kalerkantho


বায়ার্নে ডুবল আর্সেনাল

রামোসে উড়ল রিয়াল

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রামোসে উড়ল রিয়াল

ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাতটা যদি ‘ঈশ্বরের হাত’ হয়, তা হলে সের্হিয়ো রামোসের মাথাটাকে কি বলা যায়; ‘দেবতার মাথা’? রিয়ালের উদ্ধারকর্তা। যখন অচল হয়ে পড়ে ‘বিবিসি’, তখনই যেন মাথা খাটাতে শুরু করেন রামোস।

বহুবার এই দৃশ্য দেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ, মঙ্গলবার রাতে দেখল আরো একবার। নিজের মাঠে ২-০তে জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যাবে নাপোলি, এমন ম্যাচে তারা আগেভাগে গোল দিয়ে ১-০তে এগিয়ে। একের পর এক আক্রমণে কাঁপছে রিয়ালের রক্ষণ, বারপোস্ট বাঁচিয়ে দিচ্ছে...এমন অবস্থা থেকে তো রামোসের হেড থেকে করা গোলেই রিয়াল পেল ‘মৃতসঞ্জীবনী বটিকা’! হিসাব গেল পাল্টে, আত্মবিশ্বাস পেয়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠল রিয়ালও, শেষতক জিতে গেল ৩-১ গোলে। এমিরেটসেও আর্সেনালের সেই পুরনো ভাগ্যই, আরো একবার শেষ ষোলো থেকে বিদায়। এবারও বায়ার্ন মিউনিখ তাদের হারাল ৫-১ গোলে। মঙ্গলবার রাতের দুটি ম্যাচেই আগের লেগের ফলের পুনরাবৃত্তি। শেষ আটে তাই যাচ্ছে রিয়াল এবং বায়ার্নই, নাপোলি আর আর্সেনালের এই মৌসুমের জন্য ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার অধ্যায় শেষ।

নেপলসে, প্রথমার্ধ শেষ হয় স্বাগতিকদের ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায়। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে দ্রেস মার্তিনেসের গোলটা সত্যিই ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল রিয়াল সমর্থকদের।

কারণ তার আগে থেকেই গোলের দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করে আসছিল মুরিসিও সার্যির শিষ্যরা। ম্যাচের ২৪ মিনিটে অবশেষে গোলটা পেয়েই যায় নাপোলি, হামসিকের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় তাঁর বাড়ানো বল ধরে বক্সের ভেতর ঢুকে বল জালে পাঠিয়ে দেন মার্টিনেস। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা মাঠে গড়াবার অল্পকিছু সময় পরই সমতা ফেরান রামোস। ৫২ মিনিটে টোনি ক্রসের নেওয়া কর্নারে লাফিয়ে উঠে রামোসের হেড বুলেটের মতো ছুঁয়ে যায় গোলবারে। প্রতিপক্ষের মাঠে করা এই গোলটাই সমীকরণে হয়ে ওঠে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাতে পরের রাউন্ডে যেতে হলে নাপোলির সামনে অঙ্ক দাঁড়ায় ম্যাচের বাকি সময়ে ২ গোল করার। সেই অঙ্ক তো মেলাতে পারেইনি তারা, বরং হতোদ্যম হয়ে খেয়েছে আরো ২ গোল। ৫৭ মিনিটে আবারও কর্নার থেকে হেডে গোল রামোসের, যদিও মার্টিনেসের ছোঁয়াও আছে বলে। গোলদাতা হিসেবে প্রথমে রামোসের নাম থাকলেও পরে সেটা মার্টিনেসেরই আত্মঘাতী গোল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনজুরি সময়ে মোরাতার গোলটা স্কোরলাইনকে নিয়ে গেছে ১৬ ফেব্রুয়ারির রাতে। প্রথম লেগেও নিজের মাঠে রিয়াল জিতেছিল ৩-১ গোলে, রোনালদোর শটটা ঠেকিয়ে মোরাতার পায়ে বল ফেলে পেপে রেইনা আরো একটা গোলের সুযোগ করে দেওয়াতে ফিরতি লেগেও ৩-১ গোলের জয় পেল মাদ্রিদের অভিজাতরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-২ গোলে জিতে শেষ আটে পৌঁছে এক ডজন চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্নের আরো কাছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

স্কোরলাইনটা ৩-১ হলেও ঠিক স্বস্তিতে আসেনি জয়টা, ম্যাচশেষে মেনে নিলেন রিয়াল কোচ জিদানও, ‘এই স্টেডিয়ামে খেলা সহজ নয়। প্রথমার্ধে আমরা অনেক ভুগেছি। যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, সেভাবে খেলতে পারিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছি, জিততে পেরে খুশি। ’ রিয়ালের দুটি গোল এসেছে কর্নার কিক থেকে, এই নিয়েও ভাবছেন না জিদান, ‘দুটি গোল কর্নার থেকে এসেছে তো কী হয়েছে, এতে কিছু আসে যায় না। সবই খেলার অংশ। ’ আর সেই দুটি গোলের নায়ক রামোস বলছেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমাকে সমালোচনায় জেরবার করা হচ্ছিল। তাই এখন তো আমি নিজেকে নায়ক দাবি করতেই পারি, তাই না? ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় আমার শততম ম্যাচ উদ্যাপনের জন্য গোল করার চেয়ে ভালো আর কী করাতে পারতাম!’ বড় ব্যবধানে জিতে রিয়াল যখন শেষ আটে, তখন বার্সা দাঁড়িয়ে খাদের কিনারায়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ছিটকে যেতে দেখলেই আনন্দের ষোলকলা পূরণ হবে রামোসের, ‘বার্সেলোনা যদি হারে তাহলে আরো খুশি হব, শান্তিতে ঘুমাতে পারব। ’

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ৫-১ গোলে হেরে আসার ঘাটতিটা পূরণ করাটা ‘মিশন ইম্পসিবল’ই ছিল আর্সেনালের জন্য। থিও ওয়ালকট ২০তম মিনিটে গোল করে মৃদু সম্ভাবনা জাগালেও এরপর ‘গানার’রা নীরব হয়ে গেছে বাভারিয়ানদের দাপটে। লরা কোসিয়েলনি বক্সের ভেতর রবার্ট লেভানদোস্কিকে ফাউল করে দেখেছেন লাল কার্ড, বায়ার্নও পায় পেনাল্টি। স্পটকিক থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান লেভানদোস্কি, তাতে একেবারেই হাল ছেড়ে দেয় আর্সেনাল। কারণ একজন কম নিয়ে ৫-২ গোলে পিছিয়ে থাকার ম্যাচ জেতাটা যে অসম্ভবেরই পর্যায়ে। তারপরই জার্মানযন্ত্র নির্দয়ভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে আর্সেনালের কামান, একে একে রবেন, দগলাস কোস্তা একটি করে ও আর্তুরো ভিদাল দুটি গোল করলে দ্বিতীয় লেগেও ৫-১ গোলে হেরে যায় আর্সেনাল। দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধানটা ১০-২!  উয়েফা, এএফপি


মন্তব্য