kalerkantho


বড় আশা নিয়ে শ্রীলঙ্কার পথে

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বড় আশা নিয়ে শ্রীলঙ্কার পথে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এখন বাংলাদেশ শিবির থেকে আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা গত ডিসেম্বরেই বলে গিয়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। তখন এসেছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলতে। দলটির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এসে হাসতে হাসতেই বলে গিয়েছিলেন যে বাংলাদেশের বিপক্ষে মার্চ-এপ্রিলের হোম সিরিজ নিয়ে খুব চিন্তায় আছেন তিনি! গত কয়েক বছরে যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির গ্রাফটা ঊর্ধ্বমুখী বেশ।

সেটিকেই মানদণ্ড ধরা সাঙ্গাকারাও এখন আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন না। বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্টে সেঞ্চুরি করাকে যিনি রীতিমতো নিয়মই বানিয়ে ফেলেছিলেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের সবশেষ টেস্টেই (২০১৪-র ফেব্রুয়ারিতে, চট্টগ্রামে) করেছিলেন ক্যারিয়ারের একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরি। ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একই টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরির পর করেছিলেন সেঞ্চুরিও। সেই তিনি তো বটেই, অবসরে গেছেন লঙ্কান ক্রিকেটের আরেক কীর্তিমান মাহেলা জয়াবর্ধনেও। আসছে দুই টেস্টের সিরিজে থাকছেন না নিয়মিত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজও। মুশফিকুর রহিমদের সামনে তাই আগের শ্রীলঙ্কা কিছুতেই আর থাকছে না। বরং নিজেদের রণসজ্জাই এবার আরো বেশি।

২০১৩ সালের সফরে গলে স্বাগতিকদের ৫৭০ রানের প্রথম ইনিংস টপকে যাওয়ার পথে মুশফিকের ব্যাটেই বাংলাদেশ দেখেছিল প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি। ওই সিরিজে বাংলাদেশ পায়নি সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে, যাঁরাও ইতিমধ্যেই ডাবল সেঞ্চুরিয়ানের খাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। সময়ে যাঁদের প্রত্যেকেই এখন আরো অভিজ্ঞ। ম্যাথুজ না থাকায় দুই দলের মধ্যে অভিজ্ঞতায়ও এগিয়ে বাংলাদেশ। এক রঙ্গনা হেরাথ ছাড়া আর কারোরই মুশফিক-সাকিব-তামিমের চেয়ে বেশি টেস্ট খেলা হয়নি। এটিকে তাই ধরা হচ্ছে লঙ্কানদের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতার সুযোগ হিসেবেই।

কিন্তু মুশফিক কী বলেন? গতকাল দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কও একমত হলেন, ‘সুযোগ তো অবশ্যই। অনেক দিন ধরে ভালো খেলেছেন, এমন কয়েকজন ক্রিকেটার এখন ওদের দলে নেই। নেই নিয়মিত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজও। আবার ওরাও জানে যে বাংলাদেশ অনেক দিন ধরেই ভালো ক্রিকেট খেলছে। কাজেই সব দিক বিবেচনা করলে অবশ্যই সুযোগ আছে। ’ আর নিজেদের খেলা দিয়ে গণমানুষের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলতে পারার জন্যও সন্তুষ্টি ঝরল মুশফিকের কণ্ঠে, ‘এটা সত্যি যে আমরা আমাদের ক্রিকেটের পর্যায়টা একটু ওপরে নিয়ে আসতে পেরেছি। ফলে প্রত্যাশা একটু একটু করে বাড়ছে। টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি যা-ই হোক না কেন, মানুষ মনে করে বাংলাদেশ যেকোনো দলের বিপক্ষে ভালো খেলে জিততে পারে। ’ জেতার জন্য তাঁর অস্ত্রের মজুদকেও বেশ ঈর্ষণীয়ই মনে হচ্ছে মুশফিকের, ‘সাকিব-মুস্তাফিজ-মিরাজ, এঁদের প্রত্যেকের দক্ষতার জায়গাটা একেক রকম। এরকম তিনজন আলাদা আলাদা দক্ষতার বোলার যখন একটি দলের হয়ে বোলিং করবে, তখন প্রতিপক্ষের জন্য সেটি চাপের ব্যাপারই হবে। এটা আমাদের দলের জন্য দারুণ ব্যাপার। ’

অবশ্য দক্ষতার প্রয়োগটা মাঠে সঠিকভাবে হওয়ার ব্যাপারও আছে। সে কথাও মনে করিয়ে দিতে ভুললেন না টেস্ট অধিনায়ক, ‘প্রত্যাশা থাকবে, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে সবাই যেন যার যার দক্ষতার সেরা ছন্দেই থাকতে পারে। আমাদের অবশ্যই সুযোগ আছে। কিন্তু আমরা কতটা সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, তার ওপরই নির্ভর করছে সব কিছু। নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলেই ফল অনুকূলে আসবে। ’ তবে সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের মতো ক্রিকেটাররা অবসরে চলে গেলেও রঙ্গনা হেরাথের মতো কেউ কেউ লঙ্কান দলে এখনো আছেন। যাঁর ঘূর্ণিজাদু অবলীলায় ম্যাচভাগ্য গড়ে দিতে সক্ষম। তাই বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনার একটি বড় অংশেরই দখল নিয়ে রেখেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার, ‘প্রতিটি দলেই কিছু ম্যাচ উইনিং বোলার-ব্যাটসম্যান থাকেন। এই শ্রীলঙ্কা দলে যেমন হেরাথ। তিনি পৃথিবীর সেরা বোলারদের একজন। অন্যান্য বোলারের মতো তাঁকে নিয়েও পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমি কিংবা আমাদের দলের যারা আগে ওনার বোলিং খেলেছে, সবারই মোটামুটি জানা আছে যে তাঁর বিপক্ষে কিভাবে খেলতে হবে। আমরা তাঁকে খুব বেশি উইকেট না দেওয়ার চেষ্টা করব। তিনি যদি বেশি উইকেট না পান, তাহলে স্কোরবোর্ডে আমরা অনেক বেশি রান জমা করতে পারব। ’ ৭ মার্চ থেকে গলে শুরু হচ্ছে প্রথম টেস্ট। ১৫ মার্চ থেকে কলম্বোর পি সারা ওভালে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে তো ভালো পারফরম্যান্সের চাহিদা আরো বেশি। কারণ সেটি যে হতে চলেছে বাংলাদেশের শততম টেস্ট। মুশফিকও জানিয়ে রাখলেন, তাঁদের পক্ষ থেকে সে চাহিদা পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টাই থাকবে, ‘শততম টেস্ট পুরো বাংলাদেশের জন্যই একটা বড় মাইলফলক। জাতির জন্য বড় এক উপলক্ষও। এই উপলক্ষকে সামনে রেখে আমরা এমন কিছু যেন করতে পারি, যা আমাদের দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাই করব আমরা। ’


মন্তব্য