kalerkantho


শতরানের শুরু

হঠাৎ তামিমের পাগলামি

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



হঠাৎ তামিমের পাগলামি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কোনো কিছুতেই যখন কাজ হচ্ছে না, তাই অনন্যোপায় লক্ষ্মণ সান্দাকান জোরের ওপর বল ছাড়লেন তামিম ইকবালের লেগস্টাম্পে। ফ্লিকের মতো করেছিলেন বাংলাদেশি ওপেনার। একটা শব্দ হওয়ায় লঙ্কান উইকেটরক্ষক নিরোশন ডিকভেলা কট বিহাইন্ডের আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু কী ভেবে প্রান্ত বদলের জন্য ভোঁ দৌড় তামিমের। ডিকভেলার হাতে তখন রাজ্যের সময় স্টাম্প ভাঙার। তিনি তা করেছেন এবং স্ট্রাইকিং এন্ডে থেকে রান আউট তামিম, যেটাকে হালের ‘ব্রেইন-ফেইড’ ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারছেন না বাংলাদেশ দলের কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে।

 

ব্যাটসম্যানের রান আউট হওয়া নতুন কিছু নয়। ফলো থ্রুতে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা ব্যাটসম্যানকে সিলি ফিল্ডারদের রান আউট করার বিস্তর ঘটনা আছে ক্রিকেটে। তবে নিয়মিত ব্যাপার তো আর নয়। তাই গলের মরা উইকেটে ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে তামিমের আউটটাই হয়ে আছে হাইলাইট। ঘটনার অন্যতম সাক্ষী ডিকভেলাকেও যেমন বলতে হলো ওই আউটের ঘটনাক্রম, ‘বল তামিমের প্যাডে লেগেছিল।

কিন্তু আমি বল ধরতে পারিনি ভেবে ও ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। সে সুযোগে আমি বেলস তুলে ফেলি। অবশ্য এর আগে একসঙ্গে কট বিহাইন্ড এবং এলবিডাব্লিউর আবেদন করেছিলাম। ’ এ আশায় যদি কোনোটায় রাজি হন আম্পায়ার! ভুল ভেবে তামিম বেরিয়ে পড়ায় তার আর দরকার হয়নি।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া হাতুরাসিংহের কাছে অবধারিতভাবে গেলও প্রশ্নটা। তামিমের ওভাবে আউট হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে হতাশার সঙ্গে খানিক রসিকতাও করেছেন বাংলাদেশ কোচ, “ওর (তামিম) সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি। তবে আমার মনে হয়, আপনারাও নিশ্চয় শুনেছেন ইদানীং ক্রিকেটে একটা হৈচৈ ফেলে দেওয়া শব্দ আছে, ‘ব্রেইন ফেইড’। আমার ধারণা তামিমের বেলাতেও তা-ই হয়েছে। ঘটনাটা খুবই হতাশার, কারণ ওই সময় আমরা তরতরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। খুব ভালো ব্যাটিং করছিলাম, উইকেটেও কিছু ছিল না। আর তামিম নিজেও খুব ভালো ব্যাটিং করছিল। ইনিংসটাকে ওর টেনে নিয়ে যাওয়া দেখে খুব ভালো লাগছিল। হতে পারে, ও হয়তো মনে করেছিল কিপারের পেছনে চলে গেছে বল। দেখে-টেখে ওই একটা শব্দই বলতে পারি, ব্রেইন ফেইড। ”

ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্র যখন, তখন শব্দটার মানে জানা থাকার কথা। তা না হলেও অসুবিধা নেই। সম্প্রতি বেঙ্গালুরু টেস্টের সুবাদে এ শব্দটার মানে জেনে গেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। তবে তামিম নিজে ওই সময় নিজের মস্তিষ্ক অসাড় হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মানছেন না, ‘আমার সেরকম কিছু মনে হয়নি। ভেবেছিলাম বলটা কিপার মিস করেছে। ’ তবে আউটের ধরন এবং পরিস্থিতি যে অনুকূলে নন, সে ব্যাপারে অবগত তিনি, ‘আমি একটা ভুল করেছি। এখন এটা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলবে, আমাকে সেগুলো শুনতেও হবে। ’ নিজের আউট নিয়ে হতাশ তামিম নিজেও, ‘প্রত্যেকটা রানের জন্য আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে। আউট হওয়ায় আমি কি কারো চেয়ে কম দুঃখী?’

