kalerkantho


দেশের অ্যাথলেটিকস ‘কালো তালিকাভুক্ত’

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দেশের অ্যাথলেটিকস ‘কালো তালিকাভুক্ত’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অ্যাথলেটিকসের সুদিন গিয়ে এখন চরম দুর্দিন। ক্রমহ্রাসমান অ্যাথলেটিকস চর্চা কিংবা চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেটের অভাবটা দৃশ্যমান হলেও অদৃশ্যে দেশের অ্যাথলেটিকসকে নিয়ে হয়েছে আরো বড় ষড়যন্ত্র। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের (আইএএএফ) সঙ্গে দেশের অ্যাথলেটিকসের সম্পর্ক চুকিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছে! ‘আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের ফোন পেয়ে আমি রীতিমতো চমকে গেছি। ২০১৬-র জানুয়ারি থেকে নাকি তাদের কোনো চিঠি, ই-মেইলের জবাব দিচ্ছি না আমরা। বাংলাদেশ একরকম কালো তালিকাভুক্ত হয়ে গেছে’—বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দেশের অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি এ এস এম আলী কবির।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বাংলাদেশে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচিত কমিটির। এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কিংবা নতুন কোনো কমিটি গঠন হয়নি। সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসের কমিটিই আছে, তবে কর্মকাণ্ডহীন। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নির্বাহী প্রধান হিসেবে চেঙ্গিসই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষা করতেন। যোগাযোগটা তিনি এত ভালো করেছেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, অর্থাৎ ১৪ মাস ধরে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন বাংলাদেশের ব্যাপারে সম্পূর্ণ অন্ধকারে! তারা ই-মেইল কিংবা চিঠিপত্র পাঠালে কোনো জবাব দেওয়া হতো না এখান থেকে! শেষ পর্যন্ত আইএএএফের ভারতীয় প্রতিনিধি আদিলে সুমারিওয়ালার কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে তারা গত ৬ মার্চ বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলে। তিনি বলেছেন ‘আইএএএফের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার জি ইসরাম ফোনে খুব রাগারাগি করেছেন।

সেটা করারই কথা, তারা বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও এক বছরেরও বেশি সময় আমাদের ফেডারেশনের তরফ থেকে কোনো সাড়া পায়নি। ফেডারেশন সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসই যোগাযোগ করতেন। তিনি যে আন্তর্জাতিক সংস্থাকে চিঠিপত্রের জবাব দেননি, তা আমাকে জানায়নি। তাতে করে দুই বছরের বার্ষিক কার্যক্রমের প্রতিবেদনও তাদের কাছে পাঠানো হয়নি। এ জন্যই তারা খেপেছে। ’

ফোনের পরদিনই সভাপতি বরাবরে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে আইএএএফ। সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কার্যক্রমের প্রতিবেদন তারা পায়নি। বারবার যোগাযোগ করার পরও দেয়নি বাংলাদেশ। নিয়ম হলো ৩১ মার্চের মধ্যে আগের বছরের বার্ষিক রিপোর্ট পাঠাতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে ২০১৫ সালের রিপোর্টের ব্যাপারে কোনো সাড়া না পেয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা দুই দফা সময় বাড়িয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে পাঠাতে বলা হলেও পাঠায়নি ফেডারেশন। পাঠায়নি গত বছরের কার্যক্রমের প্রতিবেদনও। এ ছাড়া গত বছর কন্টিনেন্টাল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস সিরিজেও ছিল না বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাপারে পুরোপুরি অন্ধকারে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস সংস্থা। ফেডারেশনই বিলুপ্ত হয়ে গেল কি না, সেই সন্দেহও দানা বেঁধেছিল তাদের মনে! এসবের জের হিসেবে বাংলাদেশকে আইএএএফের তালিকায় ‘নট ইন গুড স্ট্যান্ডিং’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘বাংলায় বলা যায়, বিশ্ব অ্যাথলেটিকস সংস্থার কাছে বাংলাদেশ একরকম কালো তালিকাভুক্ত। তাতে করে বার্ষিক ১২ হাজার ডলার অনুদানও বন্ধ হয়ে যাবে। তারা অন্যান্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দিত সেসবও বন্ধ করে দেবে। চেঙ্গিস সাহেব বাংলাদেশকে কেন এভাবে ফাঁসিয়ে দিল, আমার বোধে আসে না’—এ এস এম আলী কবির আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদককে। কিন্তু চেঙ্গিস ‘নট ইন গুড স্ট্যান্ডিং’র ব্যাখ্যা দিচ্ছেন এভাবে, ‘তারা বলেছে, তোমাদের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং হচ্ছে না। ’ তারপর যোগ করেছেন, ‘আগে কার্যক্রমের রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল আইএএএফের কাছে, তারা কেন পায়নি আমি জানি না। রবিবার দিন আবার পাঠিয়ে দেব। কোনো সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হবে না। ’

সেই ৬ ফেব্রুয়ারি পুরনো কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নতুন কোনো কমিটিও গঠন করেনি। গঠন করবেও-বা কিভাবে। গত কমিটির আর্থিক অনিয়মের তদন্ত এখনো চলমান। অথচ বিওএ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন চেয়ে বসেছে দুজন কাউন্সিলরের নাম। জমা দিতে হবে ১৬ মার্চের মধ্যে। দেশে অনিয়মের তদন্ত, তারপর বিশ্ব সংস্থার বিশ্বাস হারানো—সব মিলিয়ে চরম সংকটে দেশের অ্যাথলেটিকস।


মন্তব্য