kalerkantho


বিতর্কিত কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের বন্ধু

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিতর্কিত কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের বন্ধু

তাঁর ক্রিকেট সংশ্লিষ্টতাকে বাঁকা চোখে দেখার লোকের অভাব নেই কোনো। এঁদের অন্যতম শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গাও। যদিও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সবশেষ নির্বাচনে হেরেছেন, তবু বিজয়ী থিলাঙ্গা সুমাথিপালার চতুর্থবারের মতো বোর্ডের সভাপতি হওয়াটা মেনে নিতে পারেননি ‘ক্যাপ্টেন কুল’। পারেননি কারণ, ‘এ জন্যই আমি ভীত যে ওর অতীতটা আমি জানি। ’

অতীতই শুধু নয়, তাঁর বর্তমান নিয়েও কানাঘুষা কম নেই। সেটি মূলত তাঁর পারিবারিক ব্যবসার জন্যই। তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন সুমাথি গ্রুপের যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিনি। যে গ্রুপের অধীনে আছে ‘স্পোর্টিং স্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানও। যেটি যুক্তরাজ্যে ঘোড়দৌড়ের বেটিং ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করে থাকে। ক্রিকেটে বেটিং যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে নিজেদের দেশে এই খেলাটির সর্বোচ্চ ব্যক্তি জড়িত ওই ব্যবসায়। থিলাঙ্গা সুমাথিপালাকে তাই বিতর্কিত চরিত্র বলেই মনে করে থাকেন অনেকে।

অবশ্য তিনি বারবারই দাবি করে আসছেন যে বেটিং ব্যবসাটা তিনি এখন দেখেনই না, সেটি পরিবারের অন্যরা দেখাশোনা করে থাকেন। কিন্তু তাতেও কি আর সন্দেহ দূর হয়!

হয় না বলেই সুমাথিপালাকে নিয়ে লোকজন দুই ভাগে ভাগ হয়ে থাকেন। এক ভাগে তাঁর অনুসারীরা তো অন্য ভাগে সমালোচকরা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবশ্য প্রথম ভাগেই থাকার কথা। কারণ সুমাথিপালা তো বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়েও বাজি ধরেছিলেন। তা নয়তো কী? টেস্ট মর্যাদা দিলে বাংলাদেশ এর মান রাখতে পারবে না বলে ক্রিকেট বিশ্বের একটি অংশ যখন সোচ্চার ছিল, তখন এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়াদের একজন ছিলেন এই সুমাথিপালাও। কারণ তখনো তিনি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি। ১৯৯৭ সালে প্রথমবার সভাপতি হওয়ার সময় তাঁর বয়স মোটে ৩৩ বছর। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি ২০০৪ পর্যন্ত একই পদে ছিলেন আরো দুই মেয়াদেও। ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সময়েও তিনি সভাপতি।

আইসিসির বোর্ড সভায় টেস্ট মর্যাদার আবেদন টিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুমাথিপালার বোর্ডের মূল্যবান ভোটও পড়েছিল বাংলাদেশের বাক্সে। যদিও টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর বেশ কিছু বছর এর যৌক্তিকতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখন অনেকটাই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। দাঁড়িয়েছে বলেই এত বছর আগে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বেশ গর্ববোধই করলেন সুমাথিপালা, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেক পুরনো। ওদের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা ভোটও দিয়েছি। আমি সে জন্য গর্বিতও। ’

বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নে নানাভাবে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার কথাও বলতে ভুললেন না তিনি। এতে করে তাঁকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না, ‘ওই সময় আমি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেরও (এসিসি) সভাপতি ছিলাম। মনে আছে আপনাদের ক্রিকেট উন্নয়নে নানা উদ্যোগও আমি নিয়েছিলাম। এসিসির অর্থায়নে চারজন কোচ পাঠিয়েছিলাম। বেশ কিছু বয়সভিত্তিক দলকেও খেলতে পাঠিয়েছিলাম। বলতে পারেন আপনাদের ক্রিকেট অবকাঠামো গঠনে আমাদের সহযোগিতা ছিল। আর এখন তো আপনারা অনেক পরিণত। আপনাদের ক্রিকেট অবকাঠামোও বিশ্বমানের। ’

প্রথমবার বাংলাদেশে যাওয়ার স্মৃতি যেমন তাঁর অমলিন, তেমনি কালের প্রবাহে উন্নতির লেখচিত্রটাও কথায় দিব্যি ফুটিয়ে তুলতে পারলেন সুমাথিপালা, ‘খেলা, অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক, সব ক্ষেত্রেই উন্নতি করেছেন আপনারা। সুযোগ-সুবিধাও দারুণ। আপনাদের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিও দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। অথচ ২০ বছর আগে আমি প্রথম যখন বাংলাদেশে যাই, তখন বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা (১৯৯৮ সালে)। ফুটবল ছিল এক নম্বর খেলা। ফুটবলে গ্যালারি ভরে যায় তো ক্রিকেটে অল্প দর্শক হয়। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে এখনকার অবস্থানে আসতে দেখে আমার ভীষণ ভালো লাগে। ’

এই সপ্তাহেই সেই ভালোলাগা পুরো মাত্রা পেতে চলেছে। কলম্বোর পি সারা ওভালে ১৫ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি যে বাংলাদেশের শততম। এ উপলক্ষে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটও কিছু আয়োজন রাখছে। রাজনীতিক হিসেবেও হাত পাকানো সুমাথিপালা জানালেন, ‘বাংলাদেশের শততম টেস্টটি আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ উপলক্ষে আপনাদের বোর্ড সভাপতিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের ক্রিকেটারদের মেডেলও দেওয়া হবে। ৫০০ স্কুলের বাচ্চাও এই ম্যাচ দেখার জন্য আমন্ত্রিত। সেই সঙ্গে জমকালো এক ডিনারও থাকছে। ’ গল টেস্টের মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির সময় লঙ্কান পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার এটিও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, ‘আপনাদের শুভ কামনা জানাচ্ছি, তবে ম্যাচটি আমরাই জিততে চাই। ’

অবশ্য শততম টেস্টের আগে সুমাথিপালাকেও বোধ হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কিছু দেওয়ার আছে। বিতর্কিত হলেও তিনি যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বন্ধুই!


মন্তব্য