kalerkantho


কলম্বোর ডায়েরি

৫০০ নয়, ১০০-ই বড়!

মাসুদ পারভেজ, কলম্বো থেকে   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ক্লাইভ লয়েডের সাক্ষাত্কার নেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা যখন ব্যর্থ, তখনই আশার আলো জ্বেলে সামনে হাজির ফিলিপ স্পুনার। এই ভদ্রলোক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডাব্লিউআইসিবি) মিডিয়া ম্যানেজার।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রেনাডিনসের আর্নস ভেল স্পোর্টস কমপ্লেক্সের প্রেস বক্সে বাংলাদেশের কয়েকজন সাংবাদিককে অন্য এক রোমাঞ্চের অপেক্ষায়ও প্রহর গোনাতে শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি, ‘আপনারা সেন্ট লুসিয়ায় আসুন। ওখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫০০তম টেস্ট উপলক্ষে মিস্টার লয়েড নিশ্চয়ই কথা বলবেন। ’

সেই থেকে কল্পনায় অনেক কিছু এঁকে নেওয়ার শুরুও। সেন্ট ভিনসেন্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাংবাদিক ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন। ধরে নেওয়া অস্বাভাবিক ছিল না যে ৫০০তম টেস্ট উপলক্ষে ক্যারিবীয় সাংবাদিকরা নিশ্চয়ই সেন্ট লুসিয়ার বোশেজো স্টেডিয়ামে হুমড়ি খেয়ে পড়বেন এবং একটা উৎসব উৎসব ভাবও থাকবে। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন স্টেডিয়ামে গিয়েই ধাক্কা খাওয়ার শুরু। ক্যারিবীয় অধিনায়ক দীনেশ রামদিনের সংবাদ সম্মেলনে ওই দ্বীপপুঞ্জের কোনো সাংবাদিকই নেই!

উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের মতো মিডিয়া ম্যানেজারও রামদিনের মুখের সামনে একটা রেকর্ডার ধরে রেখেছেন। জানালেন, তাঁর পাঠানো অডিও ফাইলেই কাজ সারবেন বিভিন্ন দ্বীপের সাংবাদিকরা! যদিও সেদিনই ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনন্য সেই মাইলফলককে বিশাল কিছুই মনে হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের, ‘৫০০তম টেস্ট!’ কিন্তু যাঁদের উপলক্ষ, তাঁদেরই কেবল কোনো খোঁজ ছিল না। ম্যাচের দিনও উৎসবের আমেজ নিয়ে আসার কোনো ব্যাপার ছিল না।

ছোটখাটো এক আয়োজন ছিল, সেটিও ক্যারিবীয় ক্রিকেটের অজস্র কীর্তিমান ক্রিকেটারের কাউকে নিয়ে নয়।

ম্যাচ শুরু হয়ে যাওয়ার পর একদিন সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক এক সভাপতিকে। যেখানে আমন্ত্রিত লয়েড এবং কোর্টনি ওয়ালশের মতো কিংবদন্তিরা ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিখ্যাত ‘রাম’ সুধা পান করেই ফিরে গিয়েছিলেন। সেই ওয়ালশ এখন বাংলাদেশের বোলিং কোচ। বাংলাদেশের শততম টেস্টের আগে যিনি নিজেও এমন উপলক্ষকে স্মরণীয় করে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ফাস্ট বোলারদের অনুপ্রাণিত হতে বলছেন। অথচ নির্বাচক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫০০তম টেস্টে দেখেছেন নিস্তরঙ্গ আবহই!

বোশেজোর পর পি সারা ওভালের আবহ দেখে অবশ্য মনে হতেই পারে যে ৫০০ নয়, ১০০তম টেস্টের উপলক্ষটাই বোধ হয় বড়! ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শ্রীলঙ্কা দূরের বিদেশ নয়, তাই দেশীয় সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। গতকাল মুশফিকের সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান সাংবাদিকদের হাজিরাও চোখে পড়ার মতো। এসে যোগ দিয়েছেন ভারতীয় এক পত্রিকার প্রতিনিধিও। আজ সকালে উপলক্ষটা স্মরণীয় করে রাখতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটও (এসএলসি) কিছু আয়োজন রেখেছে। যদিও সেদিনই এসএলসি সভাপতি থিলাঙ্গা সুমাথিপালা বলে দিয়েছেন যে শততম টেস্ট বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে করলেই ভালো করত, ‘আমরা হলে কিছুতেই এ রকম উপলক্ষে দেশের বাইরে খেলতাম না। ’

কখন মুশফিকরা শততম টেস্ট খেলবেন, সেটি খেয়াল থাকলেই না উদ্যোগটা নেওয়া যেত! তা যখন নেওয়া যায়নি, তখন শ্রীলঙ্কায়ই পূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট অভিযাত্রার একটি চক্র। যেটি ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর শুরু হয়েছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সারা ক্রিকেটবিশ্বের গণমাধ্যমও উপচে পড়েছিল সেখানেই। সেই সময়ের তুলনায় ক্রিকেট এখন অনেক বদলেছে, বদলেছে মাঠের বাইরের অনেক কিছুও। আগে ক্রিকেটারদের হোটেল রুমে সাংবাদিকদের অবাধ যাতায়াতে বাধা ছিল না। এমনকি বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের চতুর্থ দিনের সকালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমের সামনে বসে তখনকার ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর সাক্ষাত্কারও নিয়েছিলাম! সেসব এখন দূরের অতীত হলেও ক্রিকেট নিয়ে উপচানো আবেগটা এখনো বর্তমান। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে তা অস্তাচলে যেতে পারে, তবে ভারতীয় উপমহাদেশে কিছুতেই নয়।

৫০০-র চেয়ে ১০০-ই বেশি অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে বোধ হয় এ জন্যই!


মন্তব্য