শেষ বেলায় তামিমের বিদায়ের পর সাজঘরে ফিরে গেছেন মমিনুল হকও। এই জোড়া আঘাতের কারণেই দ্বিতীয় দিনটা শতভাগ সুজলা-সুফলা হয়নি বাংলাদেশের জন্য। প্রতিপক্ষের ভাগেও দিনের কিছু অংশ তাই দিয়েছেন হাতুরাসিংহে, ‘আমার মনে হয় দুই দলই সমান অবস্থানে আছে। এ ম্যাচ শেষ হতে এখনো অনেক বাকি। এখনই পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। আমাদের স্কোর কত, ১৩৩? এখনো ৩৬০ রানের মতো পিছিয়ে আছি। তবে উইকেট ভালো। তাই আমার মনে হয় না এখানে রান করা কঠিন। টেস্টের সম্ভাব্য পরিণতি জানতে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। ’

এ অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত হতে পারত, যদি শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে নেতৃত্ব দেওয়া কুশল মেন্ডিস প্রথম বলেই আউট হতেন; বাংলাদেশ কোচের এমনই ধারণা, “আমার অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নই। এখান থেকে সাকিবকে সরিয়ে ফেলুন, দেখবেন বাকিরা মিলে খেলেছে মাত্র ১৫টির মতো টেস্ট। নো-বলটা (মেন্ডিস যে কারণে ০ রানে জীবন পেয়েছিলেন) নিয়েও আমি হতাশ, যদিও আপনার কিছু করার নেই। তবে এমন মরা উইকেটে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রতিপক্ষকে পাঁচ শর নিচে আটকে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তার পরও বলব, ওই উইকেট (মেন্ডিস) আজকের গল্পটা বদলে দিতে পারত। ”

তাই বলে ১৯৪ রান করা কুশল মেন্ডিসের ব্যাটসম্যানশিপের প্রশংসা করতে ভোলেননি হাতুরাসিংহে, ‘বয়সের তুলনায় ছেলেটা অনেক পরিণত। ওটার পর একটা সুযোগও দেয়নি। খুবই ভালো ব্যাটিং করেছে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে সতর্কতা আর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের যে মিশেলটা কুশল দেখিয়েছে। ’

বুঝতে অসুবিধা হয় না, নিজের দলের কোনো ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে এমন ইনিংসের আশায় রয়েছে চন্দিকা হাতুরাসিংহে। প্রথম ইনিংসে ছয় শর স্বপ্ন তো তিনি এমনি এমনি দেখছেন না, ‘যদি সম্ভব হয় আমি ৬০০ চাইব। প্রথম ইনিংসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যত দূরই যেতে পারি না কেন, আমাদের লক্ষ্য থাকবে ওদের কাছাকাছি যাওয়ার। আমার যে দল, তাতে ৫০০ ছাড়িয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব। ম্যাচ রেজাল্টের জন্য আমাদের রান করাটা জরুরি। তবে মাত্রই দুটি দিন গেল। কাল (আজ) যা রান করব, সেটাই জয় নয়তো পঞ্চম দিনে আমাদের ম্যাচ ড্র করার কাজে লাগবে। ’

তবে বাংলাদেশ দলের কোচের হিসাব গুলিয়ে দেওয়ার ছক নিয়ে আজ মাঠে নামছে শ্রীলঙ্কা। গতকাল প্রেসের সামনে এসে সেরকমই ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন ডিকাভেলা, ‘উইকেট একদম ফ্ল্যাট। তবে এখন ধীর গতির এবং বল টার্নও করছে। কাল (আজ) বিকেল থেকে বল অনেক ঘুরবে। ’ বল ঘোরা মানেই স্পিনারদের রাজত্বকালের শুরু। আর সে আশাতেই তিন স্পিনার নিয়ে খেলছে শ্রীলঙ্কা। ডিকভেলার বিশ্বাস, ‘আমাদের বোলিং আক্রমণে তিন স্পিনার আছে। ওরা খুব ভালো বোলিং করছে। আশা করি তাদের বোলিং আমাদের খুব সাহায্য করবে। ’

তাঁর নিজের গ্লাভসজোড়া বিশ্বস্ত হলে গতকাল আরো ভালো মেজাজে মাঠ ছাড়তে পারত স্বাগতিকরা। সৌম্য সরকার এবং তামিম ইকবাল—দুজনেরই ক্যাচ ছেড়েছেন ডিকাভেলা। এ প্রসঙ্গ উঠতেই পুরোপুরি দার্শনিক তিনি, ‘খুব বাজে মিস। তবে ক্রিকেটে এমন হতেই পারে। কখনো সুযোগ পেয়ে আমরা বড় রান করি। কখনো-বা আমাদের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্যরা রান করে। ’


মন্তব্য