁদের একসঙ্গে বসা। ঠিক হয়েছে আগামী বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ৭ ম্যাচের আসরে ভারত ও স্বাগতিকদের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশও।

ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে গোপন সমঝোতা নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি দেশের স্বার্থই দেখেছেন বলে জানালেন নাজমুল, ‘বাংলাদেশ যদি বেশি টাকা পায়, সেটা আমি না করব কী করে!’ অবশ্য গতকাল পি সারা ওভারের প্রেসিডেন্ট বক্সের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আরেক বোমাও ফাটিয়েছেন তিনি। সেটিও মাহমুদ উল্লাহ ইস্যুতে। এই বলে কঠোর এক বার্তাও দিতে চেয়েছেন তিনি, ‘কেউ বাদ পড়লে ক্ষণিকের জন্য তাঁর মন খারাপ হতেই পারে। কিন্তু এর প্রভাব যদি দলে পড়ে, তাহলে এদের বাংলাদেশ দলেই থাকার দরকার নেই। কাউকে ড্রপ করলে যদি দলে প্রভাব পড়ে, এরকম কাউকে আমার দলেই দরকার নেই। এই বার্তাটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। ’


মন্তব্য