kalerkantho


চিন্তা করো না, বাংলাদেশ ভালো দল

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চিন্তা করো না, বাংলাদেশ ভালো দল

প্রশ্ন : শ্রীলঙ্কায় তো এবার নতুন এক অধ্যায়ই শুরু করলেন। এই অধ্যায়টি কেমন ছিল?

ডেভ হোয়াটমোর : হ্যাঁ, নতুন অধ্যায়ই কিন্তু একেবারেই ছোট। হাতে অলস সময়ও ছিল কিছু, আর ব্যাটে-বলেও মিলে গেল। ব্যস, চলে এলাম স্কুল দল নিয়ে কাজ করতে। মাউন্ট লেভিনিয়ার বিখ্যাত স্কুল সেন্ট টমাসের ছেলেদের নিয়ে কিছু সময় পার করলাম আর কি! ওরা মাত্রই দারুণ উত্তেজনায় ঠাসা একটি ম্যাচ শেষ করল।

প্রশ্ন : কোন ম্যাচের কথা বলছেন? ‘ব্যাটল অব দ্য ব্লুজ’?

হোয়াটমোর : ঠিক ধরেছেন। টানা ১৩৮ বছর ধরে রয়্যাল কলেজ কলম্বো আর সেন্ট থমাসের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী এই লড়াইটি হয়ে আসছে। এমনকি শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের সময় আরো অনেক কিছু বন্ধ হয়ে গেলেও এটি হয়নি। প্রতিবছর নিয়ম করেই লড়াইটি হয়ে এসেছে। এই ম্যাচ দেখতে লোকে বিদেশ থেকেও আসে। আপনি তো গল টেস্টই কাভার করে এলেন।

কেমন দর্শক হয়েছে, তা তো দেখেই এসেছেন। অথচ এই দুই স্কুলের ম্যাচে দর্শক হয়েছে ২০ হাজারের বেশি। ম্যাচটি ড্র হয়েছে তবে আবহাওয়া খারাপ না থাকলে আমার দলই জিতত।

প্রশ্ন : আপনার দল? আপনার দল তো হওয়ার কথা ছিল রয়্যাল কলেজ কলম্বো। কারণ আপনি তো এই স্কুলেরই ছাত্র ছিলেন।

হোয়াটমোর : (হাসি...) হ্যাঁ, ওই স্কুলেই পড়েছি। কিন্তু আত্মার সম্পর্ক তৈরি হতে যতটা সময় লাগে, ততটা সময় ছিলাম না। মাত্র দুই বছর পড়েছি। এরপর তো অস্ট্রেলিয়ায়ই চলে গেলাম। আমাকে তাই শত্রু বানিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন : পেশাদার কোচ হিসেবে স্কুল দলের উপদেষ্টা হয়ে আসার ব্যাপারটি নিশ্চয়ই অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়?

হোয়াটমোর : অবশ্যই নয়। কিন্তু আমি তো এখানে টাকার জন্য আসিনি। আরেকটি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কিছুদিন সময় থাকায় এখানে চলে এলাম।

প্রশ্ন : কোথায় যোগ দিচ্ছেন?

হোয়াটমোর : এই তো ভারতের ভিসা পেয়ে গেলে দু-এক দিনের মধ্যেই আমার নতুন কর্মস্থল চেন্নাইয়ের শ্রী রামাচন্দ্র ইউনিভার্সিটিতে যোগ দিচ্ছি। ওরা একটি আন্তর্জাতিক একাডেমি খুলতে চলেছে। আমি ওটার ডিরেক্টর। নিশ্চয়ই জানেন যে সন্দেহজনক বোলারদের অ্যাকশনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও ওখানে হয়ে থাকে। বাংলাদেশেরও সম্ভবত দু-একজন বোলারকে সেখানে যেতে হয়েছিল। যাক, কিছুদিন ছুটি কাটানোর পর আবার পুরোদমে কাজ শুরু করতে চলেছি ওখানেই।

প্রশ্ন : এখন থেকে কি তাহলে শুধুই বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে কাজ করবেন? নাকি প্রস্তাব পেলে আবার কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নেবেন?

হোয়াটমোর : জাতীয় দলের দায়িত্ব আর নয়। অনেক তো হলো। বয়স ৬৩ হয়ে গেছে। আর কত? এখন খুদে ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করতে চাই। শেখানোর সুযোগটা ওদের ক্ষেত্রেই বেশি।

