kalerkantho


আফসোস নিয়েই চ্যাম্পিয়নদের বিদায়

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আফসোস নিয়েই চ্যাম্পিয়নদের বিদায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ২৩ মিনিট যেন চট্টগ্রাম আবাহনী টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবল খেলেছে। যতই কোরিয়ান দল হোক, ফাইনালে যেন স্বাগতিকদেরই মানায়।

কিন্তু ম্যাচটা ৯০ মিনিটের বলে শেষ পর্যন্ত আর মানানো গেল না। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পোচেন সিটিজেন এফসির কাছে ২-১ গোলে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিয়েছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ থেকে। অর্থাৎ ৩ তারিখের ফাইনালে আর দেশি ফুটবলের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকল না। শিরোপা লড়াইয়ে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের মুখোমুখি হবে পোচেন সিটিজেন এফসি।

ম্যাচের শুরু দেখে শেষ বোঝার উপায় নেই। স্বাগতিক খেলোয়াড়দের স্পিরিটেড ফুটবল এবং শরীরী ভাষায় ম্যাচ জেতার তীব্র বাসনা স্পষ্ট। সামর্থ্যের চেয়েও যেন বেশি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে তারা মাঠে নামে। মাঝমাঠ যতটুকু দখল নিয়েছে তার চেয়ে বেশি করেছে প্রতিপক্ষকে খেলতে না দেওয়া। যেন পোচেন সিটিজেনের পাসিং ফুটবলের ছন্দ না ফেরে।

তাদের খেলার জায়গা না দেওয়া। শুরুতে এ কাজটা এত ভালো করেছে কোরিয়ানদের চেয়ে বরং চট্টগ্রাম আবাহনীই বেশি উজ্জ্বল। এ ঔজ্জ্বল্যে গোলের দ্যুতি ছড়িয়েছিল, ফাইনালের স্বপ্ন ডানা মেলেছিল। কিন্তু গোল পেলেও সেই শুরুর খেলাটা যেন তারা হারিয়ে বসেছিল। বলা ভালো, গোলটাকে বেশি আলিঙ্গন করতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল মরিয়া খেলার প্রতিজ্ঞাটা। কোরিয়ানদের পায়ে ফেরে ছন্দ আর স্বপ্নের ডানা কেটে চ্যাম্পিয়নরা থেমে যায় সেমিফাইনালে।

শুরুর মিনিটেই গোলের হাওয়া বইয়ে দিতে পারত চট্টগ্রাম আবাহনী। তিন গোল করা অগাস্টিন ওয়ালসন পোস্টে রাখতে পারেননি বল। পঞ্চম মিনিটে টাইসন সিলভার মিসটি বড় চোখে লাগে। মামুনুল ইসলামের শট পোচেন ডিফেন্ডার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারায় এই ব্রাজিলিয়ানের পায়ে পড়লেও আলতো টোকায় গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারেননি। ২৩ মিনিটে এই কাজের কাজটি করেছেন জামাল ভূঁইয়া। মামুনুলের কর্নার কিকটি ঠিকই গোললাইন পার করে দিয়ে জামাল ভূঁইয়া আনন্দে মাতিয়েছেন স্বাগতিক দর্শকদের। এতক্ষণ অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলেছে স্বাগতিকরা। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে গোল আদায় করে আনন্দে মাতিয়েছে দর্শক-সমর্থকদের। গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের চেহারাও পাল্টে গিয়েছিল। এত ফাঁকা গ্যালারি থাকলেও স্বাগতিকদের আবার ফাইনালে তুলে নিতে মাঠে এসেছিল অনেক দর্শক।

কিন্তু ওই গোলের পর থেকে যে স্বাগতিকদের ভুলের শুরু। গোল ধরে রাখতে যে একই ধরনের স্পিরিটেড ফুটবল খেলতে হয়, এটা ভুলেই গিয়েছিল স্বাগতিকরা। ছন্দে ফেরা পোচেন সিটিজেন এফসি আক্রমণের জোয়ার বইয়ে দেয় আবাহনী ডিফেন্সে। দু-দুটো দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে আশরাফুল ইসলাম রানা অক্ষত রাখেন গোলপোস্ট। ৩০ মিনিটে বক্সের সামনে কয়েকটা পাস খেলে পার্ক সাং রিওল বল পোস্টে তুলে দিয়েও স্বাগতিক গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি। ঠিক পরের মিনিটেই তিনি আরেকটি অতিমানবীয় সেভ করেন। কোরিয়ান অধিনায়কের অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকটি গোলে ঢোকার মুহূর্তে তিনি পাখির মতো উড়ে গিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। অবশেষে হার মানেন ৪৩ মিনিটে। মুফতাল আউয়াল ফাউল করে পেনাল্টির বিপদ ডেকে আনলে জং ইয়ং ইকের পেনাল্টি গোলে ম্যাচে ফেরে পোচেন সিটিজেন এফসি। কিন্তু বিরতির পরের মিনিটে আবার এগিয়ে যায় তারা। বাঁদিক থেকে বাড়ানো বলটি পার্ক সিওং রিওলের মাপা শট আবাহনীর জালে পৌঁছে গেলে দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয় স্বাগতিকদের।

ম্যাচে ফিরতে মরিয়া আবাহনী জাহিদকে তুলে চমরিন রাখাইনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায়। ৭৩ মিনিটে পেনাল্টির আবেদনটি যথার্থই ছিল। বক্সে ওয়ালসন ও টাইসন সিলভার গোল প্রচেষ্টা  ঠেকাতে এক কোরীয় ডিফেন্ডার শুয়ে পড়ে বল হাতে লাগান। কিন্তু চীনা রেফারির নজর এড়িয়ে যাওয়ায় ম্যাচে ফেরার সহজ সুযোগটি হারায় চ্যাম্পিয়নরা। সেটা ফিরতে পারলে পরের অংশটুকু অন্য রকমও হতে পারত। কারণ এর মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে গেছেন একজন কোরিয়ান ফুটবলার। কিন্তু যেটা হয়নি। ঢাকা আবাহনী, মোহামেডানের পর এবার চট্টগ্রাম আবাহনী—একে একে সব বিদায় নিয়ে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ৩ তারিখে হবে বিদেশিদের ফাইনাল।


মন্তব্য