kalerkantho


আরো কার্যকর হওয়ার চেষ্টায় মুস্তাফিজ

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আরো কার্যকর হওয়ার চেষ্টায় মুস্তাফিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবির্ভাবের পর থেকে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও তাঁকে লম্বা সময় ধরেই পাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। কিন্তু ইনজুরির ঝাপটায় মুস্তাফিজুর রহমানের টেস্ট ক্যারিয়ার থেমে আছে মাত্র দুই ম্যাচেই। সেই কবে ২০১৫ সালের জুলাই-আগস্টে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজই হয়ে আছে ‘কাটার মাস্টার’-এর প্রথম এবং এখন পর্যন্ত শেষ সিরিজ। আসছে শ্রীলঙ্কা সফরেই আবার সচল হচ্ছে তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার। এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের উপযোগিতা দীর্ঘ মেয়াদি করার চেষ্টায়ই নিমগ্ন থেকেছেন তরুণ এই ফাস্ট বোলার।

নিজেকে আরো কার্যকর করে তোলার অনুশীলনটা তিনি সেরে নিয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও (বিসিএল)। নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্টের সময় দলের সঙ্গে থাকলেও তাঁকে খেলানো হয়নি চোটের অভিযোগ করায়। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য প্রস্তুত করে তোলার স্বার্থে তাঁকে একমাত্র টেস্ট খেলতে ভারতে না পাঠিয়ে পাঠানো হয়েছিল বিসিএল খেলতে। সেখানে কোনো সমস্যা ছাড়াই দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলেছেন। সেই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফর সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের চিন্তামুক্তির অনেক রসদও ছিল। বিশেষ করে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ভালো কিছু করার স্বপ্নটা আরো চকমকিয়ে উঠতেই পারে।

বিসিএলে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে বোলিং করেছিলেন ১৭ ওভার। মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে পরের ম্যাচে বোলিং করেছেন আগের ম্যাচের প্রায় দ্বিগুণ, দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩১ ওভার। পূর্বাঞ্চলের ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৯ ওভারে ১টি মেডেনসহ ৩২ রান খরচায় নিয়েছিলেন ২ উইকেট (ইকোনমি ৩.৫৫)। পরের ইনিংসে উইকেটশূন্য মুস্তাফিজ, ৮ ওভারে ১টি মেডেনসহ রান দিয়েছিলেন ২৩ (ইকোনমি ২.৮৮)। মধ্যাঞ্চলের সঙ্গে বোলিং বাড়িয়ে ছন্দ আরো ফিরে পাওয়া এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলার ১.৮৮ ইকোনমিতে ১৮ ওভারে ৭টি মেডেনসহ ৩৪ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে আরো মিতব্যয়ী বোলিং তাঁর, ১৩ ওভারে ৬টি মেডেনসহ ১৩ রানে ১ উইকেট! ম্যাচে ৩০ ওভারের বেশি মুস্তাফিজকে স্বাচ্ছন্দ্যেই কার্যকর বোলিং করতে দেখাটা বাংলাদেশ দলসংশ্লিষ্ট যে কারো জন্যই ছিল ভীষণ স্বস্তিদায়ক ব্যাপার। অবশ্য বিসিএলের ম্যাচে ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টাই শুধু করেননি মুস্তাফিজ, নিজের বোলিং ভাঁড়ার আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টাও করেছেন। কারণ লম্বা দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলতে নেমে তাঁর মনে হয়েছে, এখানে তাঁর ট্রেডমার্ক অস্ত্রটা খুব কার্যকর নয়। তাই কার্যকারিতা আরো বাড়ানোর জন্য অন্যদিকেও মনোযোগী হয়েছেন, ‘বিসিএলে দুটি ম্যাচ খেললাম, ওখানে জোরে বল করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি চেষ্টা করেছি সুইং করানোরও। আমার কাটার কিংবা স্লোয়ার চার দিনের ম্যাচে অতটা কার্যকরী কিছু হয় না। তবে ভালো জায়গায় ধারাবাহিক ছন্দে বোলিং করার চেষ্টা করেছি। ’

কাউন্টি দল সাসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে কাঁধের চোটে পড়া মুস্তাফিজ ইংল্যান্ডেই অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে ফিরে ছন্দ নিয়েই ছিলেন সমস্যায়। নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তেমন একটা কার্যকর ছিলেন না। তাঁর জন্য ছন্দে থাকাটাও কম উদ্বেগের ছিল না। গতকাল বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে এসে সেই উদ্বেগ কেটে যাওয়ার স্বস্তিও যেন খেলে গেল মুস্তাফিজের কণ্ঠে, ‘অনেক দিন বাইরে ছিলাম। চোটের পর নিউজিল্যান্ড সফরে থাকলেও টেস্ট খেলতে পারিনি। আর ইনজুরির পরে খেলার অভ্যাসও ছিল না। ভারতেও আমি যেতে পারিনি। তবে বিসিএলের দুটি ম্যাচ খেলায় আমার জন্য খুব ভালো হয়েছে। ’

যা টেস্ট প্রত্যাবর্তনের আগে তাঁর জন্য জমাট প্রস্তুতির সুযোগই নিয়ে এসেছিল। যে সুযোগ কাজে লাগানো এই ফাস্ট বোলারের এমনিতেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব বেশি বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলা হয় না। তার ওপর দুই টেস্টের ক্যারিয়ার হলেও সেটি আসলে এক টেস্টের বলাই ভালো। ২০১৫ সালের জুলাইতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেকেই ম্যাচসেরা হওয়া এই তরুণকে যে ঢাকায় বৃষ্টিবিঘ্নিত পরের টেস্টে বল করতে হয়নি একটিও! চট্টগ্রামে হাশিম আমলাকে উইকেটের পেছনে লিটন কুমার দাশের ক্যাচ বানিয়ে টেস্টে শিকার শুরু তাঁর। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে ৪ উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ যখন আবার টেস্টের জগতে ফিরতে চলেছেন, তখন আরো কার্যকর হয়েই ফেরার চিন্তা তাঁর।


মন্তব্য