kalerkantho


লড়াইয়ে আছে ভারতও

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



লড়াইয়ে আছে ভারতও

এক দিনে মোটে ১৯৭ রান, উইকেটও পড়েছে সাকুল্যে ৬টি। টি-টোয়েন্টির যুগে এমন ম্যাড়মেড়ে স্কোরবোর্ড টেস্ট ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন নয় মোটেও। তবে এ তো সামান্য কিছু সংখ্যা। গতকাল বেঙ্গালুরু টেস্টের দ্বিতীয় দিন প্রত্যক্ষদর্শীদের উপহার দিয়েছে প্রবল রোমাঞ্চ। দিনের সিংহভাগ বলই ‘ডট’ গেছে তো কী, ‘কী হবে-হচ্ছের’ উত্তেজনায় মুহুর্মুহু কেঁপেছেন দর্শক। পুনের পর বেঙ্গালুরুতে প্রথম ইনিংসে অসহায় আত্মসমর্পণকারী ভারতকে এই প্রথম মনে হলো নিজের দেশে খেলছে। যদিও দ্বিতীয় দিন শেষেও ‘অ্যাডভান্টেজ’ অস্ট্রেলিয়া।

পুনের উইকেট সুপার ফ্লপ করে আইসিসির সতর্কবার্তাও শুনেছে। সেটির সঙ্গে তুলনা করলে চিন্নাস্বামীর কিউরেটরের হাতে সাফল্যের আগাম স্মারক তুলে দেওয়া যায় অনায়াসে, দুই দিনে ১৬ উইকেট পতনের পরও। অবশ্য এর বিপক্ষে অনুযোগ করতে পারেন ব্যাটসম্যানরা। বোলারের স্পাইকে ক্ষতবিক্ষত সারফেসে বল পড়ে সাঁই করে পাক খাচ্ছে এবং লাফাচ্ছে যেমন, তেমনি পেস বোলারের বলের বাউন্সও বিশ্বাসঘাতকতা করছে প্রতিনিয়ত।

এমন উইকেট নির্মাতা সর্বজনীন স্বীকৃতি পান কী করে? যৌক্তিক দাবি। তবে ম্যাচের প্রেক্ষাপট বলছে, বোলারের দিকে ঝুঁকে পড়া উইকেট দেখে কিউরেটরের সম্মাননা প্রস্তাবে অনাপত্তিপত্র দেবে দুই দলই!

কারণটা স্পষ্ট; মাত্র ১৮৯ রানে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যাওয়া ভারত অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে ২৩৭ রানে আটকে রাখতে পেরে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে এমন উইকেটে ৪৮ রানে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি দখলে রাখার স্বপ্ন মুঠোয় পোরার প্রহর গুনতেই পারে। দুই দলেরই স্বপ্নের ভিত্তিভূমি উইকেট নিয়ে তাই অকারণ হৈচৈ করার কোনো মানে নেই।

অবশ্য উইকেট নিয়ে ভাবার সময়ই-বা কোথায় দুদলের! ছোট পুঁজিকে সম্বল করে অভাবিত লড়াই ভারতের। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ছোবলে ডেভিড ওয়ার্নারের অফস্টাম্প পড়ে যাওয়া দেখে তো মনে হচ্ছিল স্পিন সাম্রাজ্যের রাজ্যপাট বুঝি আবার ফিরে পেল ভারত। বিরাট কোহলি মাঠে বরাবরই প্রচণ্ড ‘এক্সপ্রেসিভ’। কাল দ্বিগুণ তাতলেন এবং সতীর্থদের তাতালেন তিনি। ইশান্ত শর্মার সঙ্গে স্টিভ স্মিথের ঠোকাঠুকি এবং সে বিতণ্ডায় উদ্যোগী হয়ে দুই অধিনায়কের বচসা ব্যাট-বলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইকে উসকে দিয়েছে আরো। টেস্ট ক্রিকেট বিরোধিতাকারীরা এসব দেখে থাকলে কাল সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়ে থাকবেন।

অবশ্য ইশান্ত বনাম স্মিথ ভেঙচি কাটাকাটি তো স্কোরবোর্ডের নিয়ন্ত্রক নয়, ব্যাট-বলের লড়াইটাই চূড়ান্ত। সে লড়াই হলোও ধুন্ধুমার। প্রথম সেশনে মাত্র ৪৭ রান করে ২ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবু এককভাবে কোনো দলকে সেশনটা দিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। টেস্টে চারের কাছাকাছি রান রেট ধরে রেখে অভ্যস্ত অস্ট্রেলিয়াই কি পিছিয়ে? চোখবুজে বলা যাচ্ছে না, ‘বন্ধুর’ পিচে স্বাগতিকদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে বরং ৪৭ রানকেই মনে হচ্ছিল কম কিসে! বিশেষ করে ফর্মের তুঙ্গে থাকা স্মিথকেও যখন ৮ রানের জন্য খেলতে হয়েছে ৫২ বল।

ওয়ার্নার দিনের শুরুতে ফিরে গেলেও বুক চিতিয়ে লড়েছেন আরেক ওপেনার ম্যাট রেনশ। সফরে দ্বিতীয় ফিফটি করেছেন এ বাঁহাতি। বারদুয়েক ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে ফিফটি করেছেন শন মার্শও। এরপর ম্যাথু ওয়েড ও মিচেল স্টার্কের ব্যাটে ব্যবধান আরো বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছে অস্ট্রেলিয়া। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রত্যাবর্তনের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ভারতও। ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর : ভারত : ১৮৯। অস্ট্রেলিয়া : প্রথম ইনিংস ১০৬ ওভারে ২৩৭/৬ (রেনশ ৬০, মার্শ ৬৬, ওয়েড ব্যাটিং ২৫, স্টার্ক ব্যাটিং ১৪; জাদেজা ৩/৪৯)।


মন্তব্য