kalerkantho


সেই মেন্ডিসই পথের কাঁটা

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সেই মেন্ডিসই পথের কাঁটা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শুভাশীষ রায়কে ঘিরে পুরো দলের সে কী উচ্ছ্বাস! উইকেট নেওয়ার পর সতীর্থ পেসারের উদ্যাপনের ‘কপি’ করে সবাইকে দেখাচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু আম্পায়ার আলীম দার তাকিয়ে থার্ড আম্পায়ারের রুমের দিকে।

শেষমেশ তাঁর আশঙ্কাই সত্যি হলো, রিপ্লেতে দেখা যায় শুভাশীষের ওটা ‘নো-বল’ ছিল। প্রথম বলে জীবন পাওয়া কুশল মেন্ডিসের পরেরটুকু বাংলাদেশের জন্য চূড়ান্ত হতাশার, শূন্য রানে কুড়িয়ে পাওয়া জীবনে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছেন ২২ বছরের এ তরুণ।

বড়জোর দুই সেন্টিমিটার হবে। সামনের পা এ পরিমাণ পেছনে থাকলেই গল টেস্টে নিজের প্রথম ওভারে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়তেন শুভাশীষ। আগের বলে উপুল চন্দনার স্টাম্প ছত্রখান করা এ পেসারের সামান্য ভুলে সে সুযোগ আর আসেনি। বলা ভালো, বাংলাদেশি বোলারদের আর কোনো সুযোগও দেননি মেন্ডিস। এটা তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথমটা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১৬ সালে। পাল্লেকেলেতে করা মেন্ডিসের ওই সেঞ্চুরিটিও ‘ম্যারাথন’ ইনিংস, ১৭৬ রানের।

বলার অপেক্ষা রাখে না, মেন্ডিসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির পথ আটকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বাংলাদেশের বোলাররা।

এখানেই দিন শুরুর প্রশ্নচিহ্ন—হুট করে গল টেস্টে তিন পেসার কেন খেলাতে গেল বাংলাদেশ? শ্রীলঙ্কার এ মাঠে বরাবরই রাজত্ব করেছেন ব্যাটসম্যান আর স্পিনাররা। শুরুর কর্তৃত্ব ব্যাটসম্যানদের আর শেষটা স্পিনারদের। নিজেদের মাঠ যখন, তখন গলের উইকেট হাতের তালুর মতোই চেনে লঙ্কানরা। তাই তিন স্পিনার আর দুই পেসারে একাদশ সাজিয়েছে তারা। সেখানে বাংলাদেশ কেন তিন পেসার আর দুই স্পিনারে গেল?

উত্তরটা অধিনায়ক-কোচেরই সবচেয়ে ভালো জানার কথা। তবে গতকাল ম্যাচের পর তাঁদের কেউই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি অবশ্য তিন পেসার খেলানোর পক্ষেই যুক্তি দেখিয়েছেন, ‘তিন পেসার নিয়ে খেলায় ভালো হয়েছে। যে উইকেটে খেলা হচ্ছে, সেখানে দুই দিক থেকে স্পিনাররা ভালো বল করলেও উইকেট বের করা কঠিন। ব্যাটসম্যানরা ভুল না করলে উইকেট পাওয়া যাবে না। সে তুলনায় ভালো জায়গায় বল করলে পেসারদের উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এক প্রান্তে পেসার আর আরেক প্রান্তে স্পিনার বল করায় ভালো হয়েছে। ’

প্রথম ৪০ ওভারের খেলায় অবশ্য মেহেদী মিরাজের ব্যাখ্যার প্রতিফলন আছে। ওই সময়কালে ৩ উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি লঙ্কানদের রানের চাকাও ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই সচল হয়েছে স্কোরবোর্ড। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে মেন্ডিসদের আর ক্লান্তি ভর করেছে বাংলাদেশি বোলারদের শরীর-মনে।

বাংলাদেশি বোলিং ইউনিটের একজনের ওপর বিশেষ নজর ছিল সবারই, তিনি মুস্তাফিজুর রহমান। প্রায় দুই বছর পর টেস্টে ফেরা বাঁহাতি এ পেসার কাল উইকেট পেয়েছেন একটি। তাঁকে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে পয়েন্টে মেহেদী মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন দীনেশ চান্ডিমাল। এর বাইরে বিশেষ বোলার মনে হয়নি মুস্তাফিজকে। তবে যে যুবদলে খেলেছেন, সেটির অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ সন্তুষ্ট বন্ধুর নৈপুণ্যে, ‘চোট থেকে ফিরে নিউজিল্যান্ডে কিছুটা নড়বড়ে ছিল মুস্তাফিজ। তবে এখন ওকে অনেক ভালো মনে হচ্ছে। ফিট অবস্থায় আছে। খুব ভালো জায়গায় বল করছে। অন্য পেসারদের মতো মুস্তাফিজও আজ খুব ভালো বোলিং করেছে। বিশেষ করে প্রথম দিনে ও খুব ভালো বোলিং করেছে। শেষ দিকে পুরনো বলেও ভালো জায়গায় বল করেছে। অনেক দিন পর টেস্ট খেলতে এসে মুস্তাফিজ যে বোলিং করেছে, সেটা দেখে ভালো লেগেছে। ’

এমন ‘ভালো’ বোলিংয়ের পরও অনভিজ্ঞ ব্যাটিং নিয়ে ৪ উইকেটে ৩২১ রান তুলে দিন শেষ করেছে টসজয়ী শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের জন্য ‘মন্দ’ ব্যাপার এটাই।


মন্তব্য