kalerkantho


মালয়েশিয়াকে দিয়েই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ শুরু

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মালয়েশিয়াকে দিয়েই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রথম আয়োজক হয়েছে ওয়ার্ল্ভ্র হকি লিগের (রাউন্ড-টু)। আন্তর্জাতিক হকির বড় আসর উপলক্ষে ফেডারেশনে চুনকাম চলছে।

আকাশে উড়ছে টুর্নামেন্টের ব্যানার। বাতাসে যদিও তার বিশেষ গুঞ্জন নেই, আয়োজকরা চেয়ে আছে নিজেদের দলের দিকে। স্বাগতিক দলের পারফরম্যান্স-সাফল্যই পারে দেশের হকিকে আলোচনায় নিয়ে আসতে। হকির সুদিন ফেরাতে।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে আজ শুরু ওয়ার্ল্ড হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা। দুটি গ্রুপে আটটি দল লড়াই করবে। সকাল সোয়া ৯টায় চীন-ঘানা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টুর্নামেন্ট। সকাল সাড়ে ১১টায় মিসর-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ, দুপুর পৌনে ২টায় খেলবে ওমান-ফিজি। এরপর বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার।

ওয়ার্ল্ড হকি লিগের প্রথম রাউন্ডে সাধারণত পিছিয়ে পড়া দলগুলোই অংশ নেয়। এই দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে শক্তিশালী দলগুলোর অংশগ্রহণে জমে ওঠে খেলা। বাংলাদেশ ছাড়াও আরো দুটি দেশে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা হচ্ছে। তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছাতে হলে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে হবে, অর্থাৎ দ্বিতীয় রাউন্ডে ফাইনাল খেলতে হবে। এর আগে দুইবার খেলেও বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডের বেড়া টপকাতে পারেনি। এবারও কাজটা কঠিন হবে। মালয়েশিয়া, চীন ও মিসরের মতো আগুয়ান দলের বিপক্ষে লড়ে সেরা দুইয়ে জায়গা করে নেওয়া স্বাগতিকদের জন্য বিশাল এক চ্যালেঞ্জ।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হচ্ছে এই চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান ১৩ নম্বরে, স্বাভাবিকভাবে ৩২তম অবস্থানে থেকে বাংলাদেশ জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে না। স্বাগতিক অধিনায়ক রাসেল মাহমদুও এই ম্যাচ নিয়ে ভেবে আকুল হতে চান না, ‘ওরা (মালয়েশিয়া) অনেক শক্তিশালী দল। তাদের খেলা আমরা দেখেছি, তাদের নিয়ে বেশি চিন্তা করার চেয়ে অন্যান্য ম্যাচগুলো নিয়ে কাজ করা ভালো। তবে মালয়েশিয়ার সঙ্গেও আমরা সেরা পারফর্ম করার চেষ্টা করব, তারপর রেজাল্ট যা হওয়ার হবে। ’ এ গ্রুপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়াও বাংলাদেশ আরো দুটি ম্যাচ খেলবে ওমান ও ফিজির সঙ্গে এবং দুটিতেই ফেভারিট থাকবে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ কোচ অলিভার কার্টজও মালয়েশিয়ার ম্যাচ থেকে বড় কিছু আশা করছেন না, ‘নিঃসন্দেহে মালয়েশিয়া শক্তিশালী দল। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলও তারা। আশা করছি, একটি ভালো ম্যাচ হবে। প্রত্যেকটি ম্যাচে আমরা উন্নতি করতে চাই। ম্যাচে মালয়েশিয়ার মনোযোগের ঘাটতি থাকলে আমরা পয়েন্ট নেওয়ারও চেষ্টা করব। ’ আসলে তাদের সঙ্গে ড্র হলেও বাংলাদেশের জন্য বড় পাওয়া হবে।

টুর্নামেন্টকে ঘিরে বাংলাদেশের জার্মান কোচের অঙ্কটা দুদিন আগেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘আমরা গ্রুপ রানার্স-আপ হতে চাই। ’ অর্থাৎ মালয়েশিয়াকে এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ধরেই এগোচ্ছেন। তখন রানার্স-আপ হয়ে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলের সঙ্গে খেলবে কোয়ার্টার ফাইনাল। বি গ্রুপে শক্তির দিক থেকে চীন ও মিসরকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ ধরলে বাকি থাকে ঘানা ও শ্রীলঙ্কা। এই দুই দলের একটি তৃতীয় হলে স্বাগতিকদের সেমিফাইনালে ওঠার পথ সহজ হয়ে যায়। কিন্তু সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ ঠিকই শক্তিশালী হবে, ওটাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ। উতরাতে পারলেই বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড হকি লিগের তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে যাবে।

টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ তিনটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে ঘানার সঙ্গে। প্রথম দুটি ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় না পেলেও শেষ ম্যাচে ১-০ গোলে ঘানাকে হারিয়েছে। প্র্যাকটিস ম্যাচগুলোতে জার্মান কোচ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট, ‘শেষ ম্যাচে ঘানার সঙ্গে পারফরম্যান্স দেখে আমি খুব খুশি। তুলনামূলক তরুণ দলই খেলেছে এই ম্যাচে, প্রত্যেকটি কোয়ার্টারের খেলা বিশ্লেষণ করেছি আমি। এর পরই ম্যাচের কৌশল ঠিক করেছি। ’ তবে বাংলাদেশের মূল শক্তি পেনাল্টি কর্নার হলেও তিনটি প্র্যাকটিস ম্যাচে সেই শক্তি দেখাতে পারেনি। ১৩টি পেনাল্টি কর্নার থেকে তারা গোল পেয়েছে মাত্র একটি। তাই টুর্নামেন্টের আগে এটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কোচ অলিভার কাল দুশ্চিন্তা উড়িয়ে দিতে চাইলেন এভাবে, ‘পেনাল্টি কর্নার নিয়ে আমরা কাজ করেছি। কতটা নিখুঁতভাবে পেনাল্টি কর্নারগুলো ব্যবহার করা যায়, এই চেষ্টা করেছি। আমাদের তিন-চারজন ভালো ফ্লিকার আছে। ’ সাধারণত পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলে হিট করেন আশরাফুল ইসলাম, মামুনুর রহমান ও খোরশেদুর রহমান। তাঁদের স্টিকে পেনাল্টি কর্নারের কার্যকারিতার ওপরই বাংলাদেশের ম্যাচ-ভাগ্য নির্ভর করছে অনেকখানি।


মন্তব্য