kalerkantho


সানচেসকে বসিয়ে হারল আর্সেনাল

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সানচেসকে বসিয়ে হারল আর্সেনাল

বড় দলের সঙ্গে জেতে আর ছোট দলের কাছে হারে! এটাই ছিল লিভারপুলকে ঘিরে অপপ্রচার। আর আর্সেনাল নাকি খেলেই লিগে চতুর্থ হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের জায়গাটা ধরে রাখার জন্য; এমন একটা প্রবাদই তো তৈরি হয়ে গেছে। তাই এমন দুই দল যখন মুখোমুখি, তখন আগুনে লড়াইয়ের বদলে সাবধানী সমতারই সম্ভাবনা ছিল। অ্যানফিল্ডের প্রথম একাদশে আর্সেন ওয়েঙ্গার যখন অ্যালেক্সিস সানচেসকে রাখলেন না, তখন মনে হচ্ছিল ১ পয়েন্টের জন্যই খেলবে গানাররা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাও নিয়ে ফিরতে পারেনি উত্তর লন্ডনের বাসিন্দারা। ৩-১ গোলে জিতেছে লিভারপুলই। ক্লাউদিও রানিয়েরি দায়িত্ব ছাড়ার পর ‘শেক্সপিয়ার’ নতুন এক নাটকই লিখছেন! তাঁর কোচিংয়ে টানা দুটি ম্যাচে জিতে গেল লিস্টার সিটি। হাল সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে অনেকটাই নাক ভাসিয়ে তুলেছে ‘ফক্স’রা।

১৭ গোল করে প্রিমিয়ার লিগের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা অ্যালেক্সিস সানচেস। অথচ শনিবার রাতে এই চিলিয়ানকে শুরুর একাদশেই রাখেননি ওয়েঙ্গার। ৩-১ গোলের হারের পর এই নিয়েই সমালোচনা ধেয়ে আসছে তাঁর দিকে।

ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ এর প্রধান ফুটবল প্রতিবেদক মার্ক ওগডেন লিখেছেন, ‘খেলার ফল যা-ই হোক না কেন, দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে সুস্থ পেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে না খেলানোর সিদ্ধান্তটা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেই। যে মুহূর্তে ওয়েঙ্গার সানচেসকে ছাড়া একাদশের তালিকাটা রেফারির হাতে জমা দিয়েছেন, তখনই সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা ম্যাচের ভাগ্য বদলে গেছে। ’ যথার্থই তাই। শিরোপার দৌড়ে চেলসি সবাইকে এক ল্যাপ পেছনে ফেলেছে। শনিবারে জিতলে রানার্স-আপ হওয়ার দৌড়ে অন্তত টিকে থাকত আর্সেনাল, হেরে নেমে গেল পাঁচে আর হারিয়ে লিভারপুল উঠেছে তিনে।

গোল করতে বেশি সময় লাগাননি ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। ম্যাচের নবম মিনিটেই ব্রাজিলিয়ান রবার্তো ফিরমিনোর গোল এগিয়ে দেয় ‘অল রেড’দের। সাদিও মানের নিচু ক্রস ছিল কৌতিনিয়োর দিকে, কিন্তু এই ব্রাজিলিয়ান মিস করলেও তাঁর স্বদেশি ফিরমিনো মিস করেননি! দ্বিতীয় গোলটায় মিলনারের পায়ে গোলমুখী যাত্রার শুরু, তাঁর থেকে উইনালডুম বাড়ালেন ফিরমিনোর দিকে, তিনি বাড়ালেন সাদিও মানের উদ্দেশে। লিগে নিজের ১২তম গোলটা করতে ভুল হয়নি তাঁর। ৪০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাদিও মানে। প্রথমার্ধের আগেই ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া লিভারপুলকে থামাতে এবার সানচেসকে নামান ওয়েঙ্গার, ফ্রান্সিস ককলিনকে উঠিয়ে। প্রতিদান ঠিকই দিয়েছেন সানচেস, ম্যাচের ৫৭ মিনিটে তাঁর অ্যাসিস্টেই আর্সেনালের একমাত্র গোলটি করেন ড্যানি ওয়েলবেক। ইনজুরি সময়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করে দেন উইনালডুম।

হারের পর সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য সানচেসকে না রাখা নিয়ে খুব বেশি বিচলিত মনে হলো না ওয়েঙ্গারকে, ‘আমার বিশেষ কোনো আক্ষেপ নেই। একটাই দুঃখ, ম্যাচটি হেরেছি। আমরা চেয়েছিলাম একটু বেশি ডিরেক্ট ফুটবল খেলতে। চেয়েছিলাম এমন দুজনকে নিই, যারা হাওয়ায় ভেসে আসা বলের দখলে অনেক শক্তিশালী। ’ সানচেসের প্রতি কোনো বিরূপ মানসিকতাও নেই তাঁর, জানালেন সেটাও, ‘অ্যালেক্সিস যে দারুণ খেলোয়াড়, এটা আমি অস্বীকার করছি না। আমিই তো তাকে কিনে এনেছি। আমি সব সময় তাকে খেলিয়েছি। এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়, তবে নিলে সেটার পক্ষে দাঁড়ানোই উচিত। ’ অন্যদিকে লিস্টারের কাছে হারের পর জয়ে ফেরায় খুশি ক্লপ, ‘ফের জেতায় ভালো লাগছে। কঠিন একটা সপ্তাহ কেটেছে আমাদের। রোলার কোস্টার রাইডের মতো, উত্থান-পতনে ভরা। তবে দুদিন অনুশীলনের পর বুঝেছিলাম, আমরাই জিতব। ’ এএফপি, স্কাই স্পোর্টস


মন্তব্য