kalerkantho


ক্রিকেটেও বদলি খেলোয়াড়!

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ক্রিকেটেও বদলি খেলোয়াড়!

কদিনের জন্য ‘সুপার-সাব’ চালু হয়েছিল ক্রিকেটে। কিন্তু ওটা ‘ফ্লপ’ করায় সনাতনী নিয়মে দ্রুতই ফিরে গেছে ক্রিকেট। উল্টো, নানা ছুঁতোনাতায় ব্যাটসম্যানের রানার নেওয়ার সুযোগটাও বাতিল হয়েছে ক্রিকেট আইনে। তবে বিশেষ কারণে ফুটবলের মতো বদলি খেলোয়াড়ের মাঠে নামার পথ খুলে দেওয়ার জোর ভাবনা চলছে। ফিল হিউজের মর্মান্তিক মৃত্যুর জেরে গত মৌসুম থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে বদলি খেলোয়াড় নামানোর সুযোগ পাচ্ছে। তবে সে সুবিধাটা শুধু মাথায় চোট পাওয়া ক্রিকেটারের বেলায়। এ নিয়মটা এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও চালুর দাবি জানিয়েছেন টনি আইরিশ। ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান নির্বাহী যখন বলছেন তখন এর গুরুত্বও রয়েছে যথেষ্ট।

‘মাথায় চোট পাওয়া ক্রিকেটারের বদলি কাউকে নামানোর নিয়মটা প্রথম শ্রেণি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবর্তনের পক্ষে আমরা। এটাকে আমরা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এ ব্যাপারটায় ক্রিকেট অন্যান্য খেলা থেকে পিছিয়ে আছে’, বলেছেন টনি আইরিশ।

পিছিয়ে আছে তো বটেই। কৌশলগত কারণের পাশাপাশি চোট পাওয়া খেলোয়াড়ের বদলি নামানোর সুযোগ রয়েছে ফুটবল-হকিসহ দলগত অন্য খেলায়। ক্রিকেটে সেরকম কোনো সুবিধা নেই, এমনকি মাথায় চোট পেয়ে হাসপাতালে গেলেও বদলি নামানোর নিয়ম নেই। নেই বলেই অনেক ক্ষেত্রে চোটগ্রস্ত ক্রিকেটার জীবনের ঝুঁকি নিয়েও নেমে পড়েন মাঠে। সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে যেমন ওয়েলিংটন টেস্টে নেমেছিলেন মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েস। সাম্প্রতিককালে নিজ দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় তিনবার উইকেটরক্ষণের কাজ করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চকে, যা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে তাঁর, ‘এটা খুব বিপজ্জনক। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং সামর্থ্য না থাকলে যেকোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে। ’

ফিকা ক্রিকেটারদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে, স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রিকেটের বৈশ্বিক সংস্থা আইসিসি কি ভাবছে? সংস্থার প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন এখনই আইন বদলের পক্ষে নন, ‘ক্রিকেটের পুরনো আইন বদলের পক্ষে আমি কিছুটা দ্বিধান্বিত। ওরকম চোট খুব নিয়মিত নয়, তাই বড় কোনো ইসু্যুও নয়। ’

কিন্তু এ যুগের ক্রিকেটাররা আবার বদলি খেলোয়াড় আইনের পক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড যেমন যুক্তি দিচ্ছেন, ‘আপনি কি চান একজন চোট নিয়ে ছিটকে পড়ায় আমরা ১০ জন নিয়ে খেলি?’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড আইনটি পরিবর্তনের পক্ষে, ‘অন্তত টেস্টে নিয়মটা করা উচিত। পাঁচ দিনের ক্রিকেটে একজনের চোটের ভয়াবহ প্রভাব পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত দলটির ওপর। ’

দেখা যাক, এতে নড়েচড়ে বসে কিনা আইসিসি? এসএমএইচ


মন্তব্য