kalerkantho


কোচের কোর্টে বল ঠেললেন মুশফিক

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কোচের কোর্টে বল ঠেললেন মুশফিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। অধিনায়ক হিসেবে বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সাজানোসহ মাঠের ভেতর-বাইরের নানা বিষয়ে বিস্তর কাজ।

সঙ্গে উইকেটকিপিংটাও করছেন। মুশফিকুর রহিমের ওপর চাপটা কি একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না?

বাংলাদেশ ক্রিকেটাঙ্গনের সদর-অন্দরে এ প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক দিন। তাঁর ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই কারো। মুদ্রার উল্টোপিঠে উইকেটকিপিং দক্ষতা নিয়ে যেমন শতেক প্রশ্ন। অধিনায়কত্বও কাঠগড়ায় দাঁড়ায় কখনো-সখনো। সব মিলিয়ে ব্যাটসম্যান মুশফিকের সেরাটা পাওয়ার জন্য অন্তত একটি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা রয়েছে বাতাসে। বিশেষত কিপিং গ্লাভস খুলে রাখার ব্যাপারে। ঠারেঠোরে এর পক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় দলের সর্বেসর্বা কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেরও একই মত।

কিন্তু মুশফিক অটল তাঁর আগের অবস্থানেই। কাল হালকাচালে এমনটাও বলে যান বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক, ‘আমার তো বোলিংও করতে ইচ্ছে করে!’

মজা করে বলা। তবে মুশফিকের সিরিয়াস ইচ্ছে একই সঙ্গে সব দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া। নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরের সর্বশেষ দুই টেস্ট সিরিজেই সেঞ্চুরি রয়েছে। তবে উইকেটের সামনের সেই কৃতিত্ব কিছুটা মলিন উইকেটের পেছনের ব্যর্থতায়। তবু নিজের কিপিংয়ের পক্ষে ঢাল নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন মুশফিক, ‘কিপিংয়ে ঠিকঠাক কাজ করার কথাটা তো মাথায় আছেই। এটা সব সময় থাকে। ১০০ করলেও মাথায় থাকে ২০০ করতে হবে। পৃথিবীতে এমন কোনো কিপার নেই যাদের ভুল হয় না। আমার দেখা সেরা কিপার সাহা (ঋদ্ধিমান)। আমি ওকে অনেক কিছুতে অনুসরণ করার চেষ্টা করি। সে-ও কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যাচ মিস করেছে। ’ একই ভুল ঋদ্ধিমান করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষেও। শ্রীলঙ্কা সফরের আগের সংবাদ সম্মেলনে সে উদাহরণও মনে করিয়ে দেন মুশফিক, ‘আমাদের বিপক্ষেও সাহা রিয়াদ ভাইয়ের (মাহমুদ উল্লাহ) ক্যাচ মিস করেছে। এখন রিয়াদ ভাই যদি টেস্টটা ড্র করে ফিরত, তখন ব্যাপারটা অন্য রকম হতো। যেটা আমাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ’ ভুলটা মেনে নিলেও চেষ্টার ত্রুটি থাকে না বলে দাবি করেন তিনি, ‘আমরা সব সময় সজাগ থাকি। তার পরও অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। যদিও আমাদের চেষ্টাটা একই রকম থাকে। সে জন্যই জাতীয় দলে আসা। ক্রিকেট আমাদের রুটি-রুজির উপায়। এখানে বেঈমানির কোনো সুযোগ নেই। আমরা সব সময় সব কিছু ঠিক রাখার চেষ্টা করি। তার পরও আমরা মানুষ, ভুল হয়ে যায়। হতেই পারে। ’

কিন্তু উইকেটের পেছনে একের পর এক ভুলে বোর্ড কিংবা কোচের আস্থার হাত মুশফিকের কিপিংয়ের ওপর থেকে উঠে যাওয়ার পথে। উইকেটরক্ষকের ভূমিকা নিজে উপভোগ করেন বলে জানিয়েছেন বারংবার। কাল আরেকবার তা জানিয়ে বল ঠেলে দেন বোর্ডের কোর্টে, ‘কিপিং আমি উপভোগ করি। আমার তো বোলিংও করতে ইচ্ছে করে। এতে যদি দলের উপকার হয়! কিন্তু আমি ইচ্ছে করলেই তো সব কিছু হবে না। কোচ আছে, ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ড আছে, তারা ডিসিশন নেবেন আমি কী করব। ’ অমন কোনো সিদ্ধান্তের বিপক্ষে যে দাঁড়াবেন না, অতীতের উদাহরণ টেনে তা-ও বুঝিয়ে দেন মুশফিক, ‘গত বছর যে এশিয়া কাপ হয়েছে সেখানে কিন্তু আমি কিপিং করিনি। শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই-তিনটি ম্যাচ খেলেছি। এটা কিন্তু ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ছিল। এখনো ম্যানেজমেন্টই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, কিপার এবং ব্যাটসম্যান হিসেবেই আমি দলের জন্য সবচেয়ে ভালো অবদান রাখতে পারি। তবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটাই পালন করব। বাকিটা টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর নির্ভর করছে। ’

আলোচনার আরেক জায়গা মুশফিকের ব্যাটিং অর্ডার। দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে ছয় নম্বরে খেলিয়ে তাঁর সামর্থ্যের পূর্ণ সদ্ব্যবহার বাংলাদেশ করতে পারছে কি না, এ প্রশ্নও উঠছে নিয়মিত। এখানেও অধিনায়ক মুশফিক আস্থাশীল টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর, ‘দলের কম্বিনেশন এখন খুব ভালো। আমি ওপরে ব্যাটিং করব কি না, সেটা ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। টপ অর্ডারে যারা আছে, তারা ভালো করছে না বলেই হয়তো এ কথা আসছে। ওপরে ব্যাটিং করব কি না, এ নিয়ে চিন্তা আছে। ভবিষ্যতে যদি সে রকম কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাহলে হয়তো হতে পারে। দলের স্বার্থে অমন কিছু করতে হলে আমি রাজি। ’

অধিনায়ক মুশফিকের মূলমন্ত্র এটিই—দলের স্বার্থ। নিজের কিপিং কিংবা ব্যাটিং অর্ডার—সব প্রশ্নের উত্তরে ঘুরেফিরে আসে তা। সত্যিকারের অধিনায়ক তো এমনই হন!


মন্তব্য