kalerkantho


সেঞ্চুরি দিয়ে প্রস্তুতি তামিমের

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সেঞ্চুরি দিয়ে প্রস্তুতি তামিমের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে নিজের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি দিয়েই অবদান রেখেছিলেন তামিম ইকবাল। তবে পরের তিন টেস্টে মাত্র একটি ফিফটির চেয়েও চিন্তার বিষয় ছিল কয়েকবার ভালো শুরু পেয়েও সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারছিলেন না। ৭ মার্চ থেকে গলে শুরু হতে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে অবশ্য সেই বড় ইনিংস খেলার প্রস্তুতিটা ভালোই সেরে নিলেন বাংলাদেশ দলের এই বাঁহাতি ওপেনার। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সভাপতি একাদশের বিপক্ষে কাল থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে হাঁকিয়েছেন বিশাল সেঞ্চুরি। সুবাদে প্রথম দিনের শেষে বাংলাদেশের রানও ৭ উইকেটে ৩৯১।

আগের দিনই ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, এই প্রস্তুতি ম্যাচটিকে ভীষণ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ শিবির। তাই আগের মতো এটিকে আর ১২-১৩ জন খেলানোর এলেবেলে ম্যাচ বানিয়ে ফেলবে না। তা বানায়ওনি। সাব্বির রহমান, রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মোসাদ্দেক হোসেনকে বিশ্রামে রেখে ১১ জনই খেলাচ্ছে এবং এখান থেকে প্রথম টেস্টের জন্য সফরকারী দলের একাদশ ভাবনাও কিছুটা অনুমান করা যাচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে মুশফিকুর রহিম শুধুই ব্যাটসম্যান বনে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞ উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাশকে অন্তর্ভুক্ত করতেই হতো। তাঁকে জায়গা করে দিতে এত দিন সাত নম্বরে ব্যাটিং করে আসা সাব্বির রহমানের একাদশের বাইরে ছিটকে পড়াই ছিল নিকটতম সম্ভাবনা।

প্রস্তুতি ম্যাচে সেই সম্ভাবনা যেমন ঠিক হলো, তেমনি হাসল তামিম ও মমিনুল হকের ব্যাটও। টস জিতে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে পাঠানো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সভাপতি একাদশের অধিনায়ক দীনেশ চান্দিমালও সাফল্যের হাসিতে রঙিন ছিলেন কিছুক্ষণ। কারণ দশম ওভারেই বাঁহাতি পেসার লাহিরু সামারাকুনের করা অফস্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় তামিমের ওপেনিং পার্টনার সৌম্য সরকার (৯)। দীর্ঘ সময়ের জন্য সেটিই শেষ হাসি স্বাগতিক বোর্ড সভাপতি একাদশের জন্য। কারণ ভালো বলকে প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে এবং বাজে বলের ফায়দা লুটে উইকেটে রীতিমতো জমেই গিয়েছিলেন তামিম-মমিনুল জুটি। ভালো শুরু পেয়েও গত কয়েকটি টেস্টে বড় ইনিংস খেলতে না পারা তামিম খেলছিলেন সাবধানেই। তুলনায় অনেকটা আক্রমণাত্মক মমিনুল। যে কারণে তামিমের পরে নেমেও তিনি পৌঁছে যান ফিফটিতে। তামিমের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১৪৩ রানের পার্টনারশিপ গড়া মমিনুল ১০৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে ব্যাটিং করেননি আর। তাঁর এই ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০টি বাউন্ডারি দিয়ে।

মমিনুলের অবসরের পর ব্যাটিংয়ে চার নম্বরে ফেরা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের। ফিরে অবশ্য বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি, ২১ রান করে ডানহাতি পেসার চামিকা করুণারত্নের বলে বোল্ড হয়ে যাওয়ার আগে অবশ্য তৃতীয় উইকেটে তামিমের সঙ্গে যোগ করে গেছেন ৭৫ রান। আর ফিফটি করতে ১০৭ বল খেলা তামিম আসল চেহারায় দেখা দেন এর পরই। সেখান থেকে সেঞ্চুরিতে যেতে তাঁর লেগেছে মোটে ৩৭ বল। আর ৮৬ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে মাত্র ৩ বল! বাঁহাতি স্পিনার প্রবীন জয়াবিক্রমেকে বাউন্ডারি মারার পর টানা দুই ছক্কায় পৌঁছেছেন তিন অঙ্কে। ১৮২ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ১৩৬ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়ার পর অবশ্য আর ব্যাটিংয়ে ফেরেননি তিনি। সাকিব আল হাসান (৩০) ও মাহমুদ উল্লাহর (৪৩) পর দিনের শেষে দলের ব্যাটিংটা দিব্যি এগিয়ে নিচ্ছিলেন উইকেটরক্ষক লিটন, ৬৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৫৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে এই তরুণ।


মন্তব্য