kalerkantho


ভারতই এখন চাপের মুখে

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ভারতই এখন চাপের মুখে

পুনেতে টেস্টটা জিতে গেলেই আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানটা নিশ্চিত হয়ে যেত ভারতের, সঙ্গে মোটা অর্থ পুরস্কারও। কিন্তু বিরাট কোহলির দল সেটাই হারল তিন দিনে, বিশাল ব্যবধানে।

পুনের পিচ পেয়েছে বাজে রেটিং, কোহলির স্বপ্নসময়ে হঠাৎই ছন্দপতন। এ যেন কনসার্টে আচমকাই সুর ও তাল কেটে যাওয়া! অন্যদিকে বরাবরই আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখানো অস্ট্রেলিয়ানরা এবার আরো উচ্চকণ্ঠ। নেপথ্যে এমন সব আয়োজন নিয়ে আজ থেকে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে নামছে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুই দল। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে পিচের ঘাস থেকে শুরু করে কোহলির ওপর চাপ, এসেছে সব প্রসঙ্গই।

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের কর্তৃত্ব যাদের, সেই কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন অনিল কুম্বলে, বর্তমানে কোহলিদের দলটির কোচ। কদিন বাদেই আইপিএলে বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে আইপিএল মাতাতে আরো এক মৌসুমের জন্য মাঠে নামবেন কোহলি, সেই দলটারও হোম গ্রাউন্ড এই মাঠ। কোচ, অধিনায়কের হাতের তালুর মতো চেনা মাঠে ভুল একাদশ বাছাই আর খারাপ পিচের অজুহাত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই তো সংবাদ সম্মেলনে পিচ-সংক্রান্ত প্রচুর প্রশ্ন আসাতে বাধ্য হয়ে বলেই ফেললেন, ‘আমি উইকেট নিয়ে খুব বেশি জানি না। তবে সবাই জানে, এখানে ব্যাটিং উইকেটই হয়।

আশা করছি এই উইকেটে ফল হবে, সেটা আমরাও চাই। ’ একই আশা তো করতে পারেন স্টিভেন স্মিথও! এই মাঠটাই সিরিজের চারটি ভেন্যুর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে পয়মন্ত, এমনকি গোটা ভারতবর্ষেই! চিন্নাস্বামীতে ৪ টেস্টে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, জিতেছে দুটিতে আর হেরেছে একটি। এখানেই ১৭৭ রান করেও দলকে জেতাতে পারেননি শচীন টেন্ডুলকার, কোহলি কি পারবেন? অন্যদিকে স্মিথের জন্য প্রেরণার পরিসংখ্যান। এখানে সেঞ্চুরি করেছেন পূর্বসূরি দুই অধিনায়ক মার্ক টেলর ও রিকি পন্টিং, অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছিলেন স্মিথের আগের অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও। টেস্টে ৫০০০ রান থেকে ১১২ রান দূরে দাঁড়িয়ে এসব মাথায় রেখেই কি স্মিথ বললেন, ‘চাপটা তো আমাদের ওপরই ছিল, তাই না? সবাই আমাদের বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল আর ভেবেছিল ভারত সিরিজটা ৪-০তে জিতে নেবে, এমনটা এখন আর হবে না। ’ সেই আত্মবিশ্বাসে দলে কোনো পরিবর্তনই আনছেন না স্মিথ-লেহম্যানরা।

মঞ্চটা তৈরিই ছিল। তাতে পারফরম্যান্সও হয়েছে প্রত্যাশামতো! একজন স্পিনার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন, অধিনায়ক সেঞ্চুরি করেছেন, ডিআরএসে বেঁচেও গেছেন সেই ইনিংস খেলার পথে। শুধু তফাত এই যে নামগুলো রবিচন্দ্রন অশ্বিন, বিরাট কোহলি না হয়ে স্টিভেন ও’কিফি এবং স্টিভেন স্মিথ হয়ে গেছে! তাতেই একটা হায় হায় রব ভারতীয় মিডিয়ায়, চিন্নাস্বামীর পিচ নিয়ে ঢাক ঢাক গুড় গুড়। ভারতীয় দলে ‘টিম বিল্ডিং ট্রেকিং’। পুনেতে হারের পর দলের মনোবল বাড়াতে দলবল নিয়ে পাহাড়ে ট্রেকিং করতে গিয়েছেন কুম্বলে। পাহাড়ের চূড়ায় বসে থাকা ছবি দিয়ে কোহলি যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘প্রতিটি দিন একটা সুযোগ, একটা আশীর্বাদ। কৃতজ্ঞ হও এবং সামনে এগিয়ে যাও’, তখন বোঝা যায় নিম্নচাপটা অস্ট্রেলিয়ার ওপর থেকে সরে গেছে ভারতের ড্রেসিংরুমের দিকে। হারের কারণ হিসেবে কোহলি স্পষ্ট বলেছেন, ‘প্রথম ইনিংসে অত্যন্ত খারাপ ব্যাটিং করার কারণেই আমরা আর ম্যাচে ফিরতে পারিনি। আমরা নিজেরাই নিজেদের ওপর অনেক চাপ নিয়ে নিয়েছিলাম। ’ বেঙ্গালুরুতে যে মাত্রাটা আরো বাড়বে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। টেস্টের শেষ দিনের খেলার পর সন্ধ্যায় বিসিসিআইর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ২০১৬-র বর্ষসেরা হিসেবে পলি উমরিগড় ট্রফিটা পাবেন কোহলি। তবে তার আগের কর্মকাণ্ডই নির্ধারণ করবে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিটা যাচ্ছে কোনদিকে। ক্রিকইনফো, এই সময়


মন্তব্য