kalerkantho


কোহলিদের পাশে টেন্ডুলকার-সৌরভ

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কোহলিদের পাশে টেন্ডুলকার-সৌরভ

আকাশেই উড়ছিল ভারত। টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকা সেই দলটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া।

নিজেদেরই মাঠে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে বিরাট কোহলিদের বিধ্বস্ত হতে দেখে হতাশা লুকাননি সাবেকরা। সুনীল গাভাস্কারের মতো কিংবদন্তিও মুষঢ়ে পড়েছেন রীতিমতো, ‘ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে খারাপতম হারগুলোর এটি একটি। এতটা খারাপ খেলার কথা কল্পনাও করেনি কেউ। ’

শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলির মতো কিংবদন্তিরাও হতবাক এমন হারে। তবে দলের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তাঁরা। একটি মাত্র টেস্টের ব্যর্থতাটাকে বড় করে না দেখে কোহলিদের হয়ে ব্যাট ধরলেন টেন্ডুলকার, ‘এই ভারতীয় দলকে যতটা চিনি তাতে বলতে পারি ওরা ঘুরে দাঁড়াবেই। অস্ট্রেলিয়াও খুব ভালোভাবে জানে সেটা। ’ পুনের প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানের হারে হতাশ হলেও এটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না টেন্ডুলকার, ‘খুবই কঠিন সিরিজ এটা। হার বা জয় খেলারই অংশ।

পুনের হারের অর্থ এই নয় যে ভারত সিরিজ হেরে গেছে। সিরিজ পুরোটা উন্মুক্ত। ভালো-মন্দ দুটোই জীবনের অংশ। গুরুত্বপূর্ণ হলো কে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, এটাই ক্রীড়াবিদদের জীবন। ’

সিরিজ শুরুর আগে সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছিলেন, ‘ভারত জিতবে ৪-০ ব্যবধানে। ’ এ নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। ঘূর্ণি উইকেট বুমেরাং হয়ে ফিরে এসে উল্টো প্রথম টেস্টে লজ্জা দিয়েছে কোহলিদের। তার পরও আশা ছাড়ছেন না সৌরভ, ‘৪-০ না হলেও এখনো ৩-১ হতেই পারে। অস্ট্রেলিয়ার দুই স্পিনার যে এত ভালো বল করবে বুঝতে পারিনি। পরের তিন টেস্টে ঘূর্ণি উইকেট বানাতে গেলেও সতর্ক থাকতে হবে এখন। ’ ১৬ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম টেস্টে হেরেও ঘুরে দাঁড়িয়ে সৌরভের নেতৃত্বে সিরিজ জিতেছিল ভারত। সেই দলটির সঙ্গে তুলনায় না গেলেও কোহলিদের সিরিজে ফেরা নিয়ে সংশয় নেই সৌরভের, ‘আমাদের তখনকার দলটা ছিল চ্যাম্পিয়নদের দল। কোহলিরা তৈরি হচ্ছে, এভাবে তুলনা টানা যায় না। নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডকে আমরা ঘূর্ণি উইকেটে হারিয়েছি। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এটুকু বলতে পারি আমাদের হয়তো বেশি আত্মবিশ্বাস এসে গিয়েছিল। কোহলির দুই ইনিংসে আউট বলছে কতটা চাপে ছিল ও। সতর্ক হয়ে নিজেদের সেরাটা খেললে ভারতই সিরিজ জিতবে। ’

সিরিজ শুরুর আগে হরভজন সিং বলেছিলেন, ‘ভারতে আসা অস্ট্রেলিয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল দল এটা। ’ সেই দলই ভারতকে দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে টিপ্পনী চলছে হরভজনকে ঘিরে। দমে না গিয়ে হরভজন অবশ্য দায় চাপাচ্ছেন পিচের ওপর, ‘টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিন হয় এমন উইকেটে খেলা উচিত। সেখানে নয় যেখানে কেউ বল করলেই উইকেট পায়। এ জন্য ও’কিফিকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আগে ওকে একটা ভালো টেস্ট উইকেটে বল তো করতে দেখি। ’

৭০ রানে ১২ উইকেট নেওয়া স্টিভ ও’কিফিকে অবশ্য সেরা একাদশেই দেখতে চাননি শেন ওয়ার্ন। বলেছিলেন, ‘ওকে দিয়ে স্পিন হবে না। ’ সর্বকালের সেরা এই লেগ স্পিনারকে তাই খোঁচা দিলেন ইংলিশ সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন, ‘প্রিয় শেন, তোমাকে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক করে দিলে খুব ভালো হতো। তাহলে পরের অ্যাশেজটা জিতে যেতাম!’ নিজেকে ভুল প্রমাণ হতে দেখেও অবশ্য খুশি ওয়ার্ন, ‘এই প্রথম নিজেকে ভুল প্রমাণ হতে দেখে ভালো লাগছে। ও’কিফি সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, এমন বল করার কথা স্বপ্নেও ভাবেনি। ১২ উইকেটের পরও বলব, ভয়ংকর স্পিন করায়নি ও’কিফি। পুনেতে ও শুধু ভয়ংকর স্পটটা খুঁজে বের করেছে, বাকিটা করে দিয়েছে উইকেট। এ ধরনের পিচে এটাই তো স্পিনারদের সুবিধা। ’ পিটিআই


মন্তব্য