kalerkantho


ওমানে ধরাশায়ী বাংলাদেশ

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ওমানে ধরাশায়ী বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অঙ্কে ভুল করে বসেছেন অলিভার কার্টজ। এই জার্মান কোচের হিসাব ছিল ওমানকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পাবে সহজ প্রতিপক্ষকে। হয়েছে উল্টো, ওমানের কাছে ৩-২ গোলে হেরে ধুলায় মিশে গেছে বাংলাদেশ কোচের ‘রোডম্যাপ’। তারপর মিডিয়াকে এড়িয়ে একরকম পালিয়ে গেছেন কোচ। জয়ের হাততালিতে আছেন তিনি, হারে নেই!

অগত্যা গোলরক্ষক জাহিদ হোসেন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের মাঠে ওমানের কাছে প্রথম হারের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘অনেক মিস করায় আমরা হেরেছি। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খুব বাজে খেলেছি, ওই সময় তিনটি গোল হজম করেছি। এ সময় কোচ বলেছিলেন, ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠতে। কিন্তু চাপের কারণে আমরা পারিনি। ’ ২০১৩ সালে এশিয়া কাপে হার থেকে শুরু করলে এটি স্বাগতিকদের টানা তৃতীয় হার ওমানের কাছে। হারের মাহাত্ম্য হলো মাত্র এক জয়ে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া বাংলাদেশকে আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে লড়তে হবে শক্তিশালী মিসরের সঙ্গে। র্যাংকিংয়ের ২০ নম্বরে থাকা মিসর ‘বি’ গ্রুপের রানার্স আপ হলেও ৩০তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের জাহিদ মনে করেন, ‘মিসরের বিপক্ষে শতভাগ দিতে পারলে জয় পাওয়া সম্ভব।

সুতরাং এখনো আমাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ভালো সুযোগ আছে। ’

কালকের ম্যাচ অবশ্য ভালোই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দুর্ভাগ্য, দু-দুবার এগিয়ে গিয়েও তারা লিড ধরে রাখতে পারেনি। না পারার কারণও তারা, তাদের খেলার গতি, কৌশল ও শরীরী ভাষায় জয়ের ইচ্ছার তীব্রতা স্পষ্ট হয়নি। ঠিকঠাক তিনটি পাস হয় না। দুই প্রান্ত ধরে আক্রমণে যাওয়ার খেলাটিও হয়নি। উল্টো প্রতিপক্ষ হানা দিলে এলোমেলো হয়ে যায় স্বাগতিক ডিফেন্স। তিনটি পেনাল্টি কর্নারের একটির সদ্ব্যবহার করেছে আট মিনিটে। মামুনুর রহমানের ফ্লিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৩ মিনিটে গোল শোধের আয়োজন করেন গোলরক্ষক অসীম গোপ। আনমাকর্ড আল নাসেরিকে ঠেকাতে তিনি ফাউল করতে গিয়ে নিজেও ব্যথা পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন। কিন্তু পেনাল্টি স্ট্রোকের সুযোগ করে দিয়েছেন ওমানকে। তারা সমতায় ফেরে আল হাসান মাহমুদের স্ট্রোকে।

দ্বিতীয়ার্ধে আবার এগিয়ে যায় বাংলাদেশের রোমান সরকারের ফিল্ড গোলে। কিন্তু আশরাফুল-মামুনরা রক্ষণভাগ ফাঁকা করে দিয়ে সেই গোল শোধের সুযোগ করে দিয়েছেন ২৪ মিনিটে। আল হাসানির গোলে ম্যাচে ফেরা ওমান পরের মিনিটেই দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিয়ে লিড নেয় খালিদ আল বাতাসির গোলে। এরপর ৩৫ মিনিট বাকি, এ সময়ে হকিতে এক ডজনের বেশি গোল হতে পারে। অবিশ্বাস্যভাবে স্বাগতিকরা একটি গোলও করতে পারেনি! তাতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড লাইনের ধার। তৃতীয়ার্ধে বাঁ দিক থেকে স্কয়ার বল ঠেলে দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করলেও আরশাদ মেরেছেন পোস্টের ওপর দিয়ে। চতুর্থ অর্ধেও ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল; কিন্তু ওমানি গোলরক্ষক কৌশিকের হিট ঠেকিয়ে দিয়ে লিড ধরে রেখেছেন। ম্যাচের অন্তিম সময়েও আশা জেগেছিল এক পেনাল্টি কর্নারের সুবাদে। সেটাও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে হারের হতাশায় ডুবে যায় স্বাগতিকরা। সাতবারের সাক্ষাতে চতুর্থ হারের বিস্বাদ নিয়ে রাসেল-মামুনরা ভণ্ডুল করে দিয়েছেন নিজেদের অঙ্ক। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁদের প্রতিপক্ষ মিসর গতকাল নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়েছেন ঘানাকে। মালয়েশিয়া ১১-১ গোলে ফিজিকে ও চীন ৫-১ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। তাতে কোয়ার্টার ফাইনাল লাইন আপটা দাঁড়াচ্ছে মালয়েশিয়া-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-মিসর, চীন-ফিজি, ওমান-ঘানা। এ চারটি ম্যাচই হবে আগামীকাল।


মন্তব্য