kalerkantho


না থেকেও আছেন মাহমুদ উল্লাহ

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কলম্বো থেকে প্রতিনিধি : মাহমুদ উল্লাহকে দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে একপ্রস্ত নাটকের জের টানতে হলো মুশফিকুর রহিমকেও। শততম টেস্টের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে বসতে না বসতেই পড়লেন বিব্রতকর প্রশ্নের মুখে।

শ্রীলঙ্কান এক সাংবাদিক জানতে চাইলেন মাহমুদ উল্লাহ ইস্যুতে দলের মনোযোগটা একটু সরে গেল কি না। সরে গেছে কি যায়নি, বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক অবশ্য সে প্রসঙ্গেই গেলেন না। বরং বলে দিলেন, ‘মাহমুদ উল্লাহ ফিরে যাচ্ছেন না। উনি যেহেতু ওয়ানডে স্কোয়াডে আছেন, তাই দলের সঙ্গেই থাকছেন। ’ থাকছেন কিন্তু শততম টেস্ট খেলছেন না, ব্যাট হাতে নামছেন না। দলের সঙ্গে থেকেও অনন্য মাইলফলকের অংশ হতে না পারার যাতনাও তো কম নয়। মুশফিক তা জানেন বলেই মাহমুদ উল্লাহর কষ্ট উপশমের একটা চেষ্টাও সদলবলে করতে চান।

মাহমুদ উল্লাহর ঘটনায় তাঁরা সদলবলে আক্রান্তও হয়েছেন। আগের দিন ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের কথায় সেটি স্পষ্ট ছিল।

মুশফিক চেপে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মনোবেদনা প্রকাশই করে ফেললেন, ‘এ রকম ঘটনা যেকোনো ক্রিকেটারের সঙ্গেই হতে পারে। ফর্মে থেকে যে কেউ এভাবে ফর্ম হারিয়ে ফেলতে পারে। এটা তেমন একটা প্রভাব ফেলবে না। যদিও খারাপ লাগছে। ওনার মতো সিনিয়র একজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে এটা হলো। ’

একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি দেশেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আহত সতীর্থরা অবশ্য এখন কিছুটা সুস্থির হতে পারছেন মাহমুদ উল্লাহ থেকে যাচ্ছেন বলে। কলম্বোয় থেকে গেলেও আপাতত তাঁকে দলের অংশ বলে মনে হচ্ছে না কিছুতেই। যদিও একাদশের বাইরে ছিটকে পড়লেও তিনি তো টেস্ট স্কোয়াডেরই অংশ। কিন্তু শততম টেস্টের আগের দিন বাংলাদেশ দলের অনুশীলন দেখে সেটি বোঝা কঠিনই ছিল। পি সারা ওভালে দুপুরের অনুশীলনে তো মাহমুদ উল্লাহ আসেনইনি, রয়ে গিয়েছিলেন হোটেলেই। অন্যরা যখন তপ্ত রোদে শ্রম নিংড়ানো অনুশীলনে ব্যস্ত, তখন বিশ্রামে থাকা মাহমুদ উল্লাহকে ঘিরে যেন এক সংকটই তৈরি হয়ে গেছে দলের মধ্যে। আর নানা সংকটে বারবারই পুরো দলকে একতাবদ্ধ হয়ে মাঠে নিজেদের মেলে ধরতে দেখা গেছে। এবারও কি যাবে? সংবাদ সম্মেলন শেষ করে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার পথে এমন প্রশ্নে যদিও মুশফিক এটিকে ‘সংকট’ বলে মানতে রাজি হলেন না। তাই বলে এ ঘটনা যে মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অনুপ্রাণিত করছে, সেই ইঙ্গিতও আছে তাঁর কথায়, ‘এটা ঠিক সংকট নয়। তবে আমরা একটা জবাব তো দিতে চাইবই। এই টেস্টে আমরা এমন কিছু করতে চাই, যাতে রিয়াদ ভাইকে একটা ট্রিবিউট দেওয়া যায়। ’

জবাব দেওয়ার চিন্তা যদি মুশফিকদের সেরা খেলাটা বের করে আনে, তাহলে বলা যায় এই টেস্টে ভালো কিছুই ঘটতে চলেছে। ঘটলে এই সফরে ভালো করার প্রত্যাশাও পূরণ হয় অনেকটা। এখানে আসার আগে থেকেই বাংলাদেশ শিবির থেকে বলে আসা হচ্ছে যে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্টে তাঁদের হারানোর এটাই সেরা সুযোগ। গলে সে প্রত্যাশা বড় এক ধাক্কাই খেয়েছে। তাই বলে প্রত্যাশার চাপ যে কমেছে, তা নয়। বরং শততম টেস্টকে ঘিরে ভালো কিছুর প্রত্যাশাটা আছে আগের মতোই।

সেটিও আবার চাপ হয়ে উঠবে না তো? এখানেও মুশফিকের না, ‘সে রকম নয় ব্যাপারটা। প্রতিটি টেস্টেই প্রত্যাশা থাকে। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন যে জায়গায় এসেছে; টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—যেটাই খেলুন না কেন, সবাই আশা করে বাংলাদেশ যেকোনো ম্যাচই জিততে পারে। এটাই তো অনেক বড় একটা অর্জন। ’ প্রত্যাশা থেকে তাঁর দলের খেলোয়াড়রা বরং আরো অনুপ্রাণিত হন বলেই দাবি করলেন টেস্ট অধিনায়ক, ‘এই প্রত্যাশা থেকেই খেলোয়াড়রা অনুপ্রাণিত হয় এবং মাঠে গিয়ে পারফরম করতে মুখিয়ে থাকে। হয়তো শেষ টেস্টে সেটা হয়নি। ’

গলে হয়নি বলে যে পি সারা ওভালেও হবে না, ব্যাপারটি তো আর তা নয়। ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তাই আছে এবং আছে শততম টেস্টের প্রেরণাও। সেই সঙ্গে কম নেই মাহমুদ উল্লাহ সূত্রে বিশেষ কিছু করার তাড়নাও!


মন্তব্য