kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

বাংলাদেশের মান যাচাইয়ের ম্যাচ আসলে চারটি

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশের মান যাচাইয়ের ম্যাচ আসলে চারটি

ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড টু-র উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ শুরু করেছে মালয়েশিয়ার কাছে হেরে। এই ম্যাচটি মাঠে বসে দেখেছেন রফিকুল ইসলাম কামাল। দেখেছেন স্বাগিতক দল আর মালয়েশিয়ার খেলার গুণগত পার্থক্য। এরপর বাংলাদেশের হকির সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ দলের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে কথা বলেছেন

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : বাংলাদেশের জার্মান কোচ ম্যাচটি শুরু করেছেন একদম তরুণ দল, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের দিয়ে আর তখনই পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। আপনার কী মনে হয়?

রফিকুল ইসলাম কামাল : আমার মনে হয় এটা কোচের দু-তিন মিনিটের কৌশল হতে পারে। তবে পিছিয়ে পড়ায় তেমন ভূমিকা নেই। হকির যে সৌন্দর্য সেটা ফুটে উঠেছে মালয়েশিয়ার প্রথম গোলে। এত সুন্দর মুভ এবং ফরোয়ার্ডদের চমত্কার জায়গা বদল দেখা গেছে। কারণ আমাদের ফরোয়ার্ডরা সাধারণত জায়গা বদল করে না, যেখানে আছে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়ে। ওই গোলেই বোঝা গেছে মালয়েশিয়ার শক্তি। এমন দলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার, বাংলাদেশের জন্য ভালো ফল।

র্যাংকিংয়ের ১৩ নম্বর দলের কাছে ৩২ নম্বর দল হেরেছে।

প্রশ্ন : খেলোয়াড়ি জীবনে বোধহয় আপনি একবার জিতেছেন মালয়েশিয়ার বিপক্ষে?

কামাল : হ্যাঁ, ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী কাপ হকিতে ঢাকায় ২-১ গোলে হারিয়েছিলাম মালয়েশিয়াকে। তখন আমাদের কোচ ছিলেন মাইকেল শুমাখার। এর আগে-পরে যতবার খেলেছি ততবারই হেরেছি। তারা মানের দিক থেকে আমাদের চেয়ে অনেক এগোনো, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যেমন আজকের ম্যাচে গোলরক্ষক জাহিদ ভালো সেভ করেছে, ডিফেন্সও ভালো করেছে। নইলে ব্যবধান ৬/৭ গোলের হয়ে যেত।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের এই দলকে দেখে কী মনে হয়েছে?

কামাল : এই ম্যাচে বাংলাদেশের শক্তি দেখা যায়নি। আমরা সাধারণত যেভাবে খেলি বা আক্রমণে উঠি সেটা হয়তো দেখা যায়নি প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া বলেই। দুই গোল করার পর তারা আসলে বল পজেশনে এগিয়ে থেকে ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। আরো গোল দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়নি। আমাদের প্র্যাকটিস বা নতুন কোচের অধীনে খেলোয়াড়রা কী শিখল সেটা দেখা যাবে পরের ম্যাচগুলোতে, ওমান-ফিজির সঙ্গে ম্যাচে।

প্রশ্ন : গ্রুপের বাকি দুটি ম্যাচ জিতবে হিসাব করেই রেখেছে বাংলাদেশ। কোচ গ্রুপ রানার্স-আপ হওয়ার কথা বলেছেন।

কামাল : ফিজির সঙ্গে তো খুব ভালোভাবে জেতা উচিত আমাদের। গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে আমাদের লক্ষ্য তো সেমিফাইনাল খেলা, সেখানে হয়তো চীন কিংবা মিসরের সঙ্গে দেখা হবে। সত্যি বললে এ টুর্নামেন্টে আমাদের ম্যাচই আসলে চারটি; মালয়েশিয়া, চীন, মিসর ও ওমানের বিপক্ষে। র্যাংকিংয়ে তারা আমাদের ওপরে, তাদের সঙ্গে কী রকম খেলছি সেটা দিয়েই দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। শ্রীলঙ্কা কিংবা ঘানার সঙ্গে তো সহজে জেতা উচিত আমাদের। যদিও শ্রীলঙ্কা দিন দিন উন্নতি করে এখন কঠিন প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড়িয়ে গেছে।


মন্তব্য