kalerkantho


লিগ কাপ ম্যানইউর

আবারও শেষ মুহূর্তের গোলে নায়ক মেসি

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আবারও শেষ মুহূর্তের গোলে নায়ক মেসি

আবারও শেষ মুহূর্তের গোলে বার্সেলোনার জয়ের নায়ক লিওনেল মেসি। লেগানেসের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৯০ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করে কাতালানদের ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছিলেন খুদে জাদুকর। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মহারণেও বার্সার জয় মেসির শেষ মুহূর্তের গোলে। ভিসেন্তে ক্যালদেরনের ম্যাচে লুই এনরিকের দল ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ডিয়েগো সিমিওনে শিষ্যদের।

তিনটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৬৪ মিনিটে বল জালে জড়িয়ে বার্সাকে এগিয়ে নেন রাফিনহা। তাঁদের উচ্ছ্বাস অবশ্য স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। কোকের ফ্রি কিকে মাথা ছুঁইয়ে ছয় মিনিট পরেই অ্যাতলেতিকোর হয়ে সমতা ফেরান ডিয়েগো গডিন। এরপর মহারণ যখন ১-১ গোলে ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখন লক্ষ্যভেদ মেসির। খেলা শেষ হওয়ার মিনিট চারেক আগে করা খুদে জাদুকরের এই গোলেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সা। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে এটা মেসির ৪০০তম জয়।

মহারণ জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেও উঠে এসেছে বার্সা। অবশ্য কাল রাতে ভিয়ারিয়ালের মাঠে জিতে থাকলে কয়েক ঘণ্টা পরেই  আবার শীর্ষে ফিরবে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৪ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৫৪, তাদের চেয়ে দুই ম্যাচ কম খেলা রিয়ালের পয়েন্ট ৫২। রিয়ালের চেয়ে দুই ম্যাচ বেশি খেলা সেভিয়ার পয়েন্টও ৫২।

ওদিকে সাউদাম্পটনকে হারিয়ে ইংলিশ লিগ কাপের শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওয়েম্বলির ফাইনালে রেড ডেভিলদের জয় ৩-২ গোলে। জোড়া গোল জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের, অন্যটি হেসে লিনগার্ডের। সাউদাম্পটনের হয়ে দুটি গোলই করেছেন ম্যানোলো গ্যাবিয়াডিনি। ম্যাচের উনিশ মিনিটে ফ্রি কিকে অসাধারণ গোল করে ম্যানইউকে এগিয়ে নেন ইব্রাহিমোভিচ। বিরতির আগেই ব্যবধান ২-০ করেন লিনগার্ড। এরপর জোড়া গোলে সাউদাম্পটনের হয়ে ২-২ গোলে সমতা ফেরান গ্যাবিয়াডিন। যখন মনে হচ্ছিল ফাইনালটা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখন আবার লক্ষ্যভেদ ইব্রাহিমোভিচের। ৮৭ মিনিটে আন্দের এরেরার পাসে সুইডিশ এ ফরোয়ার্ড বল জালে জড়ালে ওয়েম্বলিতে শিরোপা জয়ের উত্সবে ভাসে হোসে মরিনহোর শিষ্যরা।

বুন্দেসলিগায় এক ম্যাচে এক ডজন গোল হওয়ারও রেকর্ড আছে! বরুশিয়া মুনশেনগ্ল্যাডবাখ ১২-০ গোলে হারিয়েছিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে, একাই ৫ গোল করেছিলেন ইয়ুপ হেইনকেস। সেই স্মৃতিই যেন ফিরে ফিরে এলো প্রায় চার দশক পর। ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে এই কীর্তি মুনশেনগ্ল্যাডবাখের, শনিবার রাতে হামবুর্গকে ৮-০ গোলে হারিয়ে সেই কীর্তিকে ফের মনে করাল বায়ার্ন মিউনিখ।   তিন স্প্যানিয়ার্ডের গোলে চেলসি ৩-১ গোলে হারিয়েছে সোয়ানসি সিটিকে, রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক জাগানো ভ্যালেন্সিয়া নিজেরাই চমকে গেছে অ্যালাভেসের মাঠে ২-১ গোলে হেরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের সঙ্গে ফিরতি ম্যাচ খেলার আগে ধাক্কা খেয়েছে নাপোলিও, নিজের মাঠে তারা ২-০ গোলে হেরে গেছে আতালান্তার কাছে।

হামবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল পেশাদার কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলোত্তির ১০০০তম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। জুভেন্টাস, এসি মিলান, চেলসি, পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের কোচের দায়িত্ব পালন করে এই ইতালিয়ান হাজারে পা দিয়েছেন বায়ার্নের দায়িত্বে থেকে। এই উপলক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ছোটখাটো অনাড়ম্বর একটি অনুষ্ঠানও ছিল। উত্সবের আমেজে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম গোলটা আর্তুরো ভিদালের, এরপর লেভানদোস্কির জোড়া গোলে বিরতির আগেই স্কোরলাইন ৩-০। লেভানদোস্কির প্রথম গোলটি ম্যাচের ২৪ মিনিটে, পেনাল্টি থেকে। দ্বিতীয় গোল ৪২ মিনিটে। ৫৪ মিনিটে রবেনের অ্যাসিস্টে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই পোলিশ ফরোয়ার্ড, মিনিট দুই পরই ডেভিড আলবার গোল। এরপর ম্যাচের ৬৫ ও ৬৯ মিনিটে দুটি গোল কোম্যানের আর ৮৭ মিনিটে গোল করে ইতি টানেন রবেন। এমন জয়ে খুব  দারুণ খুশি আনচেলোত্তি,‘ নিখুঁত একটা দিন। নিখুঁত একটা ম্যাচ। দল দুর্দান্ত খেলেছে আর আমিও খুব খুশি। ’এফসি কোলনের সঙ্গে ৩-১ গোলে জিতেছে লিপজিগও, ফ্রেইবুর্গকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ডর্টমুন্ড।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির হয়ে ৩ গোল করেছেন তিন স্প্যানিয়ার্ড, এমনকি সোয়ানসির গোলটিও করেছেন একজন স্প্যানিশ! সেস্ক ফাব্রেগাস ম্যাচের ১৯তম মিনিটে গোল করে চেলসিকে এগিয়ে নেন, প্রথমার্ধের শেষ সময়ে গোল করে সোয়ানসিকে সমতায় ফেরান ফেনার্ন্দো লরেন্তে। ম্যাচের ৭২ মিনিটে পেদ্রো রদ্রিগেস ও ৮৪ মিনিটে ডিয়েগো কোস্তার গোলে স্কোরলাইন ৩-১ করে ফেলে চেলসি। শিরোপার দৌড়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে তারা ১১ পয়েন্ট এগিয়ে, যদিও চেলসি খেলেছে এক ম্যাচ বেশি। হ্যারি কেনের হ্যাটট্রিকে টটেনহাম ৪-০ গোলে হারিয়েছে স্টোক সিটিকে।

ইতালিয়ান সিরি ‘এ’তে  প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে জয়টা সহজে এসেছে জুভেন্টাসের। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর লুকাশ স্কোপুরস্কির আত্মঘাতী গোল এগিয়ে দেয় জুভেন্টাসকে, ৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সান্দ্রো। ইএসপিএনএফসি


মন্তব্য