kalerkantho


রূপকথার মহানায়ক বিশ্বসেরা হওয়ার পথে!

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রূপকথার মহানায়ক বিশ্বসেরা হওয়ার পথে!

‘ব্যালন ডি’অর পাওয়ার উপযুক্ত এক রাত’—স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার ঘোষণা। নাহ্, লিওনেল মেসির গুণগানে নয়, নয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বন্দনায়।

মার্কার এই প্রশংসাবৃষ্টি নেইমারের জন্য। দিন দুয়েক আগে ফুটবলের গালিচায় প্রত্যাবর্তনের যে মহাকাব্য লেখে বার্সেলোনা, এর মহানায়ক তো ওই ব্রাজিলিয়ানই! তাতে মার্কা এতটাই মুগ্ধ, বিশ্ব ফুটবলের সাম্রাজ্যে নতুন সম্রাটের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর, ৯ বছর বাদে মেসি-রোনালদো ছাড়া তৃতীয় কারো হাতে শ্রেষ্ঠত্বের রাজদণ্ড যেন দেখতে পাচ্ছে

সাড়ে তিন বছর আগে বুকের গহিনে ওই স্বপ্নটুকুন নিয়ে আটলান্টিক পাড়ি দেন নেইমার। সান্তোস থেকে বার্সেলোনায়। কিন্তু মনে যা-ই থাকুক, মুখে তাঁর ভিন্ন কথা, ‘মেসি যেন পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড় থাকেন, এটি নিশ্চিত করার জন্য আমি বার্সায় এসেছি। ’ পরের সময়টাতে মাঠের পারফরম্যান্সেও এর প্রতিফলন। কখনো-সখনো ঝলকে-আলোকে আর্জেন্টাইন সতীর্থকে ছাড়িয়ে গেছেন সত্যি। কিন্তু সিংহভাগ সময় নেইমার ছিলেন মেসির মহীরুহের ছায়ায়। প্যারিস সেন্ত জার্মেইর বিপক্ষে সেই ছায়া থেকে বেরোলেন তিনি অবশেষে।

আর তা সর্বার্থেই!

প্রথম লেগ ০-৪ গোলে হেরে এসেছে। বার্সার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনার খাতায় মস্তবড় শূন্যই দেখছিলেন প্রায় সবাই। কিন্তু নু ক্যাম্পে দ্বিতীয় লেগের আগে নেইমারের দৃপ্ত শপথ, ‘যতক্ষণ এক শতাংশ সম্ভাবনা থাকবে, বাকি ৯৯ শতাংশ বিশ্বাস নিয়ে লড়ব আমরা। ’ সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন নু ক্যাম্পে তাঁর মতো দেখাতে পেরেছেন কে! ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে এগিয়ে বার্সা; তবে পিএসজির বাধা পেরোনোর জন্য চাই আরো তিন গোল। চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিকের গোলে নেইমার একটুখানি বিশ্বাস দিলেন। ইনজুরি সময়ে পেনাল্টি থেকে নেওয়া গোলে ওই বিশ্বাসের সলতে ছোট্ট আগুন হয়ে ওঠে দাবানল। আর ৯৫তম মিনিটে মাথা ঠাণ্ডা রেখে দেওয়া নেইমারের পাস থেকেই তো রূপকথার শেষাঙ্ক লেখেন সের্হি রবের্তো। ব্যস, শেষ সাত মিনিটে তিন গোল করে বার্সা লেখে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের গল্প। এর মধ্যে দুই গোল করা এবং এক গোল করানো নেইমারের মধ্যে মার্কা তাই দেখে ভবিষ্যতের ফুটবল সম্রাটের ছবি।

ম্যাচটিতে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বলতে কোনো দ্বিধা নেই নেইমারের। খেলা শেষেই গণমাধ্যমে দিয়েছেন অমন প্রতিক্রিয়া। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মেসির সঙ্গে উদ্যাপনের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘আমাদের অকল্পনীয় স্বপ্নেও ভাবিনি যে এমন কিছু হবে। আসলে অসম্ভব ব্যাপারটা তো একটা মতামত মাত্র। ’ স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা আবার অমন পারফরম্যান্সের পর ইঙ্গিত করেছেন ‘অসম্ভব’-এর দিকে। গত ৯ বছর ধরে মেসি-রোনালদোর নিজেদের মধ্যে সাম্রাজের হাতবদলই দেখেছে বিশ্ব। মার্কা ওই দুজনের কাছ থেকে নেইমারের কাছে রাজত্ব হাতবদলের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে, ‘ব্যালন ডি’অর পাওয়ার উপযুক্ত এক রাত। গতি, দক্ষতা ও শক্তিশালী শটে সেরা ফর্মের ব্রাজিলিয়ানের সামনেই পড়তে হয়েছিল পিএসজিকে। ’ ফ্রান্সের সাবেক কোচ রেমন্ড ডমেনেখের কথাতেও রাজত্ব বদলের ভবিষ্যদ্বাণী, ‘পিএসজির বিপক্ষে বার্সার সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড় ছিল মেসি। ও জাদুকরী এক ফুটবলার কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে চলে এসেছে। অন্যদিকে নেইমার ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। ও শেষ পর্যন্ত লড়েছে; শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করেছে। ’ ফলাফল? প্রত্যাবর্তনের রূপকথার ওই অমর কাব্য।

তবে সেদিন নিজে নায়ক না হলেও বার্সার জয়ে মেসির উচ্ছ্বাসও বাঁধনহারা। অমন খুশিতে দর্শকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে তাঁকে তো দেখা যায় না সচরাচর! পরে ফেসবুক পোস্টেও ছড়িয়ে মেসির খুশির রং, ‘চেষ্টা, দৃঢ়তা ও ইচ্ছা থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব না। আমাদের দল সমর্থকরা সত্যিই দারুণ দেখিয়েছে। ’ এর ধারাবাহিকতায় ত্রিমুকুট জয়ের স্বপ্ন আবার উঁকি দিচ্ছে বার্সা ক্যাম্পে। নেইমার মনে করিয়ে দিয়েছেন তা-ও, ‘আমাদের আগেও বিশ্বাস ছিল, এখন বিশ্বাসটা আরো বেড়েছে আর কি!’

ঠিক যেন তাঁর বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের মুকুট মাথায় তোলার সম্ভাবনার প্রতিফলন বাক্যটিতে! ওই সিংহাসন দখলের বিশ্বাস আগেও ছিল, পিএসজির বিপক্ষে অমন ধ্রুপদী পারফরম্যান্সের পর আরো বেড়েছে বিশ্বাসটা। ব্যক্তি নেইমারের; বাকি ফুটবল বিশ্বেরও। এএফপি


মন্তব্য