kalerkantho


তিন দিনেই বিধ্বস্ত ভারত

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তিন দিনেই বিধ্বস্ত ভারত

‘অস্ট্রেলিয়ার এই দলে স্পিন খেলার ব্যাটসম্যান কোথায়?’— সৌরভ গাঙ্গুলির কথাটাই ফিরে এলো বুমেরাং হয়ে। ঘরের মাঠে ম্যাচ জেতার চেনা ছক সেই ঘূর্ণি উইকেটে উল্টো দিশেহারা বিরাট কোহলির দল। স্টিভ ও’কিফি, নাথান লিয়নের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত তিন দিনেই। পুনের প্রথম টেস্টে ভারত হারল ৩৩৩ রানে, যা ঘরের মাঠে রানের ব্যবধানে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হার। অস্ট্রেলিয়ার কাছেই ২০০৪-০৫ মৌসুমে নাগপুরে হেরেছিল সর্বোচ্চ ৩৪৫ রানে। প্রথম ইনিংসে ১০৫ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে বিখ্যাত ভারতীয় ব্যাটিং গুঁড়িয়ে গেছে ১০৭ রানে।   নিজেদের মাঠে এত কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জায় আর কখনই পড়েনি ভারত। দুই ইনিংসে সমান ৬টি করে উইকেট নিয়ে টানা ১৯ টেস্ট না হারা ভারতকে মাটিতে নামিয়েছেন স্টিভ ও’কিফি।

২০০৪ সালের পর ভারতের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া শুধু জিতলই না, রীতিমতো থেতলেও দিয়েছে কোহলির দলকে। অথচ সিরিজ শুরুর আগে কে ভেবেছিল এমন দুঃস্বপ্ন অপেক্ষা করছে ভারতের জন্য। টানা ১৯ টেস্টে অপরাজিত ছিল বিরাট কোহলির দল।

আর অস্ট্রেলিয়া এশিয়ায় হেরেছে টানা ৯ টেস্ট। শ্রীলঙ্কায় হয়েছিল হোয়াইটওয়াশ। এমন পরিসংখ্যান দেখে খোদ নস্ট্রাডামুস বেঁচে থাকলেও হয়তো ৩৩৩ রানের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করার সাহস পেতেন না।

অস্ট্রেলিয়ার ২৬০ রানের জবাবে ভারত প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল ১০৫ রানে। সর্বনাশটা হয়েছে আসলে ১১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে। জবাবে ৪ উইকেটে ১৪৩ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করে ম্যাচের লাগাম নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল স্টিভেন স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া লাঞ্চের আগে অলআউট হয় ২৮৫ রানে। স্মিথের ১০৯ রানের ইনিংসটি দেখে ধারাভাষ্য কক্ষে বসে শেন ওয়ার্ন বলছিলেন, ‘ঘূর্ণি পিচে আমার দেখা অন্যতম সেরা সেঞ্চুরি। পায়ের দুর্দান্ত ব্যবহারে ভারতীয় স্পিনারদের অকেজো করে ফেলেছিল ও। ’ এটা স্মিথের ১৮তম টেস্ট সেঞ্চুরি, যা ভারতের বিপক্ষে টানা পঞ্চম আর ভারতের মাটিতে প্রথম। টেস্ট ব্যাটিং র্যাংকিংয়ে কেন শীর্ষে আছেন স্মিথ, এই ইনিংসই সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

ভারতের সামনে ৪৪১ রানের লক্ষ্য দেখে সুনীল গাভাস্কার বলছিলেন, ‘৩০০ থেকে ৩৫০ রান করাটাই কৃতিত্বের হবে। ’ এমন পিচে চতুর্থ ইনিংসে ৩৫০ যে পাহাড় সমান, স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেন ওয়ার্নের টিপ্পনী, ‘শুভকামনা রইল। ’ দুই ওপেনার মুরালি বিজয় (২) ও লোকেশ রাহুলের (১০) ১৬ রানের মধ্যে বিদায়েই দুঃস্বপ্নের শুরু ভারতের। এলবিডাব্লিউ হয়েছেন দুজনই, সেই সঙ্গে নষ্ট করেছেন দুটি রিভিউও। ভারতের আশা-ভরসার প্রতীক তখন বিরাট কোহলি। কিন্তু টানা চার টেস্ট সিরিজে ডাবল সেঞ্চুরি করা ভারতীয় অধিনায়কও আউট হলেন দৃষ্টিকটুভাবে।   বাঁহাতি স্পিনার ও’কিফির বল বাইরে যাবে ভেবে ছেড়ে দিলেও সেটা নাড়িয়ে দেয় কোহলির অফস্টাম্প। ১৩ রানে তিনি বোল্ড হওয়ার পর ভারতের হারটা হয়ে পড়ে সময়ের অপেক্ষা। প্রথম ইনিংসের মতো ঠিক ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে চা বিরতির পরপরই ভারতকে ১০৭ রানে গুটিয়ে দেন ও’কিফি। ৭০ রানে ১২ উইকেট ভারতের মাটিতে কোনো সফরকারী দলের স্পিনারের সেরা পারফরম্যান্স। ২০০৮ সালে নাগপুরে অস্ট্রেলিয়ারই জেসন ক্রেজার ৩৫৮ রানে ১২ উইকেটই ছিল এত দিনের সেরা।

ও’কিফির ৬ উইকেটের পর ভারতের লেজটা ছেঁটে দেন নাথান লিয়ন। শুরুতে লোকেশ রাহুলকে এলবিডাব্লিউ করা এই অফস্পিনার শেষ দিকে ফেরান রবীন্দ্র জাদেজা (৩), জয়ন্ত যাদব (৫) ও ইশান্ত শর্মাকে (০)। তাতে ২০১২ সালের পর আর টানা ২০ ম্যাচ শেষে প্রথমবার দেশের মাটিতে টেস্ট হারল ভারত। বেঙ্গালুরুতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ৪ মার্চ। এর আগে ও’কিফি, নাথান লিয়নদের ঘূর্ণি সামলানোর কৌশল খুঁজে বের করতে চান কোহলি, ‘আমরা দাঁড়াতেই পারিনি। গত দুই বছরে দলের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং এটাই। এখন দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে কেন হলো এমনটা। ’ স্টিভেন স্মিথ কৃতিত্ব দিচ্ছেন পুরো দলকে, ‘কঠোর পরিশ্রমেরই ফল এটা। ৪৫০২ দিন পর ভারতের মাটিতে টেস্ট জেতায় আমি দলের জন্য গর্বিত। টস জেতাটা বোনাস ছিল এই টেস্টে। ’ ক্রিকইনফো

অস্ট্রেলিয়া : ২৬০ ও ৮৭ ওভারে ২৮৫ (স্মিথ ১০৯, রেনশ ৩১, মার্শ ৩১, স্টার্ক ৩০; অশ্বিন ৪/১১৯, জাদেজা ৩/৬৫)।

ভারত : ১০৫ ও ৩৩.৫ ওভারে ১০৭ (পূজারা ৩১, রাহানে ১৮, কোহলি ১৩, রাহুল ১০; ও’কিফি ৬/৩৫, লিয়ন ৪/৫৩)।

ফল : অস্ট্রেলিয়া ৩৩৩ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : স্টিভ ও’কিফি।


মন্তব্য