kalerkantho


পারল না আবাহনী

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পারল না আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যায় দিন ভালো। গত মাসে শেখ কামাল টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর আবাহনী বুক বেঁধেছিল এএফসি কাপ নিয়ে। দলের প্র্যাকটিস হবে, আরো ভালো খেলবে। সেই আশায় গুড়ে বালি। ঘরের মাঠেই প্রথম ম্যাচে লিগ চ্যাম্পিয়নরা ২-০ গোলে হেরেছে মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টসের কাছে। আবাহনীকে পাঁচ ডিফেন্ডার নামাতে দেখেই পরিষ্কার হয়ে গেছে তাদের উদ্দেশ্য। ফরোয়ার্ড লাইনে একা এমেকা ডারলিংটন। এই ফরমেশনে স্পষ্ট হয়ে যায় গোলপোস্ট সুরক্ষিত রাখাটাই স্বাগতিকদের প্রধান কাজ। আর সে কাজে গলদ শুরুতেই। চার মিনিটে দ্রুতগতির ওয়ান টাচ ফুটবলে গোল খেয়ে বসে। আসাদুল্লাহ আবদুল্লাহর থ্রু বলটি ইমাজ আহমেদের পা ঘুরতেই আবাহনী ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে খুলে যায় গোলমুখ।

ইমাজ আহমেদ লক্ষ্য ভেদ করেন গোলরক্ষক শহীদুল আলমের পাশ দিয়ে। শুরু থেকেই চাপে স্বাগতিকরা। সেই চাপ আর নিঃসরণ করতে পারেনি, শেষে বরং চাপ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

ওই গোলের পর মাজিয়া পিছিয়ে যায়। আর গোলের দরকার নেই, আবাহনীকে মাঠ ছেড়ে দিয়ে শক্তি পরীক্ষা নেয় মালদ্বীপের দলটি। সফরকারীরা উইং ধরে আক্রমণে ওঠে; কিন্তু একবারের জন্যও প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। ডান দিক দিয়ে কয়েকবার আক্রমণে ওঠে। মামুন মিয়া আর রুবেল মিয়া মিলে ওঠে; কিন্তু একটা ক্রসও এমেকার মাথা ছোঁয়াতে পারেনি। সবেধন নীলমণি হয়ে থাকেন এই নাইজেরিয়া ফরোয়ার্ড, অন্যদের যেন বক্সে যেতে মানা! একটি ক্রসও মাজিয়ার দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করতে পারেনি। তা ছাড়া বিফলে গেছে প্রথমার্ধের পাঁচটি কর্নারও। কর্নার কিকগুলো গেছে পোস্ট ঘেঁষে আর সবগুলোই খুব সহজে জমা হয়েছে ভীষণ লম্বা কিরগিজ গোলরক্ষকের হাতে। মালদ্বীপের এই দলের বিপক্ষে উইং ধরে খেলে সুফল মিলবে না। বল ঘুরবে দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের মাথায়। বল মাটিতে রেখে খেলতে পারলে, থ্রু বল কিংবা ওয়াল পাসে খেলে খুলতে হবে গোলমুখ। কিন্তু আবাহনীর যে সেই সামর্থ্য নেই, মাঝমাঠে নেই সৃষ্টিশীলতা। আবাহনী কোচ দ্রাগো মামিচের দাবি, ‘তাদের গলা ফাটিয়ে বলেছি, বল মাটিতে রেখে খেলতে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। ’ দ্বিতীয়ার্ধে দু-দুবার এভাবে খেলে ডিফেন্সকে ঘোল খাইয়েছিল। ৭৮ মিনিটে বাঁদিক থেকে এমেকা ও ইমন মাহমুদ দুটো পাস খেলে সুযোগ তৈরি করেও শট নিতে পারেননি গোলে। শেষ মুহূর্তেও এ রকম এক মুভে নাবীব নেওয়াজ ভালো জায়গায় বল পেয়েও কিছু করতে পারেননি।

প্রথমার্ধে যে মামুন মিয়া একটু চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাঁকে তুলে স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজকে নামিয়েছে আবাহনী। স্বাগতিক কোচ দ্রাগো মামিচের ব্যাখ্যা, ‘মামুন একটু ইনজ্যুরড ছিল। তা ছাড়া সে প্রতিপক্ষ সীমায় গিয়ে বল হারানোয় কাউন্টার হচ্ছিল। এ জন্য তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। ’ কিন্তু মামুনকে তুলে নেওয়া আর রায়হানকে রাখাটা যে কত বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, সেটা দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে বোঝা যাচ্ছিল। রাইটব্যাক রায়হান ওয়ান টু ওয়ানে কোনো ফরোয়ার্ডকে রাখতে পারেনি। তাঁর প্রান্ত ধরেই মাজিয়া আক্রমণ করেছে বেশি। ৮৭ মিনিটে শেষ গোলেও আবাহনীর এই ডিফেন্ডারের অবদান অনেক। কাউন্টারে আসাদুল্লাহ আবদুল্লাহকে রাখতে পারেননি, দৌড়ে রায়হানকে পেছনে ফেলে মালদ্বীপের এই স্ট্রাইকার ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেছেন। মাজিয়া স্পোর্টসের মেসিডোনিয়ান কোচ মারজান সেকুলোভস্কি দারুণ খুশি, ‘শুরুতে গোল করার পর পিছিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা ছিল না আমার। কিন্তু খেলোয়াড়রা গোলটা ধরে রাখতে গিয়ে হয়তো আবাহনীকে খেলার জায়গা দিয়েছে, তবে গোলের ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তারা আবার দাপট দেখিয়ে খেলেছে এবং আরেকটি গোল বের করে নিয়েছে। ’

আর মামুনের জায়গায় স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজকে নামিয়েও আবাহনী প্রতিপক্ষের পোস্টে বলার মতো একটি শটও নিতে পারেনি। যে খেলোয়াড়দের পায়ে শট নেই, তাঁরা ম্যাচ জিতবেন—এমন প্রত্যাশাও তো ঠিক নয়। সেটা করেননি আবাহনীর কোচ দ্রাগো মামিচও! মন্টেনেগ্রোর কোচ ম্যাচ শেষে সন্তুষ্টির কথাই বলেছেন, ‘আমি খুশি তাদের খেলা দেখে। অল্প সময়ের প্র্যাকটিসে তারা এত ভালো খেলবে, সেটা আমি আশা করিনি। ’

আবাহনী : শহীদুল আলম, ওয়ালি ফয়সাল, সামাদ ইউসিফ, রায়হান মাহমুদ, ইয়াসিন আহমেদ, মামুন মিয়া (নাবীব নেওয়াজ) সোহেল রানা, রুবেল মিয়া, ইমন মাহমুদ, জোনাথন, এমেকা।


মন্তব্য