kalerkantho


মৌসুমে মরিনহোর দ্বিতীয় শিরোপা

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মৌসুমে মরিনহোর দ্বিতীয় শিরোপা

এফএ কমিউনিটি শিল্ডেও এমনটা হয়েছিল। লিস্টার সিটির সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দ্বৈরথের নির্ধারিত সময় ড্রতে শেষ হওয়ার জোগাড়। তখনই জ্বলে ওঠেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তাঁর দেওয়া ৮৩তম মিনিটের গোলে শিরোপা জেতে ম্যানইউ। হোসে মরিনহো যুগের প্রথম ট্রফি তা।

কী আশ্চর্য, পরশুর ইংলিশ ফুটবল লিগ কাপ ফাইনালেও সেই অভিন্ন চিত্রনাট্যের পুনর্মঞ্চায়ন ওয়েম্বলিতে। আবার ইব্রাহিমোভিচের গোল, আবার সেই শেষ সময়ে, আবার ম্যানইউর জয়যাত্রা। সুইডিশ স্ট্রাইকারের দেওয়া ৮৭তম মিনিটের গোলে সাউদাম্পটনকে হারায় তারা ৩-২ গোলে। মরিনহো জমানার প্রথম ‘বড়’ শিরোপা তা।

ধ্রুপদী এক টুর্নামেন্ট ফাইনালই হয়েছে পরশু। ধারে-ভারে ম্যানইউ অনেক এগিয়ে আর ম্যাচের শুরুতে এর প্রতিফলনও।

ইব্রাহিমোভিচের দুর্দান্ত ফ্রিকিক থেকে নেওয়া গোলে তারা এগিয়ে যায় ১৯তম মিনিটে। আরো ১৯ মিনিট পর জেসে লিনগার্ড জাল খুঁজে পেলে আয়েশি জয়ের পথে থাকে ম্যানইউ। কিন্তু লিগ কাপ ফাইনালে এত অনায়াস জয় পেলে যেন সমর্থকদের তৃষ্ণা মেটে না। ম্যানইউ তাই জিতল ম্যানইউর মতো। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে এবং দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে জোড়া গোল করে সাউদাম্পটনকে সমতায় ফেরান মানোলো গাবিয়ানদিনি। হঠাৎ হতচকিত মরিনহোর শিষ্যরা আর খুঁজে পাচ্ছিল না গোলের দেখা। ওদিকে সাউদাম্পটনের এক প্রচেষ্টা পোস্টে প্রতিহত না হলে তো এগিয়েই যেতে পারত তারা।

তখনই আবার দেখা মেলে ইব্রা-জাদুর। আন্দের এরেরার অসাধারণ ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল পাঠিয়ে দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ে তখন বাকি আর তিন মিনিট। ওই গোলেই তো ক্লাব ক্যারিয়ারে পঞ্চম ভিন্ন দেশে ৩২তম ট্রফি নিশ্চিত হয়ে যায় ইব্রাহিমোভিচের। আর মরিনহো ও তাঁর শিষ্যরা সবাই মেতে ওঠেন শিরোপা জয়ের আনন্দে।

অথচ মধ্য ত্রিশের এই সুইডিশ স্ট্রাইকার ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় ইংল্যান্ডে এসে সফল হবেন কি না, এ নিয়ে ছিল বিস্তর সংশয়। পরশু ইএফএল কাপ জয়ের পর ওই সংশয়বাদীদের নিয়ে তাচ্ছিল্য করতেও ছাড়েননি ইব্রা, ‘আমি যে সাফল্য পাব, তা দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছিলাম। অন্যরা তা পাচ্ছিল না। আমি যা দেখি, অন্যদের তা দেখানোর জন্যই আমি ইংল্যান্ডে এসেছি। এখানে এসেছি জেতার জন্য এবং আমি জিতছি। যত জিতব, তত তৃপ্ত হব আমি। ’ কোচ মরিনহোও প্রশংসায় ভাসান এই স্ট্রাইকারকে, ‘ম্যাচের অনেকটা সময়জুড়ে সাউদাম্পটন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। ৯০ মিনিটে হেরে যাওয়াটা ওদের প্রাপ্য না। কিন্তু ইব্রা পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আমাদের অনেক ফুটবলার বিবর্ণ থাকলেও ও ট্রফিটা জিতিয়েছে ম্যানইউকে। ’

ম্যানইউ সমর্থকদের এখন একটাই চাওয়া, পরশু শিরোপা জেতানোর পর আরো বেশি করে। এক মৌসুমেই যেন ইংল্যান্ড-অভিযান থামিয়ে অন্য কোথাও পাড়ি না জমান ইব্রাহিমোভিচ। এএফপি, মেইল


মন্তব্য