kalerkantho


এবার লিয়নের স্পিনে ধরাশায়ী ভারত

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এবার লিয়নের স্পিনে ধরাশায়ী ভারত

পুনের উইকেটকে ‘হলুদ কার্ড’ দেখিয়েছে আইসিসি। তবে গতকাল বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের উইকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি।

তাতেও অবশ্য ভাগ্য বদল হয়নি ভারতের, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১৮৯ রানে অল আউট প্রথম ইনিংসে। পুনেতে ধসিয়েছিলেন স্টিভ ও’কিফি। গতকালের ভারত ‘হন্তারক’ নাথান লিয়ন—পরিবর্তন বলতে এটুকুই!

পুনেরটা বাজে উইকেটে। আর টানা ১৯ টেস্ট অপরাজিত একটি দলের পা হড়কাতেই পারে—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট বিপর্যয় এ জাতীয় টোটকায় হজমও হয়ে গিয়েছিল ভারতের। বরং দ্বিতীয় টেস্টেই ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে বিরাট কোহলির হম্বিতম্বিকে একরকম ভবিতব্যই ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রথম দিনের শেষ ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার মিলে প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ৪০ রান কমিয়ে ফেলার পর মেগাসিটি বেঙ্গালুরু ছাপিয়ে ভারতের প্রত্যন্ত শহরের ক্রিকেট আড্ডাতে শাপ-শাপান্ত হচ্ছে বিরাটদের।

নিজেদের অভ্যস্ত স্পিনেই নতজানু হয়েছিল ভারত। বেঙ্গালুরুতে নাথানের বিশ্বরেকর্ড গড়া বোলিংয়ে স্বাগতিকদের স্পিন অহমই যেন চুরমার হয়ে গেল! নিজেদের মাঠে প্রতিপক্ষকে শুধু স্পিনেই গাঁথে না, নিজেরা খেলেও ভালো। কিন্তু কিসের কী! ৫০ রানে ৮ উইকেট নিয়ে ভারতের চিরকালীন সে অহংকারও কেমন দুমড়ে-মুচড়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অফস্পিনারটি।

নাথান লিয়ন নিজেও বিস্মিত, ‘জানি না, কী বলব। শেষ ঘণ্টাটা দারুণ মজায় কেটেছে, প্যাড পরে বসে ছিলাম ড্রেসিংরুমে!’ নাইটওয়াচম্যানের ডাক পড়লে ব্যাট করতে নামতে হতো নাথানকে। ডেভিড ওয়ার্নার আর ম্যাট রেনশ সেটি আর হতে দেননি।

কী এমন বিশেষ বোলিং করলেন নাথান লিয়ন যে ঘরের মাঠেই আত্মসমর্পণ করতে হলো ভারতকে। ‘উইকেটের কয়েকটা জায়গায় ফাটল ছিল। আমার লক্ষ্য ছিল সেখানে বল ফেলা’, স্রেফ লাইন আর লেন্থে বাজিমাত করার গল্প নিজেই জানিয়েছেন নাথান লিয়ন, ভারতের বিপক্ষে ইনিংসে এ নিয়ে তৃতীয়বার ৭ কিংবা এরও বেশি উইকেট যাঁর।

ভিনদেশ থেকে এসে দিব্যি লাইন আর লেন্থ খুঁজে পেয়েছেন নাথান। কিন্তু লাইন হারিয়ে বেতাল ভারতের সবচেয়ে হাই প্রোফাইল ব্যাটসম্যানও! পুনেতে লাইন না বুঝে ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়েছিলেন বিরাট কোহলি। বেঙ্গালুরুতে ছেড়ে দিয়ে প্যাডে নিয়েছেন বটে, তবে বলের লাইন ভুল পড়ায় হয়েছেন এলবিডাব্লিউ। তবু শেষ চেষ্টা হিসেবে ‘রিভিউ’ নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। কিন্তু তাতেও সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হয়নি মাঠের আম্পায়ারকে।

ভারতের ব্যাটিং অসহায়ত্বের ওটা নমুনা মাত্র। একজন লোকেশ রাহুল ছাড়া স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার করুণ নায়ার (২৬)। ২০৫ বলে এ ওপেনারের ৯০ রান বাদ দিলে ভারতীয় ইনিংসের পরিণতি হতে পারত মহা বিপর্যয়কর।

বিপর্যয়ের শুরুটা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই। চোটের কারণে বেঙ্গালুরু টেস্টে নেই মুরালি বিজয়। তাঁর জায়গায় একাদশে ঢোকা অভিনব মুকুন্দকে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরিয়ে দিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। দিনশেষে প্রশংসার ভেলায় ভাসছেন বটে নাথান, তবে ভারতের ব্যাটিংয়ে শুরুর কাঁপনটা দিয়ে গেছেন কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দুই পেসার—স্টার্ক ও জস হ্যাজেলউড। বেঙ্গালুরুর উইকেটে এমনতিই কিছু বরাদ্দ থাকে পেসারদের জন্য। অবশ্য ১৫০ কিলোমিটারের আশপাশের গতির বল বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই সমীহ আদায় করে থাকে। স্টার্ক-হ্যাজেলউডরা শুধু গতির ওপরই নির্ভর করেননি, লাইন-লেন্থটা ঠিক রেখে ব্যাটসম্যানকে অস্বস্তির বৃত্তেও বন্দি রেখেছেন।

পেসারদের দম বন্ধ করা বোলিং সরে যেতেই কি কিছুটা আশ্বস্ত বোধ করেছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা? হতে পারে, লাঞ্চের ঠিক আগে আগে চেতেশ্বর পূজারার উইকেট দিয়ে আসার এটাও একটা কারণ হয়ে থাকতে পারে। ওটা নাথান লিয়নের প্রথম শিকার। শেষটা চা বিরতির এক ঘণ্টা পর, ভারতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটিয়ে।

৫০ রানে ৮ উইকেট—ভারতের মাটিতে বিদেশি কোনো বোলারের সেরা ফিগার। কী এমন জাদুমন্ত্রে প্রথম দিনেই ভারতকে স্পিনে কাবু করলেন নাথান লিয়ন, ‘বল ঘুরবে কি ঘুরবে না, জানতাম না। আমি আসলে বেসিকটা করে গেছি, একটা জায়গায় বল ফেলে গেছি। জানতাম এভাবে বল করে গেলে সুযোগ তৈরি হবে। ’ আর এটা তিনি শিখেছেন শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথের কাছে। দুই দলের মধ্যকার সবশেষ সিরিজে লঙ্কান স্পিনারের কাছ থেকে এ ‘টিপস’টা নিয়েছিলেন নাথান লিয়ন। ভারত সফরের আগে দুবাইয়ের ক্যাম্পে সেটাই ঝালিয়েছেন তিনি। অবশ্য অবসরে ইউটিউবে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বোলিংও দেখেছেন নাথান। কিন্তু নিজের সামর্থ্যের ওপরই বাজি ধরেছেন তিনি।

সুফলও পেয়েছেন দুহাত ভরে। ক্রিকইনফো


মন্তব্য