kalerkantho


স্মৃতির সোনালি ফ্রেমে বাঁধাই হতে চান সবাই

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



স্মৃতির সোনালি ফ্রেমে বাঁধাই হতে চান সবাই

তাঁর ৬৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংসটির কথা হয়তো খুব কম লোকেই মনে রেখেছে। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে আমিনুল ইসলামের ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি কিংবা হাবিবুল বাশারের ফিফটির পর আকরাম খানের খেলা ছোট্ট ইনিংসটির সেভাবে গুরুত্ব না পাওয়াই স্বাভাবিক।

তবু পাল্টা আক্রমণে ভারতীয় বোলারদের ভড়কে দেওয়া সেই ইনিংস নিয়ে এখনো উত্তেজনায় টগবগ করে ফোটেন একজন। কে তিনি? আজ শততম টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নামার অপেক্ষায় থাকা তামিম ইকবাল। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির বাসায় বসে টেলিভিশনে দেখা চাচার ছোট্ট ইনিংসেও ভাতিজার জন্য ফুটেছিল আজীবন সৌরভ ছড়ানোর মতো এক গৌরবের ফুল, ‘চাচা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ছক্কাটি কিন্তু উনিই মেরেছিলেন। মনে আছে, বাঁহাতি স্পিনার সুনীল যোশীকে উড়িয়ে মেরেছিলেন সেটি। ’ ইতিহাস যখন এত খুঁটিনাটি ব্যাপারও সযত্নে ধরে রাখে, তখন দেশের শততম টেস্টে স্মৃতির সোনালি ফ্রেমে বাঁধাই হয়ে থাকার মতো কিছু করার তাড়না তো থাকবেই। এই যেমন তরুণ তাসকিন আহমেদকে সাফল্যের আশায় আরো মরিয়া করে তুলেছে। মাস দুয়েক আগে টেস্টে অভিষিক্ত তরুণ ফাস্ট বোলার বলছিলেন, ‘আমার সৌভাগ্য যে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই বাংলাদেশের শততম টেস্ট খেলার মতো একটি উপলক্ষ পেয়ে যাচ্ছি। এমন কিছু করতে চাই, যাতে আমিও স্মরণীয় হয়ে থাকি। ’ আর এটা তো সবারই জানা যে মৃদুভাষী মুস্তাফিজুর রহমানের মুখে কথার খই কখনোই ফোটে না। তাসকিনের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু বলে দিলেন, ‘আপনারা জিজ্ঞেস করলে কী বলব, আগের দিন হোটেলে তাসকিনের কাছেই জানতে চেয়েছিলাম। ও যা বলল, সেটাই বলতে বলেছে!’

ইমরুল কায়েসের চাওয়া অবশ্য অত বড় কিছু নয়। এ জন্যই যে ‘ভাগ্য আমাকে এখানে টেনে নিয়ে এসেছে। আমার তো এই সিরিজেই থাকার কথা নয়। সুযোগ পেলে দলের কাজে লাগে, এ রকম পারফরম্যান্স করতে চাই। ’ দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের মতো বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের স্মৃতি অত পরিষ্কার নয় তরুণদের। সৌম্য সরকারের যেমন আবছা মনে আছে, ‘বুলবুল ভাইয়ের সেঞ্চুরিটার কথা অল্প অল্প মনে করতে পারি। ’ তত দিনে বেশ বড় হয়ে যাওয়া টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সে সমস্যা নেই, ‘২০০০ সালে বাংলাদেশ যখন টেস্ট স্ট্যাটাস পায়, আমি তখন বিকেএসপিতে ক্লাস সেভেনে পড়ি। ওখানে বসেই দেখেছিলাম অভিষেক টেস্ট। ’

সাকিব আল হাসানের অভিষেক টেস্ট দেখার স্মৃতিটা মাগুরায়, ‘আমার বয়স তখন ১৩ বছর। মাগুরায় টিভিতে খেলা দেখেছিলাম। তখন তো দেশের হয়ে খেলার কথা মাথায়ই আসেনি। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলার সময়। ’ মুশফিকের স্বপ্ন দেখার শুরু অভিষেক টেস্ট দেখার সময় থেকেই। সেই স্বপ্ন লর্ডসে অভিষেকের মধ্য দিয়ে ২০০৫ সালেই পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবেও ইতিহাসে নিজের নামটি স্থায়ীভাবে খোদাই করে ফেলা মুশফিকের কাছে দেশের শততম টেস্টটি অন্য সবার চেয়ে আলাদা মাত্রাও পাচ্ছে, ‘নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অধিনায়ক হিসেবে খেলাটা আমার জন্যও অনেক বড় ব্যাপার। ’

গত কিছুদিন ব্যাট হাতে ছন্দে থাকা অধিনায়কের মতো দলের সবাইও মুখিয়ে এমন উপলক্ষে পারফরম্যান্সের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠতে। যাতে দলও সাফল্যের আভায় আলোকিত হয়। পি সারা ওভালে অনুশীলনের ফাঁকে কী এক কাজে ড্রেসিংরুমে ঢোকার পথে নিজেদের চাওয়াটা এক কথায় প্রকাশ করে গেলেন সৌম্য সরকার, ‘জয়’। পরে ব্যক্তিগত চাওয়ার কথাও বলতে ভুললেন না গল টেস্টের দুই ইনিংসে ফিফটি করে আউট হওয়া এ ওপেনার, ‘এবার ফিফটি করলে আর কিছুতেই সেঞ্চুরি না করে ফিরছি না। ’

তামিম ইকবাল অবশ্য সবার স্মৃতিতে নিজেকে ফিরিয়ে আনতে চান বাংলাদেশের ২০০তম টেস্টের সময়, ‘পারফরম্যান্স দিয়ে আমরা সবাই ম্যাচটিকে বিশেষ কিছু বানাতে চাই। এমন কিছু করতে চাই, যাতে ২০০তম টেস্ট খেলার সময় এই ম্যাচটির কথাও আসে। ’ যেমন এসেছে শততম ম্যাচ খেলার আগে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের কথাও।


মন্তব্য