kalerkantho


চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালে ওঠার লড়াই

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালে ওঠার লড়াই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে সুন্দর ফুটবলের ছবি এঁকেছে পোচেন সিটিজেন এফসি। এই ছবিকে ম্লান করে কার্যকরী ফুটবল খেলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালের মঞ্চে উঠতে চায় চট্টগ্রাম আবাহনী।

চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনীর জন্য নানা দিক থেকেই আজকের সেমিফাইনালটা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। প্রথমত কোরিয়ার তৃতীয় বিভাগের দলটির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের প্রতীকী লড়াই এটা। হারলে দেশের প্রিমিয়ারশিপের মান খানিকটা ‘উন্মুক্ত’ হবে। দ্বিতীয়ত এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ৩ মার্চের ফাইনালে দেশের ফুটবলের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকবে না। সব রক্ষার দায়িত্ব হয়ে গেছে স্বাগতিক দলের। আবাহনী অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম অবশ্য দুই দলের অবস্থানগত পার্থক্যে লজ্জার কিছু দেখেন না, ‘টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল কোরিয়ার পোচেন। আমরা প্রিমিয়ারে খেললেও তাদের অবকাঠামো অনেক উন্নত। কোরিয়ার এই দলকে হারাতে পারলে আমাদের সামগ্রিক ফুটবলের জন্য অনেক ইতিবাচক হবে। এটা কোরিয়ার বিপক্ষে জয় হবে।

’ এভাবে কি আসলে বলা যাবে! এটা অবশ্য ঠিক, কোরিয়ার তৃতীয় বিভাগের দলটির পরিচ্ছন্ন এবং বিল্ডআপ ফুটবল সবার চোখে পড়েছে। তাদের আলাদা করেছে অন্যদের চেয়ে। তবে ম্যাচটি যেভাবে তারা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সুযোগ তৈরি করে, স্কোরলাইনে তার প্রকাশ থাকে না। তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে তারা গোল করেছে মাত্র তিনটি। এখানেই সুযোগ আছে স্বাগতিকদের। স্বাগতিক দলের কোচ সাইফুল বারীর কাছেও ডিফেন্সটা গুরুত্বপূর্ণ, ‘ওরা গোল হয়তো বেশি পায়নি কিন্তু আক্রমণে অনেক বৈচিত্র্য আছে। তাই আমাদের গোলের সামনে জায়গাটা অক্ষত রাখতে হবে। আশপাশে তারা যতই আক্রমণ করুক, আমরা গোলমুখ আগলে রাখতে পারলেই হলো। ডিফেন্সটা শক্তিশালী করার চেষ্টা করব, অ্যাডাম জাংকাশাও খেলতে পারে। ’  

বাংলাদেশ কোচের কৌশলটা খুব সোজা। নিজেদের গোলমুখ আগলে খেলতে পারলে কাউন্টার অ্যাটাকে সুযোগ আসবেই। কিন্তু নিজেদের গোলমুখে আত্মবিশ্বাসের বড় অভাব, শেষ গ্রুপ ম্যাচে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ইয়ামিন মুন্না, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মুফতাল আওয়াল ও মনসুর আমিনের সঙ্গে কাল দেখা যেতে পারে আরেক বিদেশি অ্যাডাম জাংকাশাকে। শুধু ডিফেন্স নয়, মাঠের সব বিভাগেই সেরাটা চাইছেন সাইফুল বারী, ‘পোচেনের শক্তি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আধুনিক ফুটবলের ডিফেন্ডিং, অ্যাটাকিং, ট্রানজিশন সব ব্যাপারগুলো তারা ভালোভাবে করার চেষ্টা করে। বড় কথা হলো টেকনিক্যালি তারা খুব ভালো ফুটবল খেলে। এরকম দলকে হারাতে আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রেখে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারফরম্যান্স করতে হবে। ’ কোরিয়ান দলটি যত ভালোই হোক, তাদের বিপক্ষে গোলের সুযোগ তৈরি করা যায়। ঢাকা আবাহনীও করেছিল কিন্তু গোল পায়নি ফরোয়ার্ড লাইনের ব্যর্থতায়। প্রথম ম্যাচের পর থেকে চট্টগ্রাম আবাহনীরও একই সমস্যা, অগাস্টিন ওয়ালসন আর কিংসলের স্ট্রাইকিং জুটিতে গোল মিলছে না।

পোচেন সিটিজেন এফসির অধিনায়ক হান ইয়ন সু খুব আত্মবিশ্বাসী, ‘গত তিন ম্যাচে যেভাবে খেলেছি সেই অনুযায়ী খেলতে পারলে অবশ্যই সেমিফাইনালে ভালো কিছু আশা করতে পারি। একটু চাপে আছি তবে স্বাগতিক চ্যাম্পিয়নরা বোধহয় বেশি চাপে। ’ তাদের কোচ লি ক্যাং ডিউকও কৌশলে স্বাগতিক দলকে চাপ ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এভাবে, ‘আমরা তৃতীয় বিভাগে কিন্তু চট্টগ্রাম আবাহনী বাংলাদেশে শীর্ষ লিগে খেলে। এর পরও একটা ভালো ম্যাচ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। ’ স্বাগতিক হিসেবে আবাহনীর ওপর চাপ থাকবেই। তবে খাতা-কলমে কোরিয়াকে এগিয়ে রেখে তারা যে খানিকটা চাপ নিরসনের চেষ্টাও করছে। তারা চাইছে স্থানীয় দর্শক-সমর্থকদের মাঠে উপস্থিতি। এই টুর্নামেন্ট এখনো পর্যন্ত দর্শক ভরা স্টেডিয়াম না দেখলেও এই সেমিফাইনালে তাদের সমর্থন খুব আরাধ্য হয়ে উঠেছে স্বাগতিক দলের কাছে। এভাবেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে একই সমতায় দাঁড়িয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন মামুনুলরা। এ স্বপ্নকে আরো রাঙিয়ে দিতে পারে মামুনুলদের অভিজ্ঞতা। ‘মামুনুলরা এরকম টুর্নামেন্ট অনেক খেলেছে, অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। পোচেনের খেলোয়াড়দের হয়তো এই অভিজ্ঞতা নেই। এটাই কাজে লাগাতে হবে আমাদের খেলোয়াড়দের’—নিজের দলকে একমাত্র অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রাখছেন সাইফুল বারী টিটু।

অভিজ্ঞতা আর কোয়ালিটির লড়াইয়ের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে।


মন্তব্য