kalerkantho


ড্র খুবই সম্ভব মনে হচ্ছে সাকিবের

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ড্র খুবই সম্ভব মনে হচ্ছে সাকিবের

হতাশার দিনে : হতাশার দিনে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো উপলক্ষ এসেছিল মাত্র কয়েকটি। তেমন একটি ছবি, উইকেট পাওয়ার পর বোলার মেহেদীকে অধিনায়কের অভিনন্দন। ছবি : ক্রিকইনফো

উত্তর দেওয়ার ধরন দেখেই বোঝা গেল স্রেফ বলার জন্যই বললেন তিনি। শ্রীলঙ্কান এক সাংবাদিক কী বুঝে যেন জেতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় টেনে আনতে চাইছিলেন সাকিব আল হাসানকে।

প্রশ্নটা শুনে ইংরেজিতে এই অলরাউন্ডারের জবাব, ‘যদি সত্যিই সে রকম কিছু ঘটে, তাহলে অবশ্যই তা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অসাধারণ ব্যাপার হবে। ’ সাকিব জানেন যে ড্র করলেও সেটি অসাধারণের চেয়ে কম কিছু হবে না। কারণ ম্যাচ বাঁচাতে হলেও আজ শেষ দিনে লঙ্কান স্পিনারদের সামলানোর ঝক্কিটা সম্ভবত বেশিই পোহাতে হবে।

সেই সম্ভাবনায় কাল নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করা উপুল থারাঙ্গা এমন আলোড়িত যে সংবাদ সম্মেলনে এসে চোখরাঙানিও দিয়ে যেতে পারলেন, ‘আজ কোনো উইকেট না পাওয়ায় হতাশ, তবে ৯৮ ওভার এখনো বাকি। আশা করছি আগামীকাল উইকেটে স্পিনারদের জন্য ভালো কিছুই থাকবে। ’ টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডই যেখানে ৪১৮ রানের, সেখানে বাংলাদেশের লক্ষ্য ৪৫৭ রানের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিবির কোন সম্ভাবনাকে সবচেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছে? বাংলায় প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুর দিকেই সেটি স্পষ্ট হয়ে গেল সাকিবের কথায়, ‘ড্র-ই বাস্তবসম্মত ফল। ’

যদিও আজ শেষ দিনে সেই লক্ষ্য পূরণে যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন স্বাগতিক দলের স্পিনাররা, সেটিও অজানা নয় সাকিবের, ‘পঞ্চম দিনে তো উইকেট ভিন্ন আচরণ করতেই পারে। এখন আবার উইকেটে বল অল্প ঘোরাও শুরু হয়েছে।

কাল (আজ) হয়তো আরেকটু বাড়তেও পারে। ’ তবে বাড়লেও সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানদের তা সামলে নেওয়ার সক্ষমতায় বিশ্বাস আছে তাঁর। সে জন্যই এও বলে রাখলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমাদের ব্যাটসম্যানরা খেলতে প্রস্তুত আছে। এখনো আমাদের হাতে ১০ উইকেট আছে। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, অন্তত ড্র করা খুবই সম্ভব। ’   

এ ক্ষেত্রে পার্টনারশিপের প্রয়োজনীয়তাকেই সবার আগে রাখছেন সাকিব, ‘আমার কাছে মনে হয়, এখন আমাদের দুই-তিনটি ভালো পার্টনারশিপ দরকার। যদি তা হয়, তাহলে ভালোভাবেই ড্র করা সম্ভব। ’ এর আগে দিনের প্রথম সেশনটি ভালোয় ভালোয় পার করে দেওয়ার চাহিদাও ব্যাটসম্যানদের দিয়ে রাখা আছে বলে জানালেন, ‘প্রথম সেশনটি আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কিভাবে শুরু করি, তার ওপরই আসলে পুরো দিনটি নির্ভর করবে। ’ নির্ভর করবে আসলে তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ওপর। প্রথম ইনিংসে এই দুই ওপেনার মিলে দিয়েছেন সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও তাঁদের কাছে দাবিটা তুঙ্গ না ছোঁয়ার কোনো কারণ নেই।

ওই দুজনকে বিশেষ একটি চাহিদাপত্রও দিয়ে রাখলেন সাকিব, ‘দুজন যেভাবে খেলেছে, তাতে আমার মনে হয় ওদের খেলায় পরিবর্তন আনার কোনো দরকার নেই। বল অনুযায়ী খেলুক, আর যার যার গেম প্ল্যান নিজের মতো করে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুক। আমি যেটা আগে বললাম, প্রথম সেশনটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে ওরা দুজন যদি প্রথম সেশনটি পার করে দিতে পারে, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। আমরা চাইব ওরা যতক্ষণ পারুক, ব্যাটিং করুক। ’ তা করতে পারলে যে অন্যদেরও সুবিধা, ‘ওরা যদি সেটা করতে পারে, তাহলে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্যও কাজটা সহজ হয়ে যাবে। ’

চতুর্থ দিনের বিকেলে তামিম-সৌম্যর ব্যাটিং থেকে পাওয়া শিক্ষাও কাজে লাগানোর আশা সাকিবের, ‘আজ সৌম্য যখন ব্যাটিং করেছে, কোনো বাজে শট খেলেনি। সেই সঙ্গে স্ট্রাইক রেটও ভালো রেখেছে। তামিমও ভালো ব্যাটিং করেছে। ও খারাপ বল বেশি পায়নি, তাই রানও বেশি করতে পারেনি। আমার কাছে মনে হয় দুজনের ব্যাটিং থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ’ পরের ব্যাটসম্যানদের জন্যও কাজ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এই তারকা ক্রিকেটার, ‘নতুন দিনে তো অনেক কিছুই ঘটতে পারে। আসলে চেষ্টা থাকবে সব সময় দলের প্রয়োজনে সবাই যেন ঠিক কাজটা করতে পারে। প্রত্যেক ব্যাটসম্যান যখন উইকেটে যাবে, চেষ্টা করবে বেশিক্ষণ ব্যাটিং করার এবং রানও করার। রান বেশি করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। শুধু প্রতিরোধ গড়লেই হবে না, শুধু মারলেই হবে না। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হবে। সব কিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্যও রাখতে হবে। ’

যে ভারসাম্যটা তামিম-সৌম্য এখন পর্যন্ত রেখেছেন, বাস্তবসম্মত ফলের আশায় আজ শেষ দিনে রাখতে হবে অন্যদেরও।


মন্তব্য