kalerkantho


তামিম-মমিনুলের পর তাসকিন-মুস্তাফিজ

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তামিম-মমিনুলের পর তাসকিন-মুস্তাফিজ

এর চেয়ে সুষম অনুশীলন আর হয় না। দুই দিনের ম্যাচের প্রথম দিনের ৯০ ওভার ব্যাটিং করলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। কাল শেষ দিনের ৯০ ওভার বোলিং সফরকারী বোলারদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের যতটা সম্ভব ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ মুশফিক-তামিম-মমিনুলদের মতোই পেলেন মুস্তাফিজ-তাসকিন-সাকিবরা।

তা মোরাতুয়ার ম্যাচে ওই অনুশীলনটা মন্দ হয়নি। আগের দিনের সাত উইকেটে ৩৯১ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এরপর প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রেসিডেন্টস একাদশেরও তুলে নেন ঠিক সাত উইকেট। স্বাগতিকরা রান করে কিছুটা বেশি। বাংলাদেশের ৩৯১ রানের জবাবে ৪০৩। সমান ওভার খেলে সমান উইকেট খুইয়ে ১২ রান বেশি শ্রীলঙ্কা একাদশের। ওই ডজনখানেক রানেই তাই নিজেদেরে বিজয়ী ভাবতে পারে তারা।

এমনিতে পোশাকি ফল ড্র। দুই দিনের ম্যাচে বিস্ময়কর কিছু না হলে যা অবধারিত। তবে অনুশীলন ম্যাচে সবচেয়ে মুখ্য ব্যাপার হচ্ছে অনুশীলন। তা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বাংলাদেশের। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছুটেছে। বোলারদের বোলিংয়ে যে আগুন ঝরেছে—তা হয়তো বলা যাবে না। তবে গল টেস্টে আগুনে বোলিংয়ের অনুশীলন পর্বটা ঠিকই সেরে রাখলেন তাঁরা।

সবচেয়ে বেশি করে হয়তো মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসারের দিকে নজর ছিল আলাদা করে। ইনজুরি ও অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে অনেক দিন ছিলেন মাঠের বাইরে। নিউজিল্যান্ড সফরে ফেরেন জাতীয় দলে, তবে স্বরূপে যেন ফিরতে পারছিলেন না। রয়েসয়ে খেলিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। কিউইদের বিপক্ষে টেস্টে খেলানো যায়নি মুস্তাফিজকে। ব্যাপারটি খানিক কৌতূহলোদ্দীপক। কেননা ফিজিওর ফিটনেসের সনদ ছিল ‘কাটার মাস্টার’-এর। কিন্তু নিজেই অস্বস্তি অনুভব করেন পিঠে। যে কারণে ঝুঁকি আর নেয়নি বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট তো বটেই, ভারত সফরেও রাখা হয়নি মুস্তাফিজকে।

সেই তিনি কাল শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টস একাদশের বিপক্ষে করলেন দারুণ বোলিং। পেয়েছেন মোটে দুই উইকেট। তবে পেতে পারতেন আরো কয়েকটি। ব্যাটসম্যানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যাওয়া বল বেশ কয়েকবার এড়িয়ে যায় ফিল্ডারদের। এর মধ্যেই প্রথম সেশনে ওপেনার রন চন্দ্রগুপ্তাকে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। শেষ সেশনে আউট করেন লিও ফ্রান্সিসকোকে। ১২ ওভারে চার মেডেনসহ ২৮ রান দিয়ে দুই উইকেট—গল টেস্টের প্রস্তুতি মন্দ হয়নি এই বিস্ময়-বোলারের।

নতুন বলের বোলার তাসকিন আহমেদের প্রস্তুতি তো আরো ভালো। তিন উইকেট পেয়েছেন তিনি। নিজের করা দ্বিতীয় ওভারেই তাঁর জোড়া শিকার। আভিষ্কা ফার্নান্ডোকে বোল্ড করার পর ইরোশ সামারাসুরিয়াকে ক্যাচ বানান মুশফিকের। তবে উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে ক্যাচটি মুঠোবন্দি করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। মিড অনে ছিলেন তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উইকেটরক্ষণের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন লিটন দাশের কাছে। একটি করে ক্যাচ-স্টাম্পিংয়ে সে দায়িত্বের শুরুতে ভালোভাবেই উতরে গেছেন লিটন।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের সবটাই যে ভালো বাংলাদেশের এমনটা বলা যাবে না। শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টস একাদশের ২৯ রানে তিন উইকেট তুলে নেওয়ার পরও কেন তারা অমন রানের পাহাড় গড়বে? শুভাশীষ রায়ও যেমন পাননি কোনো উইকেট। গল টেস্টে নিজের খেলার সম্ভাবনা যাতে কমিয়ে দেন তিনি। সাকিব আল হাসানের ক্ষেত্রে অমনটা বলার কোনো উপায় নেই। যদিও কাল ১১ ওভার বোলিং করে উইকেটশূন্য এই বাঁহাতি স্পিনার।

স্বাগতিকদের ইনিংস এগিয়েছে দিনেশ চান্ডিমালের ব্যাটে ভর করে। তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ক্রিজে যান তিনি। ছিলেন ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। ২৫৩ বলে ১৯০ রানে অপরাজিত শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টস একাদশের অধিনায়ক। যে ইনিংসে আলো ছড়াচ্ছে ২১টি চার এবং সাতটি ছক্কা। চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম—সবগুলো জুটিতেই সতীর্থদের সঙ্গে জুড়ে দেন পঞ্চাশোর্ধ্ব রান। আর অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেটে চামিকা করুণারত্নের (৪২ বলে অপরাজিত ৫০) সঙ্গে মাত্র ১২ ওভারে ১১২ রান যোগ করেন চান্ডিমাল। এই জুটির ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়েই তো বাংলাদেশের রান পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ড্র হওয়া ম্যাচে ১২ রানে জয়ের দাবি করার সুযোগটাও (!) পেয়ে যায় তারা।

তা হোক। তবু এই দুই দিনের ম্যাচ থেকে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ : ৯০ ওভারে ৩৯১ (তামিম ১৩৬, মমিনুল ৭৩, লিটন ৫৭*; করুণারত্নে ৩/৬১)। শ্রীলঙ্কা একাদশ : ৯০ ওভারে ৪০৩/৭ (চান্ডিমাল ১৯০*, করুণারত্নে ৫০*; তাসকিন ৩/৪১, মুস্তাফিজ ২/২৮, মেহেদী ১/৬৮)। ফল : ড্র।


মন্তব্য