প্রশ্ন : শেখার বয়সে তো আপনার হাতে পড়েছিলেন বিরাট কোহলিও।

হোয়াটমোর : আমার সৌভাগ্য যে ওকেই শুধু নয়, পেয়েছিলাম রবীন্দ্র জাদেজাকেও। অবশ্য একেবারেই অল্প কিছুদিনের জন্য। আমি তখন এনসিএ-তে (ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমি) কাজ করি। ওরা এসেছিল ২০০৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে। কোহলির মধ্যে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণটা দেখেছি তখনই। ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে ও এখনই যে উচ্চতায় তুলে নিয়েছে, আমি বলব এই উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকাই রেখেছে ওর ওজন কমানোটা। পরিশ্রম বাড়িয়ে, ওজন কমিয়ে এবং কঠোর অনুশীলন চালিয়ে গিয়ে ও আরো খাঁটি ক্রিকেটার হয়েছে।

প্রশ্ন : আপনি খুব তাত্পর্যপূর্ণ সময়ে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন। ২১ বছর আগে এই মার্চেই তো শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ জিতেছিল। তা বিশ্বজয়ী দলের কারো সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ হয় নিয়মিত?

হোয়াটমোর : গতকাল সন্ধ্যায়ও তো ছিলাম অরবিন্দ ডি সিলভার বাসায়। অর্জুনা রানাতুঙ্গাও এসেছিল। তুমুল আড্ডায় পেয়েছিলাম অশাঙ্ক গুরুসিনহাকেও। অরবিন্দের বাসা থেকে এসে আমরা ডিনার সারলাম এখানে (যে রেস্তোরাঁয় বসে সাক্ষাত্কার দিচ্ছিলেন)। আমাদের নিয়মিত দেখা হয় না, তবে মাঝেমধ্যেই হয়।

প্রশ্ন : বিশ্বজয়ের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত কিছু ম্যাচেও আপনি খেলেছেন বলে শুনেছি।

হোয়াটমোর : আমি যে শহরে থাকি, সেই মেলবোর্নের ম্যাচটিতে থাকতে পারিনি। কারণ তখন আপনাদের বিপিএলে ছিলাম। পরে সিডনির টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে অর্জুনা ব্যথা পাওয়ায় আমাকেও নামতে হয়েছিল। মুত্তিয়া মুরালিধরন ও উপল চন্দনা থেকে শুরু করে রমেশ কালুভিথারানা, প্রায় পুরো দলের সঙ্গেই দেখা হওয়াটা ছিল অসাধারণ অনুভূতি।

প্রশ্ন : কোথায় যেন অরবিন্দ ডি সিলভার ব্যাটিং নিয়েও আপনার মুগ্ধতার কথা পড়েছিলাম?

হোয়াটমোর : ওহ মাই গড! সিডনিতে এককথায় অসাধারণ ব্যাটিং করেছিল অরবিন্দ। ৬০-৭০ রানের কুইক ফায়ার করেছিল। আসলে টি-টোয়েন্টি খেলাটা ওর জন্যই। আমি বলব ভুল সময়েই অরবিন্দের জন্ম হয়েছিল। সিডনিতে ওর ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি যে বহুকাল আগে খেলা ছেড়ে দিয়েছে। ধরুন ১৯৯৬-র বিশ্বকাপ জয়ের পর আপনাকে ২০ বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এরপর জেগে উঠে সিডনির ব্যাটিং দেখলে আপনি কোনো পার্থক্যই বের করতে পারতেন না। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক সে ব্যাপারটি ঘটেছে বলতে পারেন! রানিং বিটুইন দ্য উইকেট একটু ধীরগতির হয়েছে অবশ্য। এটা বাদ দিলে অরবিন্দের ব্যাটিং আছে সেই আগের মতোই!

প্রশ্ন : গল টেস্টের বাংলাদেশকে কেমন দেখলেন?

হোয়াটমোর : জানেন তো আমি স্কুলের ম্যাচে ব্যস্ত ছিলাম। তাই খেলা খুব দেখা হয়নি। তবে খোঁজখবর রেখেছি। শেষটা হতাশার। এমনিতে গত কয়েক বছরের গলের উইকেট নিয়ে সুনাম নেই। অথচ এবার দারুণ উইকেট। সেখানে দ্বিতীয় ইনিংসটাই ডোবাল। বাংলাদেশ আরো ভালো লড়াই করলে খুশি হতাম।

 

প্রশ্ন : এবার আপনার মুখ থেকে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেকে নিয়ে মূল্যায়নটা শুনতে চাই।

হোয়াটমোর : ভেরি গুড থিঙ্কার অব দ্য গেম। আর ও তো গ্রেগ চ্যাপেলের মতো সুপারস্টারও ছিল না। সুপারস্টার ছিল না বলেই হাতু বড় কোচ হতে পেরেছে। কারণ দলে জায়গা ধরে রাখতে ওকে লড়াই করতে হয়েছে। টিকে থাকার জন্য পরিশ্রমের নিত্যনতুন উপায় নিয়েও ভাবতে হয়েছে। তাই বলে ও খারাপ খেলোয়াড় ছিল না কিন্তু। অল্পের জন্য ১৯৯৬-র বিশ্বকাপ দলে জায়গা পায়নি।


মন্তব্য